কলেজ স্থাপনে ১০০ শতাংশ জমি দিলেন রিকশাচালক

কলেজ স্থাপনে ১০০ শতাংশ জমি দিলেন রিকশাচালক

নোয়াখালী প্রতিনিধি  ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

প্রকাশিত: ১৬:৫৯ ৫ আগস্ট ২০২২  

ছৈয়দ আহম্মদ-ফাইল ফটো

ছৈয়দ আহম্মদ-ফাইল ফটো

নোয়াখালীর সুবর্ণচরে কলেজ স্থাপনের জন্য ১০০ শতাংশ জমি দিলেন ছৈয়দ আহম্মদ নামে এক ব্যক্তি। তিনি উপজেলার চর ওয়াপদা ইউনিয়নের মৃত আলী আহম্মদের ছেলে এবং পেশায় একজন রিকশাচালক ছিলেন।  

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ছৈয়দ আহম্মদ  প্রায় ৩৮-৩৯ বছর ধরে প্যাডেল রিকশা চালাতেন। তার তিন ছেলে ও চার মেয়ে। এক ছেলে প্রবাসে থাকেন। একজন ব্যবসা করেন। অন্যজন বর্তমানে বাড়িতে রয়েছে। পরিবার প্রতিষ্ঠিত হওয়ার পর গত ১৫ বছর আগে তিনি রিকশা চালানো বন্ধ করে দেন।

জানা যায়, গত প্রায় ৪০ বছর ধরে উপজেলার মোহাম্মদপুর ইউনিয়নের চরলক্ষী গ্রামে একটি বাড়িতে থাকতেন। রিকশা চালানোর উপার্জন দিয়ে ক্রয় করেন জমি। বিভিন্ন অভাব অনটনের মধ্যে দিয়ে জীবনযাপন করলেও বর্তমানে চর ওয়াপদা ইউনিয়নে স্থায়ীভাবে তার ক্রয়কৃত জমিতে বসবাস করছেন তিনি। এ সমাজে একাধিক বিত্তবান পরিবার থাকলেও কলেজ স্থাপনের জন্য কেউ জমি দিতে রাজি হয়নি। তিনি স্বেচ্ছায় এ জমি দান করে সমাজে একটি বড় আলোড়ন সৃষ্টি করেছে। তিনি কলেজ স্থাপনের জন্য যে জমিটি দিয়েছেন তার বর্তমান মূল্য প্রায় ৪৫-৫০ লাখ টাকা হবে।

স্থানীয় বাসিন্দা মো. আরিজ খান জানান, গত মাসের ২৯ জুলাই এলাকার কিছু সচেতন শিক্ষিত যুবকদের উদ্যোগে এ এলাকায় কলেজ স্থাপনের জন্য একটি আলোচনা সভার আয়োজন করা হয়। কিন্তু সভায় জমি দেওয়ার মতো কাউকে পাওয়া যায়নি। ঠিক তখনি মাইকের আওয়াজ শুনে ছৈয়দ আহম্মদ মিয়া কলেজের জন্য জমি দিতে ছুটে আসেন। তবে তিনি ওই আলোচনা সভার কোনো অতিথিও ছিলেন না। তার এমন আগ্রহ দেখে সভার অতিথিসহ সবাই মুগ্ধ।

জমির দাতা ছৈয়দ আহম্মদ জানান, আমি পরিশ্রম করে যেভাবে ছোট থেকে বড় হয়েছি। কষ্ট গুলো আমার এখনও মনে পড়ে। দৈনিক রিকশা চালিয়ে টাকা উপার্জন করে তা থেকে জমিয়ে আমি এ জমি ক্রয় করি। এখানে কলেজ স্থাপনের পর সুশিক্ষার আলো ছড়িয়ে পড়বে সমাজে। আমি এ জমি কলেজ স্থাপনের জন্য দিতে পেরে খুবই খুশি অনুভব করছি।

গত শুক্রবার (২৯ জুলাই) বিকালে উপজেলার চর ওয়াপদা ইউনিয়নে থানারহাট বাজার এলাকায় একটি কলেজ প্রতিষ্ঠার জন্য মুজিব চত্বর সংলগ্ন এলাকায় এক মতবিনিময় সভা হয়। ঐ সভায় ছৈয়দ আহম্মদ এ জমি দানের জন্য ঘোষাণা দেন।

ডেইলি বাংলাদেশ/জেএইচ