সিভিল সার্জনের অপারেশনে প্রাণ গেল প্রসূতির, বেঁচে রইল সন্তান

সিভিল সার্জনের অপারেশনে প্রাণ গেল প্রসূতির, বেঁচে রইল সন্তান

লক্ষ্মীপুর প্রতিনিধি ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

প্রকাশিত: ১৪:২৫ ৫ ডিসেম্বর ২০২১  

স্বজনদের কোলে নবজাতক

স্বজনদের কোলে নবজাতক

লক্ষ্মীপুরে অ্যানেসথেসিওলজিস্ট ছাড়া অপারেশন করায় এক প্রসূতির মৃত্যু হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। শনিবার বিকেলে শহরের নিউ আধুনিক হাসপাতালে এ ঘটনা ঘটে।

এ ঘটনায় সন্ধ্যার পর হাসপাতালের দরজা-জানালা ভাঙচুর করেন ক্ষুব্ধ স্বজনরা। পরে পুলিশ এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। নিহতের নাম শিমু আক্তার। ৩০ বছর বয়সী শিমু লক্ষ্মীপুর সদর উপজেলার শাকচর গ্রামের আলাউদ্দিনের মেয়ে ও সরকারি কর্মচারী লাভলুর স্ত্রী। তবে তার নবজাতক সন্তান সুস্থ আছে। তাদের সংসারে ১০ বছরের একটি ছেলেও রয়েছে।

শিমুর মা জেসমিন আক্তার বলেন, প্রসবব্যথা উঠলে প্রথমে শিমুকে মা ও শিশু কল্যাণ কেন্দ্রে নিয়ে যান স্বজনরা। পরে আল্ট্রাসনোগ্রাফিতে শিশুর অবস্থান উল্টো থাকায় তাকে নিউ আধুনিক হাসপাতালে নেয়া হয়। সেখানে সিজার অপারেশনের জন্য ১২ হাজার টাকা চুক্তি করা হয়। বিকেল ৩টার দিকে তার সিজার করানোর জন্য অপারেশন থিয়েটারে নিয়ে যান হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ।

এ সময় শিমুকে অস্ত্রোপচার করেন জেলা সিভিল সার্জন ডা. আব্দুল গাফফার। কিছুক্ষণ পর একটি নবজাতককে স্বজনদের কোলে তুলে দেওয়া হয়। এরপর অন্য এক প্রসূতিরও অস্ত্রোপচার করেন ওই চিকিৎসক। কিন্তু প্রসূতি শিমুর অবস্থা সম্পর্কে পরিবারের কাছে লুকোচুরি করতে থাকেন সবাই।

বিকেল ৫টার দিকে রোগীর অবস্থা খারাপ জানিয়ে একটি অ্যাম্বুলেন্সে ঢাকার উদ্দেশ্যে বের করে দেন হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। পথে রামগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিলে শিমুকে মৃত ঘোষণা করেন চিকিৎসক।

অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে সিভিল সার্জন ডা. আবদুল গাফফার মোবাইল ফোনে বলেন, ওই রোগী স্ট্রোক করেছেন। এখানে আইসিইউ সাপোর্ট না থাকায় রোগীকে ঢাকায় নিতে বলা হয়েছে। সেখানে নেয়ার পথে হাসপাতালের বাইরে রোগী মারা যান । সেক্ষেত্রে চিকিৎসায় অবহেলা ও অনভিজ্ঞতার অভিযোগ সঠিক নয়।

তিনি আরো বলেন, সিজারের সময় অ্যানেসথেসিওলজিস্ট ইকবাল ও নাছিম ছিলেন। এছাড়া এ ঘটনায় সদর হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল অফিসারসহ তিন সদস্যের তদন্ত টিম গঠন করা হয়েছে।

অ্যানেসথেসিওলজিস্ট ইকবাল জানান, ঘটনার সময় সদর হাসপাতালেই দায়িত্বে ছিলেন তিনি। এছাড়া ঘটনা সম্পর্কে জানেন না বলে জানিয়েছেন তদন্ত কমিটির প্রধান সদর হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল অফিসার ডা. আনোয়ার হোসেন।

ডেইলি বাংলাদেশ/এমআর