নান্দাইলে অপরিকল্পিতভাবে গড়ে উঠেছে অর্ধশতাধিক হাট-বাজার

নান্দাইলে অপরিকল্পিতভাবে গড়ে উঠেছে অর্ধশতাধিক হাট-বাজার

আবু হানিফ সরকার, নান্দাইল (ময়মনসিংহ) ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

প্রকাশিত: ১৬:১৭ ৪ মে ২০২১   আপডেট: ১৬:১৮ ৪ মে ২০২১

নান্দাইলে অপরিকল্পিতভাবে গড়ে উঠেছে অর্ধশতাধিক হাট-বাজার

নান্দাইলে অপরিকল্পিতভাবে গড়ে উঠেছে অর্ধশতাধিক হাট-বাজার

দেশের যেখানেই রয়েছে পরিবেশবান্ধব সমতল ভূমি সেখানেই গড়ে উঠেছে মানব বসতি। কখনো অন্য জায়গা থেকে এসে বসতি গড়েছে কোথাও আবার নিজ বংশীয় জনসংখ্যা বৃদ্ধিতে গড়ে উঠেছে নতুন বসতি। আর সেখানে বসবাসরত মানবজীবের নানাবিধ প্রয়োজনের তাগিদে গড়ে উঠেছে হাট-বাজার।  

গত দুই দশকে ময়মনসিংহের নান্দাইল উপজেলার ১৩ টি ইউনিয়ন ও ১টি পৌরসভার বিভিন্ন গ্রামের আনাচে কানাচে গড়ে উঠেছে ৫৫টি গ্রামীণ হাট-বাজার। লাভ ক্ষতির হিসাব না করেই অপরিকল্পিতভাবে গড়ে উঠেছে এসব হাট-বাজার। স্থানীয় বাসিন্দারা এসব হাট বাজারের ভালো মন্দ দুটি দিকেই দেখছেন। 

উপজেলায় যেসব হাট-বাজার রয়েছে তার মধ্যে বীরবেতাগৈর ইউনিয়নে শিবপুর বাজার ও আত্নারামপুর পরিষদ বাজার। চরবেতাগৈর ইউনিয়নে চরশ্রীরামপুর নতুন বাজার, চরখামটখালী (লাদেনের মোড়), আতাউরের মোড়, বেলামারির চর, আনন্দ বাজার। মোয়াজ্জেমপুর ইউনিয়নে টেলাটেলির বাজার, ফকিরের বাজার, সিমান্ত বাজার, মোয়াজ্জেমপুর পরিষদ বাজার। 

নান্দাইলে অপরিকল্পিতভাবে গড়ে উঠেছে অর্ধশতাধিক হাট-বাজার

নান্দাইল সদর ইউনিয়নে বাণিজ্য বাজার, চিলার বাজার, ভাটি গুরুস্থান বাজার, মনাপাশা নতুন বাজার, জামতলা বাজার। চন্ডিপাশা ইউনিয়নে বনুরাকান্দা মোড়ের বাজার, আনন্দ বাজার, ছামারুল্লাহ বাজার, শান্তিনগর মোড় বাজার, খামাড়গাঁও পরিষদ বাজার। গাংগাইল ইউনিয়নে পাঁছবাড়িয়া বাজার, ঘাটা চৌরাস্তা মোড়,নসরতপুর অসহায় (করোনা) বাজার। মুসুল্লি ইউনিয়নে জনতার বাজার, লায়লার বাজার, মুসুল্লি মোড় মার্কেট, পালাহার আমলিতলা বাজার।

রাজগাতি ইউনিয়নে আউটারগাতী বাজার, জামতলা বাজার, শিমুল তলা বাজার, বড়াইল বাজার। সিংরইল ইউনিয়নে ফকিরের বাজার, দিলালপুর বাজার, ত্রিমুনি বাজার, রতনের বাজার, বন্ধু বাজার।

আচারগাঁও ইউনিয়নে সিংদই খালপাড় বাজার, কলেজগেইট বাজার, টংগিরচর খায়রুলের বাজার, আনন্দ বাজার, জনতা বাজার, আমলিতলা বাজার। শেরপুর ইউনিয়নে কামারিয়া বাজার, লংগারপাড় বাজার, মাদারিনগর মোড় মার্কেট নামে তিনটি বাজার সৃষ্টি হয়েছে। খারুয়া ইউনিয়নে একতা বাজার, জামতলা বাজার, গাবতলি বাজার। জাহাঙ্গীরপুর ইউনিয়নে বাড়ঘড়িয়া নতুন বাজার, বরিল্যা বাজার, মনপাশা বাজার। পৌরসভায় কাটলিপাড়া মডেল বাজার, বালিয়াপাড়া রাগের বাজার, চন্ডিপাশা মোড়ের বাজার। 

এসব বাজার তৈরিতে সব মিলিয়ে ৭-৮ হাজার একর জমি ব্যবহৃত হয়েছে। যার মধ্যে বেশিরভাগেই ২-৩ ফসলি ধান ও সবজি চাষের  জমি এর মধ্যে সামান্য  কিছু রয়েছে অকৃষি জমি।

