করোনা রোগীকে সেবা দেবে শাওনের রোবট

করোনা রোগীকে সেবা দেবে শাওনের রোবট

শামীম আহমেদ, বরিশাল ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

প্রকাশিত: ১৬:০৫ ১ মে ২০২১  

নিজের তৈরি রোবটের সঙ্গে স্কুলছাত্র শাওন

নিজের তৈরি রোবটের সঙ্গে স্কুলছাত্র শাওন

করোনা রোগীদের চিকিৎসা দিতে হিমশিম খাচ্ছেন চিকিৎসকরা। রোগী বাড়লেও চিকিৎসকের সংখ্যা তুলনামূলক অনেক কম। আবার অনেক চিকিৎসক রোগীর সংস্পর্শে গিয়ে আক্রান্তও হয়েছেন।

এ পরিস্থিতি মোকাবিলা করতে পারে রোবট। এতে করোনা রোগীর সেবা নিশ্চিত হওয়ার পাশাপাশি চিকিৎসকের আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকিও কমে যাবে। ‘মেডিক্যাল অ্যাসিস্ট্যান্ট’ নামে এমন একটি রোবট বানিয়েছেন বরিশালের স্কুলছাত্র শাওন সরদার সোলাইমান। তার রোবট করোনা রোগীর বেডের পাশে গিয়ে চিকিৎসা ও পরামর্শ দিতে পারবে।

শাওন সরদার সোলাইমান আগৈলঝাড়া উপজেলার গৈলা ইউনিয়নের ভদ্রপাড়ার দেলোয়ার সরদারের ছেলে। সে সরকারি গৈলা মডেল মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের দশম শ্রেণির ছাত্র।

শাওন বলেন, সংক্রমিত হওয়ার আশঙ্কায় চিকিৎসক-স্বাস্থ্যকর্মী-স্বজনরা করোনায় রোগীর কাছে যেতে দ্বিধাবোধ করেন। এমন পরিস্থিতি মোকাবিলায় এবং রোগীদের চিকিৎসা দিতে চিকিৎসকের সহায়ক হিসেবে কাজ করবে তার রোবট ‘মেডিক্যাল অ্যাসিস্ট্যান্ট’।

তিনি আরো বলেন, ২০২০ সালের মার্চে দেশে প্রথম করোনাভাইরাসের সংক্রমণ ধরা পড়ে। সে সময় দেখা গেছে- মা আক্রান্ত হলে সন্তানরা কাছে যাচ্ছে না, ছেলে-মেয়ের কাছ থেকে দূরে সরে থাকছেন বাবা-মা। এমনকি চিকিৎসা দিতে গিয়ে আক্রান্ত হয়েছেন অনেক চিকিৎসক। তখনই সিদ্ধান্ত নিয়েছি এমন একটি রোবট বানাবো- যা করোনা রোগীদের সেবা দিতে পারবে। এরপর অনলাইনে বিভিন্ন ভিডিও দেখে ‘মেডিক্যাল অ্যাসিস্ট্যান্ট’ রোবটটির সিস্টেম ডেভেলপ করতে শুরু করি। এর ডিজাইনও আমিই করেছি। কাজ প্রায় শেষের পথে।

শাওন বলেন, রোবটটি যেন স্বয়ংক্রিয়ভাবে করোনা রোগীর চিকিৎসা দিতে পারে- সেই প্রযুক্তি উন্নয়নে কাজ করছি। এ রোবট রোগীর বেডের পাশে গিয়ে চিকিৎসাসহ বিভিন্ন পরামর্শ দিতে পারবে। রোগীর শ্বাস-প্রশ্বাস পরীক্ষা, ভিডিওর মাধ্যমে চিকিৎসকের সঙ্গে রোগীর কথা বলিয়ে দেয়া, শারীরিক অবস্থা অনুযায়ী নিজেই পরামর্শ দেয়া ইত্যাদি কাজ করতে পারবে আমার ‘মেডিক্যাল অ্যাসিস্ট্যান্ট’ রোবট।

মেকানিক্যাল ইঞ্জিনিয়ার হওয়ার স্বপ্ন দেখেন স্কুলছাত্র শাওন। তিনি বলেন, পরিবার দেয়া হাত খরচের প্রায় ১৮ হাজার টাকা ব্যয়ে রোবটটি তৈরি করেছি। এতে বিশেষ ক্যামেরা, মাইক্রোফোন ও স্পিকার সংযুক্ত করা আছে। ইন্টারনেট সংযোগ থাকলে কম্পিউটার বা মোবাইলের মাধ্যমে যেকোনো স্থান থেকে একে নিয়ন্ত্রণ করা যাবে। সিস্টেম ডেভেলপমেন্টের কাজ শেষ হলেই এটির পরীক্ষা নেয়া হবে।

শাওনের বাবা দেলোয়ার সরদার বলেন, ছোটবেলা থেকেই বিভিন্ন যন্ত্রপাতি নিয়ে নতুন কিছু তৈরির চেষ্টা করত শাওন। নবম শ্রেণিতে পড়ার সময় থেকেই ওর মধ্যে রোবট তৈরির ঝোঁক দেখতে পাই। আমরা প্রথমে গুরুত্ব দেইনি। এখন সে হাত খরচের টাকা বাঁচিয়ে সত্যি সত্যিই রোবট বানিয়ে ফেলেছে।

আগৈলঝাড়ার ইউএনও মো. আবুল হাশেম বলেন, আমার উপজেলায় বেশ কয়েকজন শিক্ষার্থী প্রযুক্তি নিয়ে কাজ করছে। এটি আনন্দের সংবাদ। আমরাও তাদের সহায়তা করতে চাই। এই ক্ষুদে প্রযুক্তিবিদরা এক সময় বড় বিজ্ঞানী হবে বলে আমার বিশ্বাস। তাদের জন্য সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে পৃষ্ঠপোষকতার ব্যবস্থা করা হবে।

ডেইলি বাংলাদেশ/এআর