সপ্তম বারের মতো চেয়ারম্যান হলেন আজিজুর রহমান ভূঁইয়া

সপ্তম বারের মতো চেয়ারম্যান হলেন আজিজুর রহমান ভূঁইয়া

রনজিনা খানম, নড়াইল ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

প্রকাশিত: ১৫:০৬ ১৫ নভেম্বর ২০২১  

সপ্তম বারের মতো চেয়ারম্যান নির্বাচিত হয়েছেন আজিজুর রহমান ভূঁইয়া

সপ্তম বারের মতো চেয়ারম্যান নির্বাচিত হয়েছেন আজিজুর রহমান ভূঁইয়া

সপ্তম বারের মতো চেয়ারম্যান নির্বাচিত হয়েছেন আজিজুর রহমান ভূঁইয়া। গত ১১ নভেম্বর ইউপি নির্বাচনের দ্বিতীয় দফায় নড়াইল সদর উপজেলার ৩ নম্বর চন্ডিবরপুর ইউনিয়নে বিপুল ভোটের ব্যবধানে তিনি সপ্তম বারের মতো চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন। 

আওয়ামী লীগ মনোনীত একজন প্রার্থী হিসেবে জয়লাভ করেন সফল ও জনপ্রিয় এ জনপ্রতিনিধি। এলাকার মানুষের কাছে তিনি সৎ ও ন্যায়পরায়ণ চেয়ারম্যান হিসেবে পরিচিত। মূলত এ কারণেই তিনি বার বার চেয়ারম্যান নির্বাচিত হচ্ছেন বলে দাবি ভোটারদের। 

আজিজুর রহমান ভূঁইয়া বলেন, সবসময় চেষ্টা করি সুখে-দুঃখে এলাকাবাসীর পাশে থাকতে। এ বিজয় তারই প্রতিদান। ইউনিয়নবাসীর কাছে চিরকৃতজ্ঞ। স্থানীয় সরকারের নানা উন্নয়ন কর্মকায সঠিক ও সুচারুভাবে বাস্তবায়নের জন্য, সর্বোপরি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ডিজিটাল বাংলাদেশের স্বপ্ন বাস্তবায়নের জন্য কাজ করে চলেছেন জননন্দিত চেয়ারম্যান আজিজুর রহমান ভূঁইয়া। তার কর্মকাণ্ডে স্বীকৃতিস্বরূপ দু’ দু’বার জেলার শ্রেষ্ঠ চেয়ারম্যান হিসেবে ভূষিত হয়েছেন, পেয়েছেন স্বর্ণপদক। জেলা আওয়ামী লীগের উপদেষ্টামণ্ডলীর সদস্য ও সদর উপজেলা আওয়ামী লীগের সিনিয়র সহসভাপতি আজিজুর রহমান ভূঁইয়ার স্বপ্ন ছিল সমাজসেবা। 

সমাজের পিছিয়ে পড়া মানুষের জন্য কিছু করা। মানুষের জন্য কাজ করার তাগিদ থেকেই ১৯৭৭ সালে তরুণ বয়সেই ইউপি নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার সিদ্ধান্ত নেন। সে বছর সামান্য ভোটের জন্য বিজয় অধরা থাকলেও ১৯৮৩ সালের নির্বাচনে তিনি প্রথমবার চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন। 

চেয়ারম্যান হওয়ার পর থেকে খেটে খাওয়া সাধারণ মানুষের প্রতি তাঁর মমত্ববোধ, আন্তরিকতা ও কর্তব্যপরায়ণতা তাঁকে ব্যাপক জনপ্রিয় করে তোলে। তারপর থেকে একেক করে সপ্তমবারের মতো চন্ডিবরপুর ইউনিয়নের মানুষ তাঁকে ভোট দিয়ে চেয়ারম্যান নির্বাচিত করেন। এর মধ্যে সোস্যাল মিডিয়ায় অনেকেই তাকে সেভেন স্টার চেয়ারম্যান হিসেবে ভুষিত করেছেন। 

