এবার ডিসি হলেন স্কুলছাত্রী রিমি

এবার ডিসি হলেন স্কুলছাত্রী রিমি

ভোলা প্রতিনিধি ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

প্রকাশিত: ১৮:০২ ১৩ অক্টোবর ২০২১   আপডেট: ১৮:০৩ ১৩ অক্টোবর ২০২১

দশম শ্রেণির ছাত্রী তাসনিম আজিজ রিমিকে এবার এক ঘণ্টার জন্য প্রতীকী ডিসির দায়িত্ব পালন করেছেন।

দশম শ্রেণির ছাত্রী তাসনিম আজিজ রিমিকে এবার এক ঘণ্টার জন্য প্রতীকী ডিসির দায়িত্ব পালন করেছেন।

ভোলা সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের দশম শ্রেণির ছাত্রী তাসনিম আজিজ রিমিকে এবার এক ঘণ্টার জন্য প্রতীকী ডিসির দায়িত্ব পালন করেছেন।

ভোলা জেলা এনসিটিএফ’র আয়োজনে বুধবার দুপুরে ভোলার ডিসি মো. তৌফিক-ই-লাহী চৌধুরী কাছ থেকে প্রতীকী দায়িত্ব গ্রহণ করেন ওই শিক্ষার্থী। 

দায়িত্ব নেওয়ার পর তাকে জেলা প্রশাসনের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা ফুলেল শুভেচ্ছা জানান। তারপর আয়োজিত আলোচনা সভায় ডিসি মো. তৌফিক-ই-লাহী চৌধুরী তার পাশের আসনে তাসনিম আজিজ রিমিকে  পাশে বসিয়ে দুপুর সাড়ে ১২টা থেকে দেড়টা ১ ঘণ্টার জন্য প্রতীকী ডিসি হিসেবে দায়িত্ব পালনের সুযোগ করে দেন। 

প্রতীকী ডিসি তাসনিম আজিজ রিমি দায়িত্ব নিয়েই ভোলাকে শিশু ও নারী বান্ধব জেলা ও সাইবার বুলিং নির্মূল করার কথা জানান। এছাড়াও বাল্যবিয়ে নিরোধের ব্যবস্থা, ইভটিজিং, ধর্ষণ, নারী নির্যাতন, সুপারিশমালা পেশ করেন। যা বাস্তবায়নের আশ্বাস দেন ডিসি।

উন্নয়ন সংস্থা ইয়েস-বাংলাদেশ, প্লান ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ, অপরাজেয় বাংলাদেশ, ইয়ুথ ফর চেঞ্জ ও জেলা প্রশাসনের সহযোগিতায় এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।

আন্তর্জাতিক কন্যাশিশু দিবস ও বিশ্ব শিশু অধিকার সপ্তাহ উপলক্ষে গার্লস টেকওভার অনুষ্ঠানের মাধ্যমে ন্যাশনাল চিলড্রেন টাস্ক ফোর্সের (এনসিটিএফ) আয়োজনে এই কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়।

এক ঘণ্টার জন্য প্রতীকী দায়িত্ব দেওয়া হয় ভোলা সদর উপজেলার পৌর সভার ১ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা এনসিটিএফ’র চাইল্ড পার্লামেন্ট সদস্য তাসনিম আজিজ রিমিকে।

এই কর্মসূচির ফলে একজন কিশোরী, মেয়েশিশু অথবা যুব নারীকে নেতৃত্ব প্রদানকারী ভূমিকা পালন করতে সহায়তা করা হয়; যাতে তার আত্মবিশ্বাস বাড়ে। নিজের স্বপ্ন পূরণে সে অঙ্গীকারবদ্ধ হয়। মেয়ে শিশুরা সমান সুযোগ ও সমান অধিকার পেলে বদলে দিতে পারে তাদের জীবন, তাদের আশপাশের সমাজ ও সমাজের মানুষকে এমন বিশ্বাস থেকেই গার্লস টেকওভার কর্মসূচি চালু করা হয়।

কিশোরী বা তরুণীরা নেতৃত্ব প্রদানের মাধ্যমে আত্মবিশ্বাস বৃদ্ধি ও নিজের স্বপ্ন পূরণে অঙ্গীকারাবদ্ধ হয়। তাদের অবস্থান, নেতৃত্ব, সিদ্ধান্ত ও সাফল্য তুলে ধরার আবহ সৃষ্টি করা হচ্ছে।

এ সময় উপস্থিত ছিলেন অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) সুজিত হাওলাদার, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) মামুন আল ফারুক, জেলা তথ্য অফিসার মো. নুরুল আমিন, ভোলা জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদফতরের নির্বাহী প্রকৌশলী মোহাম্মদ মাহমুদ খান, সদরের ইউএনও মিজানুর রহমান, জেলা শিশু বিষয়ক কর্মকর্তা আকতার হোসেন, ভোলা সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক শারমিন জাহান শ্যামলী উপস্থিত ছিলেন। 

অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন এনসিটিএফ ভোলা জেলা সমন্বয়কারী সাংবাদিক আদিল হোসেন তপু।

এ সময় তাসনিম আজিজ রিমি মা শিক্ষিকা মরিয়ম বেগম ও ন্যাশনাল চিলড্রেন’স টাস্কফোর্স (এনসিটিএফ) এর ভলেন্টিয়ার রিমা আক্তার শিমু, সভাপতি মো. শাফায়েত হোসেন (সিয়াম), সাধারণ সম্পাদক ওয়াহিদ ইমন, সাংগঠনিক সম্পাদক রাশিদ আবিদ ইফতি প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

প্রতীকী জেলা প্রশাসকের দায়িত্ব নিয়ে তাসনিম আজিজ রিমি বলেন, ভোলা জেলাসহ সারাদেশে  নারীর প্রতি সহিংসতা নির্যাতনের হার দিন দিন বৃদ্ধি পাচ্ছে। বৃদ্ধি পাচ্ছে ধর্ষণ ও বাল্যবিয়ের মতো সামাজিক অভিশাপ। আমি চাইবো আমার মতো হাজারো স্বপ্ন বুকে নিয়ে কোনো কিশোরী কিংবা কোনো শিশুকে ধর্ষণের শিকার হতে না হয়। ধর্ষণের শিকার হয়ে আর কোনো মেয়ে আত্মহত্যা পথ বেছে না নেয়। রাষ্ট্র প্রতিটি নারী ও শিশুর সুরক্ষার ব্যবস্থা গ্রহণ করবে। তাই আশা করি ধর্ষিত কিশোরীদের স্বাভাবিক জীবনে ফিরিয়ে আনা এবং ধর্ষকদের প্রকাশ্যে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির ব্যবস্থা করা হবে। একটি ধর্ষণমুক্ত, ইভটিজিংমুক্ত নারী ও শিশুবান্ধব ভোলা জেলা গড়ে তুলতে সবাইকে এগিয়ে আশার আহ্বান জানান তিনি ।

রিমি আরো বলেন, বর্তমানে ভোলাসহ সারাদেশে নারী ও কিশোরীরা অনলাইন সাইবার বুলিং এর সম্মুখীন হতে হয়। এর মাধ্যমে নারী ও কিশোররা চরম নিরাপত্তাহীনতার শিকার হচ্ছে। এখনো বাংলাদেশের অধিকাংশ কিশোরীরা জানে না ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন সর্ম্পকে। তাই সর্বক্ষেত্রে শিশুদের নিরাপত্তা ও অনলাইন স্বাধীনতা নিশ্চিত করার কথা বলেন। ধর্ষকদের প্রকাশ্যে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির প্রস্তাব দেন এক ঘণ্টার প্রতীকী ডিসি তাসনিম আজিজ রিমি ।

ডিসি তৌফিক-ই-লাহী চৌধুরী বলেন, বর্তমানে দেশের সরকার প্রধান নারী, বিরোধীদলীয় নেত্রী নারী, জাতীয় সংসদের স্পিকারও একজন নারী। সে ক্ষেত্রে  প্রান্তিক গ্রাম অঞ্চলের নারী ও কিশোরীরা অনেক পিছিয়ে আছে। তাসনিম আজিজ রিমি ওই কিশোরীদের আইকন হিসেবে পরিচিত পাবে। তাকে দেখেই শিশু ও কিশোরী মুক্তমনা হিসেবে বেড়ে উঠবে। দেশের সর্বোচ্চ পদগুলো অর্জনের মাধ্যমে ভবিষ্যতে নেতৃত্ব দেওয়া সাহস যোগাবে। নারীদের সুরক্ষা নিশ্চিত করতে আমাদের সবাইকে ঐক্যবদ্ধ হতে হবে। এ সময় তিনি সবাইকে সাইবার বুলিং থেকে সর্তক থাকার আহবান জানান।

তাসনিম আজিজ রিমি জেলা প্রশাসকের দায়িত্ব পালনের সময় উপস্থিত ছিলেন সরকারি ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তা, বিভিন্ন প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ার সাংবাদিক, সুশীল সমাজের নেতা, শিক্ষক, অভিভাবক ও  এনসিটিএফ এর সদস্যরা।
  
রিমি ২০২০ সালের ২৮ অক্টোবর এক ঘণ্টার জন্য প্রতীকী পুলিশ সুপারের দায়িত্ব পালন করেন। এবং এ বছর পদোন্নতি হয়ে প্রতীকী জেলা প্রশাসকের দ্বায়িত্ব পালন করেন তিনি। 

ডেইলি বাংলাদেশ/এমকে