ইনজেকশন দিতেই নিথর হলো শিশু, চিকিৎসক বললেন ‘ঠান্ডা হলে আসবেন’

ইনজেকশন দিতেই নিথর হলো শিশু, চিকিৎসক বললেন ‘ঠান্ডা হলে আসবেন’

সিরাজগঞ্জ প্রতিনিধি ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

প্রকাশিত: ১৫:৩৬ ২৩ নভেম্বর ২০২১   আপডেট: ১৫:৪৩ ২৩ নভেম্বর ২০২১

শিশুর লাশের পাশে স্বজনরা

শিশুর লাশের পাশে স্বজনরা

চার বছরের সুমনার পিঠে হয়েছিল ফোঁড়া। চিকিৎসকের কাছে নিতেই বলেন অপারেশনের কথা। দেন একাধিক পরীক্ষাও। তাৎক্ষণিক পরীক্ষা করে রিপোর্ট দেখান স্বজনরা। রিপোর্ট দেখেই সুমনার পিঠে পর পর পাঁচটি ইনজেকশন দেন চিকিৎসক। এতে মুহূর্তেই প্রাণ হারালো ছোট্ট শিশুটি।

ঘটনাটি সিরাজগঞ্জের উল্লাপাড়ার। সোমবার রাতে উপজেলার শ্যামলীপাড়ায় জননী ক্লিনিক অ্যান্ড ডায়াগনস্টিক সেন্টারে এ ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় ক্লিনিকে ভাঙচুর চালিয়েছেন স্বজনরা।

শিশুর মা সুমা খাতুন অভিযোগ করে বলেন, আমার মেয়ে সুমনার পিঠে ফোঁড়া হয়। সোমবার রাত ৮টার দিকে আমার ভাইকে নিয়ে ফোঁড়া অপারেশনের জন্য জননী ক্লিনিক অ্যান্ড ডায়াগনস্টিক সেন্টারের চিকিৎসক আহসানুল হকের কাছে যাই। সেখানে চিকিৎসক আমার মেয়েকে দেখে রক্ত পরীক্ষাসহ নানা ধরনের পরীক্ষা করতে দেন।

পরে পরীক্ষার রিপোর্ট দেখে চিকিৎসক আহসানুল হক সুমনার পিঠে পর পর পাঁচটি ইনজেকশন দেন। এ সময় আমার মেয়ে চিৎকার করে বলে, ‘মা আমি আর বাঁচব না। এরপরই মেয়ের খিঁচুনি শুরু হয়ে মারা যায়’।

সুমনার মামা মুনিয়া মিয়া বলেন, ভাগ্নিকে দেখেই অপারেশনের কথা বলেন চিকিৎসক আহসানুল হক। এছাড়া কিছু ওষুধ আনতে বলেন। এরপর সুমনাকে জোর করে পর পর পাঁচটি ইনজেকশন দেন। ইনজেকশন দিয়ে চিকিৎসক বলেন- ‘একটু ঠান্ডা হলে নিয়ে আসবেন। ফোঁড়া কেটে বের করে দেওয়া হবে’। এরপর সুমনার খিঁচুনি শুরু হয়।

তখন অক্সিজেন দেওয়ার জন্য তাকে একটা রুমে নেয়া হয়। এর কিছুক্ষণ পর ডাক্তার এসে বলেন, সুমনার অপারেশনের জন্য আপনাদের একটা স্বাক্ষর লাগবে। ডাক্তার এ কথা বলে আমাদের কাছ থেকে জোর করে স্বাক্ষর নিয়ে নেন। পরে আমাদের আর রুমের ভেতরে ঢুকতে দেয়নি। আমরা এ চিকিৎসকের শাস্তি চাই।

জননী ক্লিনিক অ্যান্ড ডায়াগনস্টিক সেন্টারের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মনোয়ারুল ইসলাম মুক্তা বলেন, শিশুটি মৃগী রোগী ছিল। ডাক্তার তাকে অবশ করার ইনজেকশন দিলে তার খিঁচুনি ওঠে। পরে তাকে আইসিইউতে রাখা প্রয়োজন মনে করে এখান থেকে রেফার করে। তাকে এনায়েতপুর খাজা ইউনুস আলী মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালে নেয়ার পথে মৃত্যু হয় বলে শুনেছি। এ বিষয়ে কোনো দায় নিলে চিকিৎসক নেবেন। কিন্তু আমার প্রতিষ্ঠানে কেন ভাঙচুর করে ৫০-৫৫ লাখ টাকার ক্ষতি করা হলো।

উল্লাপাড়া মডেল থানার ওসি হুমায়ুন কবির বলেন, বিষয়টি শুনেছি। ভুক্তভোগী শিশুর পক্ষ থেকে থানায় অভিযোগ দিলে ব্যবস্থা নেয়া হবে।

ডেইলি বাংলাদেশ/এমআর