ইটভাটা গিলছে ৪ ফসলি জমি

ইটভাটা গিলছে ৪ ফসলি জমি

মাদারীপুর প্রতিনিধি ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

প্রকাশিত: ১৯:২৫ ১৪ জানুয়ারি ২০২২  

মাদারীপুরে কৃষি জমি দখল করে গড়ে উঠেছে শতাধিক ইটভাটা

মাদারীপুরে কৃষি জমি দখল করে গড়ে উঠেছে শতাধিক ইটভাটা

মাদারীপুরে কৃষি জমি দখল করে অবৈধভাবে গড়ে উঠেছে শতাধিক ইটভাটা। এসব ইটভাটা দিনদিন গিলে খাচ্ছে ৪ ফসলি জমি ও বনের কাঠ। এতে কমে যাচ্ছে কৃষি জমির পরিমাণ, দূষিত হচ্ছে পরিবেশ।

স্থানীয়দের অভিযোগ, কোনো নিয়মনীতির তোয়াক্কা করছে না ইটভাটার মালিকরা। ইট পোড়াতে কাঠ ব্যবহার করায় বিলীন হচ্ছে নানা প্রজাতির গাছ। আর কৃষি জমি থেকে মাটি সংগ্রহ চলছে অবাধে। পরিবেশকে হুমকির মুখে ঠেলে দিচ্ছে ইটভাটার মালিকরা।

কৃষি সম্প্রসারণ বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, মাদারীপুর জেলার ১ লাখ ১২ হাজার ৫৭০ হেক্টর জমির মধ্যে ৮০ হাজার হেক্টর কৃষি জমি হিসেবে চিহ্নিত। এর মধ্যে, অতি উর্বর এক ফসলি জমি ১০ হাজার ৬৭৯ হেক্টর, দুই ফসলি ৪৯ হাজার ৭২৬ হেক্টর, তিন ফসলি ২০ হেক্টর ১২৪ হেক্টর ও চার ফসলি জমি ২৫০ হেক্টর।

জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের উপ-পরিচালক মোয়াজ্জেম হোসেন জানান, কৃষি জমি নষ্টের অন্যতম কারণ ইটভাটা। ভাটার দূষণ ও বিরূপ প্রভাবে আশপাশের জমির ফসলহানি হচ্ছে।

অবৈধ ইটভাটায় ব্যবহার করা হয় কৃষি জমির মাটি ও বনের কাঠ

মাদারীপুর জেলা প্রশাসকের কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, জেলায় শতাধিক ইটভাটা রয়েছে। এসব ভাটার অধিকাংশই অবৈধ। যা স্থাপন করা হচ্ছে ফসলি জমি বা এর আশপাশে। অথচ ইট প্রস্তুত ও ভাটা নিয়ন্ত্রণ আইনে আছে- কৃষিজমিতে কোনো ইটভাটা স্থাপন করা যাবে না। শুধু তাই নয়, নির্ধারিত সীমারেখার (ফসলি জমি) এক কিলোমিটারের মধ্যেও কোনো ইটভাটা করা যাবে না। অথচ ইটভাটা মালিকরা প্রতিনিয়ত আইন লঙ্ঘন করছেন।

সদর উপজেলার পাঁচখোলা গ্রামের আনোয়ার হোসেন জানান, সম্প্রতি ভাটা মালিকরা ইট বানাতে জোরপূর্বক তাদের জমি থেকে মাটি কেটে নিয়েছে। এতে ভাটার আশপাশের অনেক জমি উর্বরতা হারাচ্ছে, কৃষক ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।

মাদারীপুর ইটভাটা শিল্প মালিক সমিতির সাধারণ সম্পদক মিলন চৌধুরী বলেন, হেমায়েত কাজীর ভাটা, রহিম খানের ভাটাসহ ৭-৮টি ভাটায় এখনো কাঠ পোড়ানো হয়। বিষয়টি আমরা জেলা প্রশাসককে জানালে তিনি কাঠ পোড়ানো বন্ধের নির্দেশ দেন। কিন্তু সে নির্দেশ মানেনি হেমায়েত-রহিমসহ কিছু ভাটা মালিক।

মাদারীপুরের জেলা প্রশাসক ড. রহিমা খাতুন বলেন, কোনো কৃষি জমি নষ্ট করে ইটভাটা করা যাবে না। এটা আইনে নিষিদ্ধ। অবৈধ ইটভাটা থাকলে সেগুলো বন্ধ করে দেওয়া হবে।

ডেইলি বাংলাদেশ/এআর