প্রতিটি মানুষেরই স্বপ্ন থাকে। এই স্বপ্নের পথে পা বাড়ালেই আসতে থাকে একের পর এক প্রতিবন্ধকতা। যে ব্যক্তি এসব প্রতিবন্ধকতা ডিঙ্গিয়ে এগিয়ে যেতে পারেন তিনিই হন সফল। এমনই একজন সফল ব্যক্তি হলেন বিশিষ্ট সমাজসেবক ও নড়াইল সদরের চন্ডিবরপুর ইউনিয়নের জননন্দিত চেয়ারম্যান আজিজুর রহমান ভূঁইয়া। 

ষষ্ঠ শ্রেণিতে পড়াকালীন সময়ে পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তি বাবাকে হারিয়েছেন। জীবন সংগ্রামের দীর্ঘ পথ পাড়ি দিয়ে ভাইবোনসহ পরিবারের সবার প্রতি কর্তব্য পালনের পাশাপাশি সমাজের প্রতি দায়িত্ব পালন থেকেও বিচ্যুত হননি। গড়ে তুলেছেন আজিজুর রহমান বালিকা এতিমখানা, বীরশ্রেষ্ঠ নূর মোহাম্মদ মহাবিদ্যালয়, বীরশ্রেষ্ঠ নূর মোহাম্মদ মাধ্যমিক বিদ্যালয়, সিমানন্দপুর দাখিল মাদরাসা ও বীরশ্রেষ্ঠ নূর মোহাম্মদ শেখ গ্রন্থাগার ও স্মৃতি জাদুঘর। 

আজিজুর রহমান ভূঁইয়ার সম্পর্কে জানতে চাইলে রাজাপুর গ্রামের ভ্যানচালক ও চন্ডিবরপুর ইউপির ভোটার লিচু শেখ জানান, তার মেয়ের মাস্টার্স পর্যন্ত পড়ালেখার যাবতীয় খরচ দিয়েছেন চেয়ারম্যান। এছাড়া পরিবারের চিকিৎসা খরচ এবং মেয়ের বিয়ের খরচও তিনি দিয়েছেন । 

কুড়লিয়া গ্রামের প্রান্তিক চাষি পরিবারের সন্তান ছাত্র ইয়াছিন আরাফাত জানান, আজিজুর রহমান ভূঁইয়া ইউপির একজন মানবিক চেয়ারম্যান, তিনি একজন সেরা মানুষ। তিনি আছেন বলে এ ইউনিয়নে মাদক, সন্ত্রাস, চাঁদাবাজি হয় না। তিনি কাউকে এসব অনৈতিক কর্মকাণ্ড করতে দেন না। 

চালিতাতলা গ্রামের ঝালমুড়ি ব্যবসায়ী জয়ন্ত দাস জানান, ‘আজিজ চেয়ারম্যানের জন্য আমরা হাটে-বাজারে নিরাপদে বেচাকেনা করতে পারি, কোন দিন কারোর দ্বারা হয়রানির শিকার হইনি। তিনি একজন নিরেট ভদ্রলোক, ভালো মানুষ।’ 

চালিতাতলা বাজারের পানের দোকানদার তাপস কুমার সমাদ্দার বলেন, ছোটকাল থেকে আমরা তাকে দেখে আসছি, তার দ্বারা এলাকায় কারোর কোনো ক্ষতি হতে দেখিনি। তিনি ছোট বড় সবার সঙ্গে ভালো ব্যবহার করেন। 

