‘অঙ্কের জাদুকর’ এখন ভবঘুরে, ঘোরেন পথে পথে

‘অঙ্কের জাদুকর’ এখন ভবঘুরে, ঘোরেন পথে পথে

ঝিনাইদহ প্রতিনিধি ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

প্রকাশিত: ১৬:১৫ ১৭ এপ্রিল ২০২১   আপডেট: ১৬:২৬ ১৭ এপ্রিল ২০২১

‘অঙ্কের জাদুকর’ খ্যাত আব্দুল গাফফার

‘অঙ্কের জাদুকর’ খ্যাত আব্দুল গাফফার

অভিজাত পরিবারে সোনার চামচ মুখে নিয়ে জন্ম তার। ছাত্র হিসেবে ছিলেন দুর্দান্ত মেধাবী। কর্মজীবনে পেয়েছিলেন ‘অঙ্কের জাদুকর’ খেতাব। কঠিন ও জটিল অঙ্কের সমাধান করতেন খুবই সহজে। সুনামের সঙ্গে দীর্ঘদিন ঢাকায় শিক্ষকতাও করেছেন। একই সঙ্গে গণিত ও পদার্থ বিজ্ঞানের পণ্ডিত হিসেবে নিজ এলাকায় অধিক পরিচিত।

বীজগনিতের উৎপাদক বিশ্লেষণের ফর্মুলা আবিষ্কার করে হৈ চৈ ফেলে দেয়া সেই আব্দুল গাফ্ফারের দিন কাটে এখন পথে পথে। বয়স সত্তরের কাছাকাছি। গায়ে ময়লা কাপড়, মাথা ভর্তি এলোমেলো চুল। আপন মনে হেঁটে চলেন পথ দিয়ে।

একজন মেধাবী শিক্ষকের এমন করুণ পরিণতি দেখে পরিচিত জনরা হতবাক হলেও তার চিকিৎসার দায়িত্ব কেউ নেন না। অথচ তার শিক্ষা কত মেধাবীর সাফল্যের ভীত্তিপ্রস্তর স্থাপন করে দিয়েছে। আব্দুল গাফফারের অনেক ছাত্র আজ প্রশাসনের উচ্চপদে কর্মরত। ময়লা-ছেড়া জামাকাপড় গায়ে দিয়ে আব্দুল গাফ্ফার বছরের পর বছর ঘুরছেন পথে পথে। মসজিদ, স্কুল ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের বারান্দাই এখন তার বসবাসের জায়গা।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, মেধাবী শিক্ষক আব্দুল গাফ্ফার ঝিনাইদহ সদর উপজেলার খামারাইল গ্রামের কাজী আব্দুল কুদ্দুসের ছেলে। এলাকায় তাদের পরিবার অভিজাত ও সম্ভ্রান্ত হিসেবে পরিচিত। আব্দুল গাফ্ফারের মেজ ভাই কাজী আব্দুল গনি নির্বাচন কমিশনের যুগ্ম-সচিব হিসেবে অবসর নিয়েছেন। ছোট ভাই কাজী আব্দুল কাদের ঢাকায় আইনজীবী হিসেবে কর্মরত। তবে কোনো ভাইয়ের সংসার বা স্ত্রী-সন্তানা নেই।

গ্রামবাসী জানায়, মাত্র ১০ বছর বয়সে বাবাকে হারান আব্দুল গাফ্ফার। এরপর তিন ছেলে ও দুই মেয়ে নিয়ে বিপাকে পড়েন তার মা কাজী বদরুন্নেছা। সন্তানদের নিয়ে চলে যান মহেশপুর পৌর এলাকার জলিলপুর মোল্লা পাড়ায় নিজের বাবার বাড়িতে। বদরুন্নেছার দ্বিতীয় বিয়ে হয় যশোরের ঝিকরগাছা উপজেলার গোয়ালহাটি ও তৃতীয় বিয়ে হয় চুয়াডাঙ্গার দামুড়হুদা উপজেলার ছাউলিয়া গ্রামে।

এদিকে, নানা নুরুদ্দীন আহম্মেদের বাড়িতে পড়াশোনায় মনোনিবেশ করেন আব্দুল গাফ্ফার। বেড়ে ওঠেন তুখোড় মেধাবী ছাত্র হিসেবে। এলাকায় তার মেধার দ্যুতি ছড়িয়ে পড়ে। তিনি জগন্নাথ কলেজ থেকে কৃতিত্বের সঙ্গে বিএসসি ও এমএসসি পাস করে ঢাকার মানিকনগর ও পরে মতিঝিল মডেল মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষকতা শুরু করেন।

গাফফার বিয়ে করেন নড়াইলে। তার স্ত্রীও ছিলেন প্রধান শিক্ষক। কিন্তু অজ্ঞাত কারণে তাদের সংসার টেকেনি। ৩০ বছর ঢাকায় বসবাসের পর মহেশপুর ফিরে আসেন গাফফার।

আব্দুল গাফ্ফারের ছোট ভাইয়ের স্ত্রী ছিরবা আক্তার ঝর্ণা বলেন, আমার শাশুড়ি বদরুন্নেছা বেঁচে থাকতে মাঝে মধ্যে আমার ভাসুর আব্দুল গাফ্ফার বাড়িতে আসতেন। ২০০৬ সালে ২৭ মার্চ আমার শাশুড়ি মারা যান। এরপর আর কখনো আসেননি তিনি। আমার ছেলেও তাকে বাড়িতে ফিরিয়ে আনার চেষ্টা করেছে, কিন্তু পারেনি।

ডেইলি বাংলাদেশ/এআর