একই কারাগারে প্রদীপ-চুমকি, তবে হচ্ছে না দেখা

একই কারাগারে প্রদীপ-চুমকি, তবে হচ্ছে না দেখা

চট্টগ্রাম প্রতিনিধি ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

প্রকাশিত: ০১:০০ ২৪ মে ২০২২   আপডেট: ০১:০১ ২৪ মে ২০২২

প্রদীপের পর আত্মসমর্পণের মধ্য দিয়ে চুমকিও অবস্থান করছেন চট্টগ্রাম কেন্দ্রীয় কারাগারে

প্রদীপের পর আত্মসমর্পণের মধ্য দিয়ে চুমকিও অবস্থান করছেন চট্টগ্রাম কেন্দ্রীয় কারাগারে

এক বছর ৯ মাস পর স্ত্রী চুমকি কারণের দেখা পেয়েছেন অবসরপ্রাপ্ত মেজর সিনহা মোহাম্মদ রাশেদ খান হত্যা মামলায় মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত কক্সবাজারের টেকনাফ থানার বরখাস্ত হওয়া ওসি প্রদীপ কুমার দাশ। সোমবার চট্টগ্রাম বিভাগীয় বিশেষ জজ মুন্সী আবদুল মজিদের আদালতের এজলাস কক্ষে দেখা হয় তাদের।

এ দিন দুদকের করা অবৈধ সম্পদ অর্জনের মামলায় আদালতে আত্মসমর্পণ করে জামিনের আবেদন করেন চুমকি। পরে আবেদন নামঞ্জুর করে তাকে কারাগারে পাঠায় আদালত।

একইদিন এ মামলায় তাদের বিরুদ্ধে সাক্ষ্যগ্রহণ শেষ হয়। শেষদিনে সাক্ষ্য দেন মামলার তদন্ত কর্মকর্তা মোহাম্মদ রিয়াজ উদ্দিন। আগামী ২৯ মে আসামিপক্ষ থেকে তাকে জেরা করার কথা রয়েছে। 

দুদকের আইনজীবী মাহমুদুল হক বলেন, অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগে দুদকের মামলার পর থেকেই পলাতক ছিলেন চুমকি কারণ। সোমবার তিনি আদালতে আত্মসমর্পণ করে জামিনের আবেদন করলে তা নামঞ্জুর করে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন বিচারক।

প্রদীপের পর আত্মসমর্পণের মধ্য দিয়ে চুমকিও অবস্থান করছেন চট্টগ্রাম কেন্দ্রীয় কারাগারে। তবে একই কারাগারে থাকলেও তাদের মধ্যে দেখা কিংবা কথা বলার সুযোগ নেই বলে জানিয়েছে কারা কর্তৃপক্ষ।

চট্টগ্রাম কেন্দ্রীয় কারাগারের জেলার দেওয়ান মোহাম্মদ তারিকুল ইসলাম বলেন, প্রদীপ কুমার দাশ ফাঁসির দণ্ডপ্রাপ্ত আসামি হওয়ায় তাকে কারাগারের ৩২ নম্বর সেলে রাখা হয়েছে। আর চুমকি কারণ থাকবেন কারাগারের নারী ওয়ার্ডে। প্রথম সাত দিন তাকে কারাগারের কোয়ারেন্টিনে রাখা হবে। সেখান থেকে সাত দিন পর নারী ওয়ার্ডে পাঠানো হবে। তবে স্বামী-স্ত্রী দুজনই একই কারাগারে থাকলেও তাদের দেখা কিংবা কথা বলার সুযোগ নেই।

মামলার বাদী ও তদন্ত কর্মকর্তা দুদক জেলা সমন্বিত কার্যালয় চট্টগ্রাম-২ এর তৎকালীন সহকারী পরিচালক মোহাম্মদ রিয়াজ উদ্দিন বলেন, মামলার পর থেকেই পলাতক ছিলেন চুমকি কারণ। তাকে গ্রেফতারে একাধিকবার চেষ্টা চালিয়েও ব্যর্থ হয়েছি। তবে এখন তাকে জিজ্ঞাসাবাদের সুযোগ নেই। কারণ এখন মামলার বিচারকাজ চলছে।

এদিকে, দীর্ঘ সময় আত্মগোপনে থাকার পর প্রকাশ্যে আসায় ‘এতদিন কোথায় ছিলেন চুমকি’ এমনই প্রশ্ন ঘুরপাক খাচ্ছে সর্বমহলে।

কারো কারো মতে, চট্টগ্রামেই কোথাও লুকিয়ে ছিলেন চুমকি। তবে বিভিন্ন তথ্যমতে- সীমান্ত পেরিয়ে ভারতে চলে গিয়েছিলেন তিনি। ভারতের আগরতলা, কলকাতার বারাসাত ও গৌহাটিতে রয়েছে প্রদীপ-চুমকি দম্পতির নিজস্ব বাড়ি। লক্ষ্মীকুঞ্জ ফাঁকা করে সেখানেই পাড়ি জমান তিনি।

পলাতক থাকা অবস্থায় চুমকির অবস্থান সম্পর্কে জানতে চাইলে তার বাবা অজিত কুমার কারণ বলেছিলেন, মেয়ে কোথায় আছে সে ব্যাপারে আমি কিছুই জানি না। চুমকির ব্যবহৃত মুঠোফোন নম্বরও জানেন না বলে দাবি করেছিলেন তিনি। 

সোমবার চুমকির আত্মসমর্পণের পর বাবা অজিত কুমার কারণের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও সম্ভব হয়নি। 