পাইকমারি গ্রামের বীর মুক্তিযোদ্ধা মোল্যা কওছার উদ্দিন বলেন, ‘বিভিন্ন পত্রপত্রিকায় দেখি বিভিন্ন ইউপির চেয়ারম্যানের নামে চাল-গম, রাস্তার টাকা মারার দায়ে দুদকে বা থানা বা কোর্টে মামলা হয়েছে। অথচ আমাদের চেয়ারম্যান ৩২ বছর ধরে চেয়ারম্যানি করতিছে কোন মামলা তার নামে হয়নি। তিনি ৩২ বছর ধরে মানুষের উপকার ছাড়া কারোর ক্ষতি করেননি। তার জন্য আমরা নিরাপদে চলাফেরা করতে পারি এবং রাতে ঘুমাতে পারি। কোনো সম্যসায় পড়লে তাকে আমরা তাৎক্ষণিক পাই। চাকরি, পাসপোর্ট এর ভেরিফিকেশন করতে কখনোই বেগ পেতে হয়নি। ইউনিয়ন পরিষদের কোন সেবা পেতে হয়রানি হতে হয়নি, কোন টাকা দিতে হয়নি। সরকারির বরাদ্দের বাইরেও তিনি নিজের টাকা দিয়ে গরিব মানুষের সেবা দেন। 

গ্রাম পুলিশ মহসিন মোল্লা বাবু জানান, স্টাফদের সঙ্গে তিনি কখনো খারাপ ব্যবহার করেন না। একই পরিবারের মানুষ হিসেবে ব্যবহার করেন। মাদক, সন্ত্রাস, চাঁদাবাজি, শান্তিরক্ষা বিষয়ে সাধারণের মতামতকে গুরুত্ব দেন, পুলিশের হয়রানি হতে দেন না, উন্নয়নের কাজে কোনো দুর্নীতি করেন না, গরিব শিক্ষার্থীদের আর্থিক সহায়তা করেন, কেউ তার কাছে গেলে খালি হাতে ফেরে না। কারো সঙ্গে রাগান্বিত হয়ে কথা বলেন না, দ্বন্দ্ব নিরসনের চেষ্টা করেন। 

নড়াইল সদর উপজেলার বাজে সিমানন্দপুর গ্রামে ১৯৫২ সালের ১৮ মে জন্মগ্রহণ করেন আজিজুর রহমান ভূঁইয়া। বাবা মৃত তোবারেক হোসেন ভূঁইয়া (নালু ভূঁইয়া)। মা মৃত রওশন আরা বেগম। চার বোন, দুই ভাইয়ের মধ্যে তিনি সবার বড়। স্ত্রী রওশন আরা মীরা একজন আদর্শ গৃহিনী। ব্যক্তিগত জীবনে তিনি এক ছেলে ও এক মেয়ের বাবা। ছেলে আশিকুর রহমান রনু বিএসসি ইঞ্জিনিয়ারিং পাস করে দুবাইতে কর্মরত। মেয়ে ফারহানা ফেরদৌস সুমি। মেয়ের জামাই শহিদুল ইসলাম দায়রা জজ হিসেবে ঢাকাতে কর্মরত। 

নন্দিত চেয়ারম্যান আজিজুর রহমান ভূঁইয়া দীর্ঘদিন ধরে নড়াইল সদর উপজেলা আওয়ামী লীগের সিনিয়র সহ-সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। এছাড়া তিনি জেলা আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা মন্ডলীর অন্যতম সদস্য এবং একজন প্রতিষ্ঠিত ঠিকাদার। 

তিনি ১০ বছর জেলা ইউপি চেয়ারম্যান সমিতির সভাপতি ছিলেন। তিনি বর্তমানে বাংলাদেশ চেয়ারম্যান সমিতির ২ নং সহ-সভাপতি হিসেবে রয়েছেন। এছাড়া তিনি আজিজুর রহমান বালিকা এতিমখানা নামে একটি এতিমখানা, বীরশ্রেষ্ঠ নূর মোহাম্মদ মহাবিদ্যালয়, বীরশ্রেষ্ঠ নূর মোহাম্মদ মাধ্যমিক বিদ্যালয় ও সিমানন্দপুর দাখিল মাদ্রসার প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি এবং বীরশ্রেষ্ঠ লেন্স নায়েক নূর মোহাম্মদ শেখ স্মৃতি পাঠাগার ট্রাস্টের প্রতিষ্ঠাতা সদস্য সচিব। 

ডেইলি বাংলাদেশ/এমকে