প্রবাসী স্ত্রীকে রেখে আরো দুটি বিয়ে, সন্তানকে হত্যার হুমকি

প্রবাসী স্ত্রীকে রেখে আরো দুটি বিয়ে, সন্তানকে হত্যার হুমকি

ফরিদপুর প্রতিনিধি ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

প্রকাশিত: ১৬:৫২ ২৮ এপ্রিল ২০২১  

ছবি: ডেইলি বাংলাদেশ

ছবি: ডেইলি বাংলাদেশ

ফরিদপুরের সালথা উপজেলার ইসমত আরা একজন প্রবাসী নারী শ্রমিক। ১০ বছরেরও বেশি সময় তিনি জর্ডান ও সৌদি আরবে রয়েছেন। বিদেশে টাকা রোজগার করে আড়াই লাখ টাকা দিয়ে স্বামীকেও ওমান পাঠান। আর সুমন, রুমন ও শোয়ায়েব নামে তিন শিশু সন্তানকে রেখে যান দাদা বাড়ি।

তাদের খরচের জন্য প্রতি মাসে টাকা দিয়েছেন। জমি কেনার জন্য স্বামীর বাড়িতে টাকাও পাঠিয়েছেন। কিন্তু স্বামী ফিরোজ খান এসব আত্মসাৎ করে আরো দুটি বিয়ে করেছেন। সন্তানদের ভরণপোষণ দিচ্ছেন না। উল্টো যৌতুক চাচ্ছেন।

উপজেলার মাঝারদিয়া ইউনিয়নের মুরাটিয়া গ্রামে বাবার ভিটায় বুধবার এক সংবাদ সম্মলনে ইসমত আরা এসব অভিযোগ করেন।

তিনি লিখিত বক্তব্যে বলেন, একাধিকবার এসব নিয়ে সালিশ হয়েছে। তবে সমাধান না পেয়ে গত ৪ এপ্রিল তিনি পারিবারিক আদালতে ভরণপোষণের দাবিতে একটি মামলা করেন। ওই মামলায় তার কলেজপড়ুয়া বড় ছেলে সুমন খানের কথা শুনে বিচারক তার স্বামীকে জেলহাজতে পাঠান। ১৫ দিন জেল খেটে বেরিয়ে এখন তার বড় ছেলেকে হত্যার হুমকি দিচ্ছেন তারই আপন বাবা।

সংবাদ সম্মলনে উপস্থিত ৯ বছর বয়সী মাদরাসাপড়ুয়া ছাত্র শোয়ায়েব জানায়, গত ৭ জানুয়ারি তার বাবা দেশে এলেও তাকে দেখতে আসেননি। এমনকি এই ৯ বছরেও একবারের জন্যও বাবার মুখটি দেখেনি সে।

ইসমত আরা বলেন, তার বাবা একজন দরিদ্র কৃষক ছিলেন। ভাইদের আর্থিক অবস্থাও ভালো না। তিনি স্বামীর কারণে সন্তানদের নিয়ে চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন। তিনি এর উপযুক্ত বিচার চান।

ইসমত আরার স্বামী ফিরোজ খান প্রথম স্ত্রীকে না জানিয়ে আরো দুটি বিয়ের কথা স্বীকার করেন। তবে তিনি দাবি করেন, গত চার বছর ধরে তিনি ছেলেদের খরচের জন্য টাকা দিয়েছেন। এ বিষয়ে তার কাছে প্রমাণও রয়েছে। ছেলেকে হত্যার হুমকির অভিযোগ অস্বীকার করেন। তার দাবি, প্রথম স্ত্রী ইমসত আরা বিদেশ যাওয়ার কিছুদিন পর তাকে ফোন করলে অপমান করতেন। এ কারণে তিনি ক্ষোভে আরো দুটি বিয়ে করেন।

ডেইলি বাংলাদেশ/আরএম