একটু মাথা গোঁজার ঠাঁই চান আফজাল 

একটু মাথা গোঁজার ঠাঁই চান আফজাল 

ঝালকাঠি প্রতিনিধি ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

প্রকাশিত: ১২:৫৯ ১০ জুন ২০২১   আপডেট: ১৩:১২ ১০ জুন ২০২১

একটু মাথা গোঁজার ঠাঁই চান আফজাল 

একটু মাথা গোঁজার ঠাঁই চান আফজাল 

গরিবের ঘরে জন্ম নেয়া আফজাল হোসেন পাননি কোনো পৈত্রিক সম্পত্তি। বাবার সঙ্গে যে ঘরে বসবাস করে শিশু সময় পার করেছেন তা ছিলো নানা বাড়ি থেকে পাওয়া জমি। 

বাবা-মা মারা যাওয়ার পর ওই জমি এক মামা তার নামে রেকর্ড করে নেন। কৈশোর বয়সেই সম্পত্তিহীন হয়ে বিভিন্ন জায়গায় থেকে জীবন পার করছেন। প্রাপ্ত বয়স্ক হওয়ার পর আরেক গরিবের মেয়েকে বিয়ে করেন তিনি। 

স্থানীয় এবং প্রতিবেশীদের দয়ায় অব্যবহৃত স্থানে শুরু হয় তার সংসারিক জীবন। এরপর একে একে তিন ছেলে ও তিন কন্যা সন্তানের জনক হন আফজাল হোসেন। এখন তার বয়স ৬০ এর কোঠায়। জীবনের শেষ প্রান্তে এসেও একটু মাথা গোঁজার ঠাঁই নেই আফজাল হোসেনের। 

কখনো পরিত্যক্ত গোয়ালঘর, কখনো খালি বারান্দা, আবার কখনো অব্যবহৃত রান্না ঘরে আশ্রয় নিয়ে জীবন অতিবাহিত করছেন তিনি। তার জন্মস্থান রাজাপুর উপজেলার শুক্তাগড় ইউপির সাকরাইল গ্রামে। আফজাল হোসেনের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে তার জীবনের করুণ কাহিনী। 

তিনি জানান, সাকরাইল গ্রামের নুরুল ইসলামের ঘরে ষাট বছর আগে জন্ম হয় একবোন ও তিন ভাইয়ের। কিশোর বয়সেই তার বাবা মারা যান। মায়ের বাবার বাড়ি থেকে একখণ্ড জমিতে কোনোমতে ঘর করে বসবাস করতেন। প্রথমে তার বাবা মারা গেলে মায়ের সঙ্গেই থাকতেন। অতিকষ্টে জীবনযাপন করেন। এরই মধ্যে মা রোকেয়া বেগমও মারা যান। এরপর জ্ঞাতি এক মামা তার নামে জমিটুকু রেকর্ড করে নেন। ভূমিহীন হয়ে পড়েন তারা। এসব কারণে লেখাপড়া করতে পারেননি। 

বোন ও অন্যদের মাথা গোঁজার ঠাই না থাকায় এলাকা ছেড়ে বিভিন্ন স্থানে কাজ নেন। জন্ম স্মৃতি ধরে রাখতে জন্মস্থান ত্যাগ করেননি আফজাল। কয়েকবছর পর প্রাপ্ত বয়স্ক হলে বিয়ে করার উদ্যোগ নেন। ভূমি ও সম্বলহীন আফজাল বিয়েও করেন এক দরিদ্র পরিবারের সন্তান রুমাকে। প্রতিবেশীর দয়ায় তাদের পরিত্যক্ত বারান্দায় শুরু হয় দাম্পত্য জীবন। 

পরিত্যক্ত গোয়ালঘর, কখনো খালি বারান্দা আবার কখনো অব্যবহৃত রান্না ঘরে বসবাস করেই জীবনের সময়টুকু অতিবাহিত করছেন। এরই মধ্যে তাদের সাংসারিক জীবনে তিন ছেলে ও তিন কন্যা সন্তানের জন্ম হয়। শ্রমজীবী আফজাল দিনমজুরি করে যতটুকু উপার্জন করতেন তা আটজনের সংসারে দু’বেলা দু’মুঠো খাবার জোগানোই কষ্টকর। বড় মেয়েকে বিয়ে দিতে পারলেও বাকি দুই মেয়েকে বিয়ে দিতে পারেন নি।  

অসহায় আফজাল প্রধানমন্ত্রীর উপহার আবাসনে একটু মাথা গোঁজার ঠাঁই পেতে অনুরোধ জানান ডিসি ও ইউএনওর কাছে। 

স্থানীয় ইউপি সদস্য মনির হোসেন সিকদার জানান, আফজাল হোসেনের একখণ্ড জমিও নেই যেখানে তিনি মাথা গোঁজার ঠাঁই করে নিবেন। শ্রমজীবীর কাজ করে যা উপার্জন করেন তা দিয়ে খেয়ে বেঁচে থাকাই দুঃসাধ্য। 

আমাদের গ্রামে সরকারি পরিত্যক্ত জায়গা আছে। যেখানে একটু মাথার গোঁজার ঠাঁই নিতে পারেন আফজাল। সরকারের আবাসন ব্যবস্থার মহতি উদ্যোগে ভূমিহীন আফজালকে যদি এমন সুযোগ করে দেয়া হতো তাহলে শেষ বয়সে একটু শান্তিতে বসবাস করতে পারতেন। 

ডেইলি বাংলাদেশ/এমকে