ভূমধ্যসাগরে ট্রলারডুবিতে প্রাণ গেল মাদারীপুরের দুই যুবকের

ভূমধ্যসাগরে ট্রলারডুবিতে প্রাণ গেল মাদারীপুরের দুই যুবকের

মাদারীপুর প্রতিনিধি ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

প্রকাশিত: ২১:৩৩ ২১ নভেম্বর ২০২১   আপডেট: ২১:৪৬ ২১ নভেম্বর ২০২১

ছবি: ফেসবুক থেকে সংগৃহীত

ছবি: ফেসবুক থেকে সংগৃহীত

মাদারীপুর সদর উপজেলার পশ্চিম খাগদী এলাকার আবুল কালাম খানের ছেলে সাব্বির খান। উন্নত জীবনের আশায় দালালের হাতে তুলে দিয়েছিল মোটা অংকের টাকা।

পরিবারের দাবি, কয়েক দফায় সাব্বিরকে জিম্মি করে হাতিয়ে নিয়েছে ১০ লাখ টাকা। একই রকম ঘটনা ঘটেছে মাদারীপুর সদর উপজেলার বড়াইলবাড়ি গ্রামের হাবিবুর রহমান তালুকদারের ছেলে সাকিবুলের ক্ষেত্রেও। 

দুই পরিবারেই চলছে শোকের মাতম।

শনিবার রাতে দুই পরিবারের লোকজন জানতে পারেন দুইজনই লিবিয়া থেকে ইতালি যাওয়ার পথে শনিবার রাতে ট্রলার ডুবিতে মৃত্যু হয়েছে সাব্বির ও সাকিবুলের। এদিকে দুই পরিবারেই চলছে শোকের মাতম। এই ঘটনায় দালালদের বিচার দাবি করেছেন তাদের স্বজন ও এলাকাবাসী। 

শনিবার সমুদ্র পথে লিবিয়া থেকে ইতালি যাবার পথে তিউনিসিয়ায় ট্রলারডুবিতে মাদারীপুরের দুই যুবক মারা গেছেন। 

দুই পরিবারেই চলছে শোকের মাতম।

মাদারীপুর সদর উপজেলার পশ্চিম খাগদী গ্রামের সাব্বির খান ও বড়াইলবাড়ী গ্রামের সাকিব তালুকদারসহ বেশ কয়েকজন ৬ মাস আগে ইতালি যাবার উদ্দেশ্যে বাড়ি থেকে বের হয়। শনিবার তাদের লিবিয়া থেকে অবৈধভাবে সমুদ্রপথে ট্রলারে যাত্রা করায় দালালচক্র। রাত ৮টার দিকে তিউনিসিয়ায় ভূমধ্যসাগরে ট্রলারডুবিতে মারা যান সাব্বির ও সাকিব। 

নিহতের স্বজনরা জানান, চর-নাচনা গ্রামের দালালচক্রের সক্রিয় সদস্য সেকেন মোড়লের ছেলে আতিবর ও কাশেম এবং বড়াইলবাড়ী গ্রামের কবির মীরা ছেলে সবুজ ও সুমন ইতালী নেয়ার কথা বলে প্রত্যেকের পরিবারের কাছ থেকে ১০ লাখ টাকা করে নেয়। এ ঘটনায় দালালদের কঠোর শাস্তি দাবি করেছেন স্বজন ও এলাকাবাসী। 

দুই পরিবারেই চলছে শোকের মাতম।

মৃত সাব্বিরের বাবা আবুল কালাম খান জানান, দালালরা কয়েক দফায় আমার কাছ থেকে ১০ লাখ টাকা নিয়েছে। ওরা আমার ছেলেকে লিবিয়াতে আটকে রেখে টাকার জন্য নির্যাতন করতো। নির্যাতনের কল রেকর্ড শুনিয়ে কয়েক দফায় ১০ লাখ টাকা দিয়েছে। আরো ৫ লাখ টাকা দাবি করেছিল। শনিবার রাতে ইতালি পাঠানোর কথা বলে ট্রলারে তুলে দেয়। সেখান থেকে তিউনেশিয়ায় ট্রলার ডুবিতে আমার ছেলে মারা গেছে। 

দুই পরিবারেই চলছে শোকের মাতম।

তিনি আরো বলেন, দালালরাই আবার ফোন করে সেই খবর দিয়েছে। আমরা দালারের বিচার চাই।

সাকিবুলের বাবা হাবিবুর রহমান বলেন, আমার ছেলেকে ওরা জোড় করে ট্রলারে তুলে দিয়েছে। সেই ট্রলার ডুবেই মারা গেছে। সরকারের কাছে দাবি ছেলের লাশটা যেন দেশে আনার ব্যবস্থা করে। 

মাদারীপুরের পুলিশ সুপার গোলাম মোস্তফা রাসেল জানান, ক্ষতিগ্রস্তরা অভিযোগ দিলে দালালদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।

ডেইলি বাংলাদেশ/এমকে