পুলিশের সোর্সের চতুরতায় ধরা খেল ‘দুর্ধর্ষ’ ঘাতক আকলিমা, মিলল নিখোঁজ আরাফাতের পচাগলা লাশ

পুলিশের সোর্সের চতুরতায় ধরা খেল ‘দুর্ধর্ষ’ ঘাতক আকলিমা, মিলল নিখোঁজ আরাফাতের পচাগলা লাশ

মুন্সিগঞ্জ প্রতিনিধি ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

প্রকাশিত: ১৪:০২ ১৭ জুলাই ২০২১   আপডেট: ১৪:১৫ ১৭ জুলাই ২০২১

লাশ পুঁতে রাখার স্থান (বামে), ঘাতক আকলিমা আক্তার (ডানে) - ডেইলি বাংলাদেশ

লাশ পুঁতে রাখার স্থান (বামে), ঘাতক আকলিমা আক্তার (ডানে) - ডেইলি বাংলাদেশ

খাবারের সঙ্গে ঘুমের ওষুধ মিশিয়ে স্বামীকে হত্যা করার পর রান্নাঘরে লাশ পুঁতে সেখানেই নিয়মিত দুইমাস ১৪ দিন রান্না চালিয়ে গেছেন স্ত্রী। লোমহর্ষক এমনই ঘটনা ঘটেছে মুন্সিগঞ্জের সদরের উপজেলার পূর্বশীলমন্দি এলাকায়। এ ঘটনায়  ‘দুর্ধর্ষ’ ঘাতক স্ত্রী আকলিমা আক্তারকে গ্রেফতারের পর নিহত স্বামী আরাফাত মোল্লার (৫০) মাটিচাপা পচাগলা লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ।

শুক্রবার সন্ধ্যা ৬টার দিকে নিহতের লাশ উদ্ধার করে মুন্সিগঞ্জ সদর থানা পুলিশ। এর আগে, এদিন সকাল ১১টায় আকলিমাকে আটক করা হয়। নিহত আরাফাত পূর্বশীলমন্দি এলাকার মৃত দুঃখাই মোল্লার ছেলে ও ৪ সন্তানের জনক।

এ বিষয়ে সদর থানা পুলিশ সূত্রে জানা যায়, চলতি বছরের গত ২ মে আরাফাত নিখোঁজ সংক্রান্তে ১৫ মে আরাফাতের স্ত্রী সদর থানায় একটি জিডি করেন। পরবর্তীতে ৩০ মে একটি মামলা করেন। মামলার বিষয়ে বিভিন্নভাবে তদন্ত চলিয়ে যায় পুলিশ।

পুলিশ জানায়, রান্নাঘরের মাটির নিচে স্বামীর লাশ চাপা দিয়ে চুলায় প্রতিদিন সংসারের সব রান্না করতেন আকলিমা। স্বামী নিখোঁজের অভিযোগ এনে নিজেই থানায় জিডি করেন। পরবর্তীতে মামলাও করেন স্ত্রী। এরপর আরাফাত মোল্লার খোঁজে মাঠে নামে পুলিশ। তবে আকলিমাকে নিয়ে সন্দেহ ছিল তাদের।

আকলিমার পেছনে একজন সোর্সও লাগান মামলার তদন্তে থাকা পুলিশ কর্মকর্তা। একপর্যায়ে গতকাল বৃহস্পতিবার ওই সোর্সের সঙ্গে কথা বলেন আকলিমা। হঠাৎ নিজের অজান্তেই স্বামীকে হত্যার কথা বলে ফেলেন। আকলিমার সঙ্গে কথা বলার দৃশ্য গোপনে মুঠোফোনে ধারণ করেন পুলিশের ওই সোর্স। পরে ভিডিওর ভিত্তিতে একইদিন বিকেল ৫টার দিকে আকলিমাকে আটক করে পুলিশ। এরপর তার দেওয়া তথ্যমতে নিজ বাড়ির রান্নাঘরের মাটির নিচে থেকে আরাফাত মোল্লার লাশ উদ্ধার করা হয়।

লাশ পুঁতে রাখার স্থান, ইনসেটে আরাফাত মোল্লা - ডেইলি বাংলাদেশ

পুলিশের হাতে আসা ভিডিওতে দেখা যায়, আকলিমাই আরাফাতকে হত্যা করে ঘরের পাশে রান্নাঘরে পুতে রাখার বিষয়টি বলছে প্রতিবেশীর কাছে। এর প্রেক্ষিতে সকালে আকলিমাকে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ করলে পরকীয়াকে কেন্দ্র করে সে ঘুমের ওষুধ খাইয়ে স্বামীকে হত্যা করেছে বলে পুলিশের কাছে স্বীকার করে। পরে আকলিমাকে ঘটনাস্থলে নেয়া হলে নিহতের লাশ পুঁতে রাখার স্থান দেখিয়ে দেয় সে। লাশ শনাক্তের পর পুলিশ সন্ধ্যা ৬টার দিকে ঘটনাস্থল থেকে মাটি খুড়ে দেহাবশেষ উদ্ধার করে।

মুন্সিগঞ্জ সদর থানার ওসি আবুবকর সিদ্দিক জানান, বিশ্বস্ত সূত্রে আমরা জানতে পারি আকলিমাই আরাফাতকে হত্যা করেছে। এ ঘটনায় আটকের পর আকলিমা স্বীকার করে তার স্বামীর একটি মহিলার সঙ্গে পরকীয়ার সম্পর্ক ধরে এ হত্যাকাণ্ড ঘটানো হয়। হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় স্ত্রী আকলিমা ও জড়িতে সন্দেহে রিয়াজ নামের অপর আরেকজনকে আটক করা হয়েছে। ঘটনাস্থলে মাটিতে পুঁতে রাখা নিহতের দেহাবশেষ উদ্ধার করা হয়েছে।

ডেইলি বাংলাদেশ/টিআরএইচ