সেই মিনুর অনাথ দুই সন্তানের দায়িত্ব নিলো কেএসআরএম

সেই মিনুর অনাথ দুই সন্তানের দায়িত্ব নিলো কেএসআরএম

চট্টগ্রাম প্রতিনিধি ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

প্রকাশিত: ০২:৩৮ ১৫ সেপ্টেম্বর ২০২১  

চট্টগ্রামে অন্যের হয়ে জেল খাটার পর সড়ক দুর্ঘটনায় মারা যাওয়া সেই মিনুর দুই সন্তান ইয়াসিন ও গোলাপের পড়ালেখা ও ভরণপোষণের দায়িত্ব নিয়েছে ইস্পাত নির্মাণ শিল্পগ্রুপ কেএসআরএম

চট্টগ্রামে অন্যের হয়ে জেল খাটার পর সড়ক দুর্ঘটনায় মারা যাওয়া সেই মিনুর দুই সন্তান ইয়াসিন ও গোলাপের পড়ালেখা ও ভরণপোষণের দায়িত্ব নিয়েছে ইস্পাত নির্মাণ শিল্পগ্রুপ কেএসআরএম

চট্টগ্রামে অন্যের হয়ে জেল খাটার পর সড়ক দুর্ঘটনায় মারা যাওয়া সেই মিনুর দুই সন্তান ইয়াসিন ও গোলাপের পড়ালেখা ও ভরণপোষণের দায়িত্ব নিয়েছে ইস্পাত নির্মাণ শিল্পগ্রুপ কেএসআরএম। বিভিন্ন গণমাধ্যমে খবর প্রকাশের পর অনাথ এ দুই সন্তানের দায়িত্ব নেয়ার আগ্রহ প্রকাশ করেন প্রতিষ্ঠানটির উপ-ব্যবস্থাপনা পরিচালক শাহরিয়ার জাহান রাহাত।

প্রতিষ্ঠানের মিডিয়া অ্যাডভাইজার মিজানুল ইসলাম বিষয়টি নিশ্চিত করেন।

তিনি বলেন, উপ-ব্যবস্থাপনা পরিচালকের আগ্রহের বিষয়টি জেলা প্রশাসককে জানানো হয়েছে। জেলা প্রশাসকের নির্দেশনা অনুযায়ী পরবর্তী করণীয় নির্ধারণ করবে কেএসআরএম। হতাভাগ্য মিনু আক্তারের অনাথ দুই সন্তান যেন সমাজের নিষ্ঠুরতার বলি না হয়, তারা যেন পৃথিবীর আলো-বাতাসে আর দশটা শিশুর মতো হেসে খেলে বড় হতে পারে সেই বিষয়টি নিয়ে ভাবছে কেএসআরএম।

জেলা প্রশাসক মো. মমিনুর রহমান বলেন, মিনু আক্তারের অনাথ দুই সন্তানের সার্বিক দায়িত্ব নিতে চায় কেএসআরএম। আমরা তাদের কিছু করণীয় নির্ধারণ করে দেবো। সে অনুযায়ী তারা সন্তান দুটির দায়িত্ব নেবে।

গত ২৮ জুন রাতে নগরীর বায়েজিদ বোস্তামী থানার বায়েজিদ লিংক রোডে গাড়ির ধাক্কায় নিহত হন মিনু। পরিচয় না পেয়ে ময়নাতদন্ত শেষে বেওয়ারিশ হিসেবে লাশ দাফন করে আঞ্জুমানে মফিদুল ইসলাম। দাফনের পাঁচদিন পর ছবি দেখে লাশটি মিনুর বলে শনাক্ত করে তার পরিবার।

পুলিশ জানায়, ভোররাতে খবর পেয়ে গাড়ির ধাক্কায় আহত মিনুকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নেয় টহল পুলিশ। সেখানে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। পরিচয় না পেয়ে লাশ আঞ্জুমানে মফিদুল ইসলামের মাধ্যমে দাফনের পাশাপাশি এ ঘটনায় থানায় একটি অপমৃত্যু মামলা হয়।

২০০৬ সালের জুলাইয়ে নগরীর কোতোয়ালি থানার রহমতগঞ্জ এলাকার একটি বাসায় খুন হন পোশাককর্মী কোহিনুর। এরপর বাইরে গাছের সঙ্গে ঝুলিয়ে রাখা হয় সেই লাশ। সে সময় কোহিনুর আত্মহত্যা করেন বলে দাবি করেছিলেন আরেক পোশাককর্মী কুলসুম আক্তার কুলসুমী।

লাশ উদ্ধারের পর থানায় অপমৃত্যু মামলা হলে তদন্ত শেষে সেটি হত্যাকাণ্ড ছিল বলে নিশ্চিত হয় পুলিশ। সেই হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে উঠে আসে কুলসুমীর সংশ্লিষ্টতা। মোবাইলে কথা বলার ঘটনা নিয়ে কোহিনুরকে গলা টিপে হত্যা করেন কুলসুমী। ওই মামলায় ২০১৭ সালের নভেম্বরে তার যাবজ্জীবনসহ ৫০ হাজার টাকা জরিমানা অনাদায়ে আরো এক বছরের কারাদণ্ড দেন তৎকালীন অতিরিক্ত চতুর্থ মহানগর দায়রা জজ মো. নুরুল ইসলাম।

সেই সাজার পরোয়ানামূলে ২০১৮ সালের ১২ জুন থেকে কুলসুমী পরিচয়ে জেল খাটছিলেন মিনু। পরবর্তীতে চলতি বছরের ১৮ মার্চ কারাগারের নারী ওয়ার্ড পরিদর্শনে গেলে মিনুর বিষয়টি সিনিয়র জেল সুপার মো. শফিকুল ইসলাম খানের নজরে আসে। এরপর উচ্চ আদালত পর্যন্ত নানা আইনি প্রক্রিয়া শেষে ১৬ জুন দুপুরে মিনুকে মুক্তির আদেশ দেন চট্টগ্রামের অতিরিক্ত চতুর্থ মহানগর দায়রা জজ শরীফুল আলম ভূঁঞার আদালত। ওইদিন বিকেলে চট্টগ্রাম কেন্দ্রীয় কারাগার থেকে বের হন তিনি।

জানা গেছে, ২০১৮ সালের রমজান মাসে জাকাতের টাকা ও খাদ্যসামগ্রী দেয়ার কথা বলে মানসিক ভারসাম্যহীন মিনুকে ডেকে নেন একই এলাকার মর্জিনা আক্তার। এরপর তাকে আদালতে তোলা হয়। বিচারকের খাসকামড়ায় যান মিনু। এর আগেই তাকে শিখিয়ে দেয়া হয় ‘কুলসুম আক্তার’ বলে ডাক দিলে যেন হাত উঠান তিনি। আর সেই হাত উঠানোই কাল হয়ে দাঁড়ায় মিনুর। মুহূর্তেই নিরপরাধ ‘মিনু আক্তার’ হয়ে যান ‘কুলসুম আক্তার’। চলে যেতে হয় কারাগারে।

ডেইলি বাংলাদেশ/জেএইচ