নান্দাইলে অপরিকল্পিতভাবে গড়ে উঠেছে অর্ধশতাধিক হাট-বাজার

এছাড়া পুরাতন একাধিক হাট-বাজার পরিত্যক্ত অবস্থায় পড়ে রয়েছে, তার মধ্যে পুরাতন পাঁচানি বাজার (সরকারি ভূমিতে ২-৩ একর), আলমের বাজার, কালা সরকারের বাজার, মহেশখুড়া বঙ্গবন্ধু বাজার। এসব হাট-বাজারে পাঁচ -ছয় একরের মতো সম্পত্তি অব্যহৃত অবস্থায় পড়ে রয়েছে। তার মধ্যে কোনোটা সরকারি ভূমিতে কোনোটা ব্যক্তি মালিকানাধীন ভূমিতে। কোনোটায় আবার কিছু কিছু দোকানপাটও আছে। 

দুই বছর আগে ১ একর জমির ওপর প্রতিষ্ঠিত খামারগাঁও পরিষদ বাজার গড়ে উঠেছে। সেখানে দুই শতক জমিতে দুইটি দোকান রয়েছে। মজিবুর রহমান নামে এক বাজার মালিক বলেন, এই মুহূর্তে এই বাজারে তেমন কোনো উপকার নেই। বিকেলে কিছু নিত্য প্রয়োজনীয় জিনিস বেচাকেনা হয়। বেশি কিছু প্রয়োজন হলে পাশেই চন্ডিপাশা বাজার বা নান্দাইল সদর বাজারে চলে যায়। যদি ভবিষ্যতে এই বাজারের কোনো উন্নতি হয়। তখন লাভবান হওয়া যাবে। 

চন্ডিপাশা ইউপি চেয়ারম্যান শাহাবুদ্দিন ভূঁইয়া জানান, হাট-বাজারগুলো সৃষ্টি হওয়াতে মানুষ কর্মসংস্থান সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয়রা সহজেই তাদের নিত্য প্রয়োজনীয় পণ্য সামগ্রী সহজেই বাজার জাত করতে পারছে। মানুষ প্রয়োজনীয় পণ্যাদী হাতের নাগালে পাচ্ছে। 

নান্দাইল কৃষি অফিসার আনিসুজ্জামান এ বিষয়ে বলেন, সারাদেশে প্রতিবছর শতকরা এক ভাগ করে কৃষি জমি কমে যাচ্ছে। নান্দাইলও এই হিসাবের বাইরে নয়। এই সমস্ত হাট-বাজার সৃষ্টিতে একদিক থেকে যেমন ফসলি জমি কমছে তেমনি কৃষক তার ফসল সহজে বাজারজাত করতে পারছে। ভালো মন্দ দুটি দিকেই আছে। 

নান্দাইলে অপরিকল্পিতভাবে গড়ে উঠেছে অর্ধশতাধিক হাট-বাজার

সরেজমিনে একাধিক ব্যক্তির সঙ্গে কথা বললে তারা জানান, হাট-বাজারগুলো নির্দিষ্ট দূরত্বে পতিত জমিতে তৈরি করা দরকার। নান্দাইলে অনেক বাজার সৃষ্টি হয়েছে যেগুলো তেমন কোনো প্রয়োজন ছিল না। এই সব হাট-বাজারে অনেক দোকান পাট তৈরি করা হলেও সারাদিন কোনো লোকসমাগম নেই বেচাকেনাও নেই। যেসব বাজারে সন্ধ্যার পর কিছু লোকসমাগম হয় সেখানে চা দোকানগুলোতে সিনেমা হলের মতো চলচ্চিত্র বিভিন্ন অনুষ্ঠান সম্প্রচার হয়। সেখানে উঠতি বয়সের শিশু কিশোররাও জমিয়ে আড্ডা দেয়। এতে করে সামাজিক মূল্যবোধ নষ্ট হচ্ছে। 

উল্লেখিত বাজার-হাট গুলোর মধ্যে ৫ টি রয়েছে সরকারি ডাকের তালিকাভুক্ত। বাকি ৫০ টি এখনো সরকারের ইজারা আদায়ের লক্ষ্য তালিকাভূুক্ত হয়নি। 

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, উল্লেখিত পাঁচটিসহ নতুন পুরাতন মিলিয়ে উপজেলায় ৪৩ টি হাট-বাজার উপজেলা প্রশাসন ইজারা আদায়ের লক্ষ্য প্রতি বছর ডাক দিয়ে থাকে। সব মিলিয়ে নান্দাইল উপজেলায় ৯৩ টি হাট-বাজার রয়েছে। 

মানবাধিকার সংগঠক এনামুল হক বাবুল বলেন, এসব হাট-বাজার তৈরিতে নির্দিষ্ট নীতিমালা থাকা প্রয়োজন। যাতে যত্রতত্র এভাবে ফসলি জমি নষ্ট না হয়। যে হাট-বাজারগুলো তৈরি হয়েছে এবং রাজস্ব খাতের বাইরে রয়েছে সেগুলো রাজস্ব খাতে যুক্ত করার দাবি জানাই।

নান্দাইল উপজেলা সহকারী কমিশনার ভূমি মো. মাহফুজুল হক জানান, করোনাকালীন সময়ে মাত্র কিছুদিন হলো যোগদান করেছি। ইউনিয়ন ভূমি কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা বলে ইজারা উপযুক্ত সব হাট-বাজার তালিকাভুক্ত করে ডাকের ব্যবস্থা গ্রহণ করবো। 

ডেইলি বাংলাদেশ/এমকে