কাপ্তাই হ্রদে একদিনে ১৬০ টন মাছ অবতরণ

কাপ্তাই হ্রদে একদিনে ১৬০ টন মাছ অবতরণ

রাঙ্গামাটি প্রতিনিধি ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

প্রকাশিত: ১২:০৫ ১৯ আগস্ট ২০২২   আপডেট: ১২:১৬ ১৯ আগস্ট ২০২২

প্রাণচাঞ্চল্য কাপ্তাই হ্রদ

প্রাণচাঞ্চল্য কাপ্তাই হ্রদ

নিষেধাজ্ঞা শেষে মাছ আহরণ শুরু হওয়ায় কাপ্তাই হ্রদে প্রাণচাঞ্চল্য ফিরেছে। জেলে, ব্যবসায়ী ও সংশ্লিষ্টরা কর্মব্যস্ত হয়ে পড়েছেন। একদিনে অবতরণ করা হয়েছে রের্কড পরিমাণ মাছ।

বৃহস্পতিবার আহরণের প্রথম দিনেই কাপ্তাই হ্রদ থেকে আনুমানিক ১৬০ টন বিভিন্ন প্রজাতির মাছ অবতরণ করা হয়েছে। অবতরণকৃত মাছ থেকে ৩৫ লাখ টাকা রাজস্ব আদায়ের কথা জানিয়েছে বাংলাদেশ মৎস্য উন্নয়ন কর্পোরেশন (বিএফডিসি)। 

জেলে ও ব্যবসায়ীরা জানান, কাপ্তাই হ্রদে পানিস্বল্পতার কারণে জেলেদের জালে বেশি মাছ ধরা পড়ছে।

সরেজমিনে বিএফডিসি রাঙ্গামাটি অবতরণ ঘাটে গিয়ে দেখা যায়, সকাল থেকেই ইঞ্জিনচালিত নৌকায় করে বিভিন্ন এলাকা থেকে মাছ নিয়ে আসেন জেলেরা। এ সময় ব্যবসায়ীরা জেলেদের কাছ থেকে বিএফডিসির পন্টুনে মাছগুলো সংগ্রহ করেন। পরে পরিমাপ করে সরকারি রাজস্ব দিয়ে বাজারজাতের উদ্দেশ্যে পরিবহন করেন তার। ট্রাক ও বিভিন্ন পণ্যবাহী পরিবহনে করে এসব মাছ চলে যাচ্ছে দেশের বিভিন্ন স্থানে।

বিএফডিসি রাঙ্গামাটি কার্যালয়ের তথ্যমতে, বৃহস্পতিবার ভোর ৬টা থেকে রাঙ্গামাটির প্রধানকেন্দ্র, মারিশ্যা, মহালছড়ি ও কাপ্তাই উপকেন্দ্রের পন্টুনে মাছ অবতরণ শুরু হয়। প্রথম দিনে চারটি অবতরণকেন্দ্র মিলে আনুমানিক ১৬০ টন মাছ অবতরণ করা হয়েছে। যার বিপরীতে ৩৫ লাখ টাকা রাজস্ব আদায় হতে পারে। এদিকে, মাছ বাজারজাত শুরু হওয়ায় চালু হয়েছে বিএফডিসিসহ স্থানীয় বরফকলগুলো। বুধবার থেকেই উৎপাদন শুরু হয়েছে বরফ কলগুলোয়।

বিএফডিসি ঘাটে কর্মরত কয়েকজন শ্রমিক বলেন, প্রায় চার মাস পর আমরা কাজে ফিরেছি। এটি আমাদের জন্য অবশ্যই স্বস্তির। মাছ ধরা বন্ধ থাকলে আমরাও বেকার হয়ে যাই। জেলেরা ভিজিএফ বরাদ্দ পেলেও আমরা সবসময় বঞ্চিত হয়েছি।

এক ব্যবসায়ী জানান, প্রতি বছরই শুরুর দিকে অনেক মাছ পাওয়া যায়, এবারও তাই হয়েছে। প্রথম দিনে বেশি চাপ থাকে। তবে এ বছরও হ্রদের পানি কম থাকায় ছোট প্রজাতির মাছ বেশি ধরা পড়ছে।

মৎস্য ব্যবসায়ী উদয়ন বড়ুয়া জানান, জেলেদের সংগ্রহ করা মাছগুলো যাবতীয় প্রক্রিয়া শেষে ঢাকায় পাঠিয়েছি। মাছ বিক্রি হলে বোঝা যাবে ব্যবসার পরিস্থিতি কেমন। তবে মাছের আকার অনেক ছোট।

বিএফডিসি রাঙ্গামাটি বিপণনকেন্দ্রের বাজারজাত কর্মকর্তা মো. শোয়েব সালেহীন জানান, এ পর্যন্ত ১৬০ টন অবতরণকৃত মাছ থেকে ৩৫ লাখ টাকা রাজস্ব আদায় হতে পারে। প্রথম দিন হওয়ায় মাছ আহরণ বেশি হওয়ায় অবতরণও বেড়েছে।

প্রসঙ্গত, প্রতি বছরের ১ মে-৩১ জুলাই পর্যন্ত তিন মাস রাঙ্গামাটির কাপ্তাই হ্রদে কার্পজাতীয় মাছের সুষম বৃদ্ধি, হ্রদে মাছের প্রাকৃতিক প্রজনন নিশ্চিতসহ অন্যান্য জীববৈচিত্র্য রক্ষায় হ্রদে মাছ ধরা বন্ধ থাকে। এ বছর হ্রদে পানি স্বল্পতার কারণে ১৭ আগস্ট পর্যন্ত মাছ ধরা বন্ধ ছিল।

ডেইলি বাংলাদেশ/এসআরএস