অন্যদিকে, পলাতক চুমকির অবস্থান সম্পর্কে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ভাষ্য ছিল- চুমকি যাতে দেশ ছেড়ে পালাতে না পারেন, সে বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে ২০২০ সালের সেপ্টেম্বরে পুলিশ সদর দফতরে চিঠি দেয় দুদক। এর বাইরে আর কোনো তথ্য জানাতে পারেনি আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। ফলে আত্মসমর্পণের পরও প্রশ্ন রয়ে গেছে- এতদিন কোথায় ছিলেন চুমকি।

২০২০ সালের ২৩ আগস্ট অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগে প্রদীপ ও চুমকির বিরুদ্ধে মামলাটি করেন দুদক কর্মকর্তা রিয়াজ উদ্দিন। পরে গত বছরের ২৬ জুলাই আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করেন। এতে প্রদীপ ও চুমকির বিরুদ্ধে তিন কোটি ৯৫ লাখ পাঁচ হাজার ৬৩৫ টাকার জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জন, সম্পদের তথ্য গোপন ও মানি লন্ডারিংয়ের অভিযোগ আনা হয়।

একই বছরের ১ সেপ্টেম্বর অভিযোগপত্রের ওপর শুনানি হয়। ২০ সেপ্টেম্বর মামলার তদন্ত কর্মকর্তা রিয়াজ উদ্দিনের করা আবেদনের প্রেক্ষিতে মামলার এজাহারে উল্লিখিত সম্পত্তি ক্রোকের নির্দেশ দেয় আদালত। ১৫ ডিসেম্বর এ মামলায় তাদের বিরুদ্ধে চার্জ গঠন হয়।

এর আগে, প্রদীপের বিরুদ্ধে জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জনের অভিযোগ ওঠায় ২০১৮ সালের জুন মাসে অনুসন্ধান শুরু করেছিল দুদক। প্রাথমিক অনুসন্ধানে প্রদীপ ও চুমকির নামে অস্বাভাবিক সম্পদের তথ্যও পান দুদক কর্মকর্তারা। এরপর সম্পদ বিবরণী দাখিলের জন্য বলা হলে একই বছরের মে মাসে দুদকে বিবরণী জমা দেন তারা।

দুদকের দেয়া অভিযোগপত্রে বলা হয়, নগরীর পাথরঘাটায় ছয়তলা বাড়ি, পাঁচলাইশে বাড়ি, ৪৫ ভরি সোনা, একটি ব্যক্তিগত গাড়ি, একটি মাইক্রোবাস, ব্যাংক হিসাব এবং কক্সবাজারে একটি ফ্ল্যাট রয়েছে চুমকির নামে। তার চার কোটি ৮০ লাখ ৬৪ হাজার ৬৫১ টাকার স্থাবর-অস্থাবর সম্পদের বিপরীতে বৈধ ও গ্রহণযোগ্য আয় পাওয়া যায় দুই কোটি ৪৪ লাখ ৬৬ হাজার ২৩৪ টাকা। এক্ষেত্রে দুই কোটি ৩৫ লাখ ৯৮ হাজার ৪১৭ টাকার অবৈধ সম্পদ অর্জনের প্রমাণ পায় দুদক। এছাড়া চুমকি নিজেকে মৎস্য ব্যবসায়ী দাবি করলেও এ ব্যবসায়ের কোনো অস্তিত্ব পাওয়া যায়নি।

পাথরঘাটার ছয়তলা বাড়ির বিষয়ে চুমকি সে সময় দুদককে জানান, ২০১৩ সালে বাড়িটি তার বাবা তাকে দান করেন। যদিও চুমকির অন্যান্য ভাই ও বোনদের তার বাবা কোনো সম্পত্তি দান করেননি। অনুসন্ধানে জানা যায়, ২০০৬ সালে শ্বশুরের নামে বাড়ির জমি কেনেন প্রদীপ। এরপর ছয়তলা বহুতল ভবন গড়ে তোলেন।

ডেইলি বাংলাদেশ/জেএইচ


Bulletপ্রথম আট ঘণ্টায় ১৫ হাজার ২০০ গাড়ি চলাচল, টোল আদায় ৮২ লাখের বেশি Bulletপদ্মাসেতুতে হাঁটা-ছবি তোলায় নিষেধাজ্ঞা জারি Bulletবিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তিতে হচ্ছে ডোপ টেস্ট আইন: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী Bulletকমলো সয়াবিন তেলের দাম Bulletদেশে করোনায় আরো দুইজনের মৃত্যু, শনাক্তের হার ১৫.৬৬ Bulletপদ্মাসেতুতে যানবাহন থামানো, হাঁটাহাঁটি ও ছবি তোলায় নিষেধাজ্ঞা জারি Bulletদেশকে সমৃদ্ধির পথে নিয়ে যেতে তৈরি হও: নতুন প্রজন্মের প্রতি প্রধানমন্ত্রী Bulletদুই-একদিনের মধ্যে ভোজ্যতেলের দাম কমবে: বাণিজ্যসচিব Bulletপদ্মাসেতু নিয়ে ষড়যন্ত্র: জড়িতদের খুঁজতে রুল শুনবেন হাইকোর্ট Bulletপদ্মাসেতুতে যান চলাচল শুরু Bullet‘বয়ফ্রেন্ড লুপহোল’ বন্ধ রেখে বন্দুক নিয়ন্ত্রণ বিলে সই বাইডেনের Bulletদেশে করোনায় গত ২৪ ঘণ্টায় ৩ মৃত্যু, শনাক্ত ১২৮০ Bulletহজ পালনে সৌদিতে ৩৮৮৮৯ বাংলাদেশি