অন্য রোগীর প্রেসক্রিপশনে ওষুধ খেলেন জয়নাল

অন্য রোগীর প্রেসক্রিপশনে ওষুধ খেলেন জয়নাল

ময়মনসিংহ প্রতিনিধি ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

প্রকাশিত: ০০:০৬ ২৪ জুলাই ২০২১  

মো. জয়নাল ফকির

মো. জয়নাল ফকির

মো. জয়নাল ফকির। বয়স ৫১ ছুঁই ছুঁই। লেখাপড়া জানেন না। হাসপাতালের প্রেসক্রিপশন অনুযায়ী ওষুধ কিনে খাচ্ছিলেন। চার মাস টানা ওষুধ খেলেও কোনো কাজে আসছে না। উল্টো দিন দিন শরীর খারাপ হচ্ছে। অবশেষে বিষয়টি এক চিকিৎসকের নজরে আসে। এতদিন ভুল প্রেসক্রিপশন অনুযায়ী ওষুধ খেয়েছিলেন তিনি। বর্তমানে তার শারীরিক অবস্থা জানতে কিছু পরীক্ষা-নিরীক্ষা দিয়েছেন চিকিৎসক।

জয়নাল ফকিরের বাড়ি ময়মনসিংহের নান্দাইল উপজেলার বালিয়াপাড়া গ্রামে। চলতি বছরের ২০ মার্চ বুকে ব্যথা নিয়ে নান্দাইল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জরুরি বিভাগে যান তিনি। কিন্তু তাকে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের হৃদরোগ বিভাগে পাঠান চিকিৎসকরা। সেখানে চিকিৎসা নেয়ার পর সুস্থ হলে ২৭ মার্চ জয়নালকে ছাড়পত্র দেয় হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ।

বাড়িতে ফিরে প্রেসক্রিপশন অনুযায়ী ওষুধ কিনে খেতে থাকেন জয়নাল। কিন্তু কোনো পরিবর্তন দেখছিলেন না। রোগ ভালো হওয়ার বদলে শরীর খারাপ হচ্ছিল।

জয়নাল ফকির বলেন, হাসপাতালের চিকিৎসায় সুস্থবোধ করি। এরপর ছাড়পত্রে লেখা ওষুধ খাওয়ার পর থেকে নানা ধরনের শারীরিক জটিলতা দেখা দেয়। একপর্যায়ে বাড়িতে শয্যাশায়ী হয়ে পড়ি। ১৬ জুলাই ময়মনসিংহে একজন মেডিসিন বিশেষজ্ঞের কাছে যাই।

রোগীর মুখ থেকে সবকিছু শোনার পর ওই চিকিৎসক প্রেসক্রিপশন লেখার শুরুতে নাম জিজ্ঞেস করেন। রোগী নিজের নাম জয়নাল ফকির বললে ধরা পড়ে গরমিলটি। রোগী জয়নাল ফকির হলেও প্রায় চার মাস ধরে তিনি মুক্তগাছা উপজেলার মজিবর রহমানের প্রেসক্রিপশন অনুযায়ী ওষুধ খেয়ে আসছিলেন।

মজিবর রহমানের প্রেসক্রিপশন কোথায় পেলেন জিজ্ঞেস করলে জয়নাল ফকির বলেন, আমি লেখাপড়া জানি না। আমার স্ত্রীও জানে না। ছুটি হওয়ার পর হাসপাতালের লোকজন আমার হাতে ছাড়পত্র দিয়ে বাড়ি যেতে বলেন।

তিনি আরো বলেন, ছাড়পত্রটি আমার না হলে সেটি আমাকে দেওয়ার তো কথা নয়। আমি একজন কাঠমিস্ত্রি। ঘর মেরামত করা আমার পেশা। আমার চার ছেলে অন্যের বাড়িতে লজিং থেকে মাদরাসায় পড়ালেখা করে। ভুল ওষুধ কেনার পেছনে আমার প্রায় ২০-২৫ হাজার টাকা খরচ হয়েছে।

জয়নাল বলেন, ছাড়পত্র দেওয়ার সময় কর্তৃপক্ষের আরো দায়িত্বশীল হওয়া প্রয়োজন। আমার মতো লেখাপড়া না জানা অনেকেই চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে যান। তবে কে তাকে ছাড়পত্র দিয়েছেন, তার নাম বলতে পারেননি তিনি।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের সহকারী পরিচালক জাকিউল ইসলাম মুঠোফোনে বলেন, প্রতিদিন শত শত রোগীর ছাড়পত্র নিয়ে কাজ করে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। আর ঘটনাটি যেহেতু মার্চ মাসের, তদন্ত না করে এ বিষয়ে কিছু বলা সম্ভব হবে না। বিষয়টি তদন্ত করে জানানো হবে।

ডেইলি বাংলাদেশ/এমআর