আলমারিতে ২ হাজার টাকা, সেখানেই নজর ছিল লাবণ্য’র

আলমারিতে ২ হাজার টাকা, সেখানেই নজর ছিল লাবণ্য’র

বরিশাল প্রতিনিধি ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

প্রকাশিত: ১৬:১৪ ১৩ মে ২০২২  

সন্তান কোলে গৃহবধূ লাবণ্য আক্তার- ছবি: ডেইলি বাংলাদেশ

সন্তান কোলে গৃহবধূ লাবণ্য আক্তার- ছবি: ডেইলি বাংলাদেশ

শাশুড়ি নাজনীন বেগমের আলমারিতে রাখা ২ হাজার টাকার প্রতি নজর ছিল গৃহবধূ লাবণ্য আক্তারের। সেই টাকা না পেয়েই শাশুড়িকে গলা কেটে হত্যা করেন তিনি। এ ঘটনায় স্বামীর করা মামলায় দেড় বছরের সন্তানসহ লাবণ্যকে কারাগারে পাঠিয়েছে আদালত।

আলমিরার চাবি নিতে না পেরে শাশুড়িকে হত্যা করেছেন বলে বৃহস্পতিবার বিকেলে আদালতে জবানবন্দি দিয়েছেন লাবণ্য।

বাকেরগঞ্জ থানার পরিদর্শক (তদন্ত) সত্য রঞ্জন জানান, তিন বছর আগে ঝালকাঠির নলছিটি উপজেলার কুশঙ্গাল গ্রামের মো. খলিল হাওলাদারের মেয়ে লাবণ্য আক্তার ও বাকেরগঞ্জের রঙ্গশ্রী গ্রামের উজ্জ্বলের বিয়ে হয়। বিয়ের পর থেকেই তাদের দাম্পত্য জীবনে কলহ লেগে ছিল। এক পর্যায়ে জীবিকার তাগিদে উজ্জ্বল চাকরি নিয়ে ঢাকায় চলে যান। ৬ মাস-১ বছর পর তিনি বাড়িতে আসতেন। লাবণ্য স্বামীর সঙ্গে ঢাকায় থাকার কথা বলতেন কিন্তু উজ্জ্বল তাকে নিয়ে যেতে অস্বীকৃতি জানান। এমনকি দেড় বছরের শিশুর দুধ এবং খরচের টাকাও দিতেন না তিনি। এসব বিষয় নিয়ে স্বামী-শাশুড়ির সঙ্গে কলহ লেগেই থাকতো লাবণ্যর।

পরিদর্শক সত্য রঞ্জন আরো জানান, ঈদ উপলক্ষে গ্রামের বাড়িতে আসেন উজ্জ্বল। গত ৮ মে পুরোনো বিষয় নিয়ে স্ত্রীর সঙ্গে ঝগড়া হয় তার। এতে অভিমানে শিশু সন্তানকে নিয়ে বাবার বাড়িতে চলে যান লাবণ্য। ১০ মে ঢাকায় চলে যান উজ্জ্বল। এরপর থেকেই স্ত্রীর সঙ্গে যোগাযোগ বন্ধ তার। বারবার মোবাইলে-ফেসবুকে কল-মেসেজ দিয়েও স্বামীর সঙ্গে যোগাযোগ করতে ব্যর্থ হন লাবণ্য। এরপর ঘটনার রাতে শিশু সন্তানকে বাবার বাড়িতে রেখে লুকিয়ে স্বামীর বাড়িতে যান। সেখানে শাশুড়ির আলমারিতে লাবণ্যর ২ হাজার টাকা রাখা ছিল, কিন্তু আলমারির চাবি শাশুড়ির কাছে। শাশুড়ি নাজনীন বেগম চাবি দিতে অস্বীকৃতি জানালে তাদের মধ্যে ঝগড়া হয়। এরই জেরে তাকে গলা কেটে হত্যা করেন লাবণ্য।

লাবণ্য আক্তারের জবানবন্দি অনুযায়ী, শাশুড়িই তাকে হত্যার জন্য ছুরি বের করেন। ঐ সময় তাদের মধ্যে ধস্তাধস্তি হয়। তখন শাশুড়ির হাত থেকে ছুরি কেড়ে নিয়ে গলা কেটে হত্যা করেন লাবণ্য। এ হত্যাকাণ্ডে অন্য কেউ জড়িত নয় বলেও আদালতকে জানিয়েছেন তিনি।

এদিকে পুলিশ জানিয়েছে, শাশুড়ি নাজনিন বেগমের সঙ্গে পুত্রবধূ লাবণ্য আক্তারের বাবার অনৈতিক সম্পর্ক ছিল। এরই জেরে নৃশংস এ হত্যাকাণ্ড ঘটেছে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হয়েছিল। পরবর্তীতে লাবণ্য আক্তারের জবানবন্দিতে হত্যাকাণ্ডের আসল কারণ উঠে আসে।

এ ঘটনায় নিহতের ছেলে উজ্জ্বল একটি হত্যা মামলা করেছেন। ঐ মামলায় গ্রেফতার দেখিয়ে লাবণ্যকে আদালতের মাধ্যমে বরিশাল কেন্দ্রীয় কারাগারে পাঠানো হয়েছে। এখনো বুকের দুধ পান করে বলে মায়ের সঙ্গে এক বছর ৬ মাস বয়সী শিশু সন্তান মুজাহিদুল ইসলামকেও রাখা হয়েছে।

ডেইলি বাংলাদেশ/এআর