অন্ধকার ঘরে উঁকি দিতেই মায়ের চিৎকার, দেখলেন ছেলেসহ প্রেমিকার বীভৎস লাশ

অন্ধকার ঘরে উঁকি দিতেই মায়ের চিৎকার, দেখলেন ছেলেসহ প্রেমিকার বীভৎস লাশ

গাজীপুর প্রতিনিধি ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

প্রকাশিত: ১৭:৫২ ৭ অক্টোবর ২০২১   আপডেট: ১৮:০৩ ৭ অক্টোবর ২০২১

হৃদয় ও ইভানা

হৃদয় ও ইভানা

ছেলেকে বাড়ি রেখে জমি রেজিস্ট্রি করতে গেলেন মা। সন্ধ্যায় বাড়ি ফিরে ঘর অন্ধকার দেখেন তিনি। দরজাও বন্ধ। ডাকাডাকি করেও ছেলের সাড়া না মেলায় জানালা দিয়ে উঁকি মেরেই দেন চিৎকার। অন্ধকার ঘরের মেঝেতে দেখেন প্রেমিকাসহ ছেলের রক্তাক্ত লাশ পড়ে আছে। তার চিৎকারে এগিয়ে আসেন গ্রামের লোকজন।

বলছি গাজীপুরের কালীগঞ্জে প্রেমিক-প্রেমিকার রক্তাক্ত লাশ উদ্ধারের কথা। বুধবার রাত ১০টার দিকে উপজেলার বক্তারপুর ইউনিয়নের সাতানীপাড়া গ্রাম থেকে লাশ দুটি উদ্ধার করে পুলিশ।

২৫ বছর বয়সী প্রেমিকের নাম হৃদয় গোমেজ। তিনি সাতানীপাড়া গ্রামের সমর গোমেজের ছেলে। আর ২২ বছর বয়সী প্রেমিকা ইভানা রোজারিও একই উপজেলার তুমুলিয়া ইউনিয়নের বান্দাখোলা এলাকার স্বপন রোজারিওর মেয়ে। হৃদয় ব্র্যাকে আর ইভানা একটি ক্লিনিকে কাজ করতেন।

স্থানীয় ইউপি সদস্য কাওসার আলম জানান, হৃদয় ও ইভানার মধ্যে প্রেমের সম্পর্ক ছিল। বুধবার সকালে জমি রেজিস্ট্রি করতে কালীগঞ্জ সাবরেজিস্ট্রি অফিসে যান হৃদয়ের মা ও চাচা। বাড়িতে একাই ছিলেন হৃদয়। সন্ধ্যা ৭টার দিকে বাড়ি ফিরে তার মা দেখেন ঘর অন্ধকার। দরজা ভেতর থেকে বন্ধ। ডাকাডাকি করেও হৃদয়ের সাড়া না পেয়ে জানালা দিয়ে উঁকি মেরে দেখেন মেঝেতে ছেলে ও তার প্রেমিকার রক্তাক্ত লাশ পড়ে আছে। এরপর তার চিৎকারে গ্রামের লোকজন এগিয়ে আসেন।

পরে থানায় খবর দিলে পুলিশ এসে রাত ১০টার দিকে ঘরের বারান্দার গ্রিল ও দরজা ভেঙে ভেতরে ঢোকে। সকালে হৃদয়ের মা বাড়ি থেকে বেরিয়ে গেলে কোনো এক সময় প্রেমিকা ইভানা হৃদয়ের কাছে আসেন বলে ধারণা করা হচ্ছে। পরে কোনো এক সময় তাকে হত্যা করে নিজেও আত্মহত্যা করেন হৃদয়।

কালীগঞ্জ থানার ওসি আনিছুর রহমান জানান, ইভানার গলাকাটা আর হৃদয়ের পেটে অনেকগুলো ধারালো অস্ত্রের আঘাত রয়েছে। মৃত অবস্থায় তার হাতে চাকু ধরা ছিল। কোনো ক্ষোভ থেকে ইভানার গলায় ছুরি চালিয়ে হত্যার পর হৃদয় নিজের পেটে চাকু মেরে আত্মহত্যা করেছেন বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে। এ ঘটনায় অন্য কেউ জড়িত কি না তাও তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। লাশ উদ্ধারের পর রাতেই গাজীপুর হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে।

ডেইলি বাংলাদেশ/এমআর