যেভাবে বাদী থেকে আসামি হলেন বাবুল আক্তার

যেভাবে বাদী থেকে আসামি হলেন বাবুল আক্তার

চট্টগ্রাম প্রতিনিধি ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

প্রকাশিত: ১৯:৪০ ১২ মে ২০২১   আপডেট: ১৯:৪৪ ১২ মে ২০২১

ছবি: ডেইলি বাংলাদেশ

ছবি: ডেইলি বাংলাদেশ

পাঁচ বছর আগে ছিলেন মামলার বাদী। পাঁচ বছর পর হলেন আসামি। এর মধ্যে ঘটে গেছে নানা নাটকীয়তা। স্ত্রী খুনের খবরে ঢাকা থেকে চট্টগ্রামে ছুটে আসা, অঝোর কান্নায় ভেঙে পড়া, ফেসবুকে আবেগঘন স্ট্যাটাসসহ নানা কর্মকাণ্ড আবেগাক্রান্ত করেছিল সহকর্মীসহ দেশের আপামর মানুষকেও।

কিন্তু এর সবটাই ছিল ‘অভিনয়’- আদালতে দেয়া দুই সাক্ষীর জবানবন্দি ও পিবিআইয়ের তদন্তে উঠে এসেছে এমনই তথ্য।

জানতে চাইলে আদালতে চূড়ান্ত প্রতিবেদন দেয়া মামলাটির তদন্ত কর্মকর্তা পিবিআই পরিদর্শক সন্তোষ কুমার চাকমা বলেন, স্ত্রী হত্যার তিনদিন পর ব্যবসায়িক অংশীদার সাইফুল হকের কাছে লাভের অংশ থেকে তিন লাখ টাকা চান বাবুল আক্তার। পরে ওই টাকা বিকাশের মাধ্যমে গাজী আল মামুনকে পাঠান সাইফুল। এরপর গাজী আল মামুন টাকাগুলো মুসা, ওয়াসিমসহ আসামিদের ভাগ করে দেন। তবে কাকে কত টাকা দেয়া হয়েছে, তা নিশ্চিত হওয়া যায়নি।  

সন্তোষ চাকমা আরো বলেন, মিতু হত্যার ভিডিও ফুটেজে বাবুল আক্তারের সোর্স এহতেশামুল হক ভোলা ও কামরুল শিকদার ওরফে মুসাকে দেখা গেলেও ঘটনার সঙ্গে জঙ্গিরা জড়িত বলে দাবি করেছিলেন বাবুল আক্তার। একইসঙ্গে সাইফুল হকের মাধ্যমে আসামিদের তিন লাখ টাকা বণ্টনের বিষয়টিও গোপন করেন তিনি।

এদিকে, মঙ্গলবার চট্টগ্রাম চট্টগ্রাম মহানগর হাকিম শফি উদ্দিনের আদালতে সাক্ষী হিসেবে জবানবন্দি দেন বাবুলের ব্যবসায়িক অংশীদার সাইফুল ও মামুন। সেখানে বাবুলের নির্দেশে স্ত্রী হত্যায় জড়িতদের টাকা দেয়ার বিষয়টি উল্লেখ করেন তারা।

একইদিন দুপুরে পিবিআই চট্টগ্রাম অঞ্চলের মেট্রো কার্যালয়ে যান বাবুল আক্তার। সেখানে তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করেন মামলার তদন্ত কর্মকর্তা পরিদর্শক সন্তোষ কুমার চাকমাসহ পিবিআইয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা। এরপর থেকে তাকে হেফাজতে নেয় পিবিআই। 

পরে বুধবার সকালে রাজধানীর ধানমন্ডিতে পিবিআই সদর দফতরে এক সংবাদ সম্মেলনে স্ত্রী হত্যার সঙ্গে বাবুলের সম্পৃক্ততা পাওয়া গেছে বলে জানান সংস্থাটির প্রধান ও পুলিশের উপ-মহাপরিদর্শক বনজ কুমার মজুমদার।

এরপর দুপুরে বাবুল আক্তারকে প্রধান আসামি করে নগরীর পাঁচলাইশ থানায় হত্যা মামলা করেন মিতুর বাবা মোশাররফ হোসেন। মামলায় বাবুল আক্তার ছাড়াও আরো সাতজনকে আসামি করা হয়। আসামিদের মধ্যে তিন লাখ টাকা বণ্টনের বিষয়টি মামলার এজহারে উল্লেখ করা হয়। 

এর পরপরই প্রায় পাঁচ বছর আগে করা বাবুল আক্তারের মামলাটির চূড়ান্ত প্রতিবেদন আদালতে জমা দেয় পিবিআই। সেই প্রতিবেদনেও উঠে আসে টাকা ভাগ-বাটোয়ারার কথা।

পরে দুপুর আড়াইটার দিকে বাবুল আক্তারকে আদালতে হাজির করে সাতদিনের রিমান্ডের আবেদন জানায় পিবিআই। শুনানি শেষে তার পাঁচ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন মহানগর হাকিম সরওয়ার জাহানের আদালত।

২০১৬ সালের ৫ জুন সকালে নগরের জিইসি মোড়ের কাছে ওআর নিজাম রোডে ছেলেকে স্কুলবাসে তুলে দিতে যাওয়ার পথে গুলি ও ছুরিকাঘাতে নির্মমভাবে খুন হন তৎকালীন পুলিশ সুপার বাবুল আক্তারের স্ত্রী মাহমুদা খানম মিতু। এ ঘটনায় বাবুল আক্তার বাদী হয়ে পাঁচলাইশ থানায় একটি হত্যা মামলা করেন।

মামলাটি তদন্ত করছিল নগর ডিবি পুলিশ। পরে গত বছরের জানুয়ারিতে ‘আদালতের নির্দেশে’ মামলার তদন্তভার পায় পিবিআই।

ডেইলি বাংলাদেশ/জেএস/এআর