ডান চোখে সমস্যা, বাম চোখে অপারেশন

ডান চোখে সমস্যা, বাম চোখে অপারেশন

টাঙ্গাইল প্রতিনিধি ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

প্রকাশিত: ২০:০৩ ৭ এপ্রিল ২০২১   আপডেট: ২০:২৮ ৭ এপ্রিল ২০২১

ভূঞাপুর চক্ষু হাসপাতালের ল্যাব রিপোর্ট

ভূঞাপুর চক্ষু হাসপাতালের ল্যাব রিপোর্ট

রোগীর সমস্যা ডান চোখে, কিন্তু চিকিৎসক অপারেশন করলেন বাম চোখে। দায় এড়াতে ল্যাব টেকনিশিয়ানের ওপর দোষ চাপান অভিযুক্ত চিকিৎসক। এমনকি ঘটনা ধামাচাপা দিতে পরবর্তীতে বিনাপয়সায় ডান চোখের অপারেশন করে দেন তিনি।

চাঞ্চল্যকর এ ঘটনা ঘটেছে টাঙ্গাইলের ভূঞাপুর চক্ষু হাসপাতালে। প্রায় এক মাস হলেও এ ঘটনা তদন্তে কোনো ব্যবস্থা নেয়নি হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, মার্চ মাসের শুরুতে চোখের সমস্যা নিয়ে ভূঞাপুর চক্ষু হাসপাতালে যান পার্শ্ববর্তী গোপালপুর উপজেলার ঝাওয়াইল ইউনিয়নের হরিষা গ্রামের বৃদ্ধা সুফিয়া বেগম। ওই সময় টেস্টে তার ডান চোখে ব্লক ধরা পড়ে। রিপোর্ট দেখে হাসপাতালের আরএমও ডা. মো. ফারুক হাসান চোখ অপারেশনের পরামর্শ দেন। ৬ মার্চ ওই বৃদ্ধার ডান চোখের পরিবর্তে বাম চোখে অপারেশন করেন। ওই সময় ভুক্তভোগী রোগী বারবার আপত্তি জানালেও শোনেননি। পরবর্তীতে রোগীর স্বজনরা প্রতিবাদ করায় অভিযুক্ত চিকিৎসক জানান- অপারেশনে ভুল হয়নি, ল্যাব টেস্টের রিপোর্টে বাম চোখে ব্লক দেখান হয়েছে।

এদিকে রোগীর স্বজনরা উত্তেজিত হয়ে পড়লে এবং ভুল চিকিৎসা ধামাচাপা দিতে ১৬ মার্চ বিনাপয়সায় বৃদ্ধা সুফিয়া বেগমের ডান চোখের অপারেশন করে দেন ওই চিকিৎসক।

রোগী সুফিয়া বেগমের ছেলে জজ মিয়া বলেন, প্রথমবার ভুল অপারেশন হওয়ায় আমি দ্বিতীয়বার ডান চোখের অপারেশন করাতে আপত্তি জানাই। তবু ওই চিকিৎসক আমার মায়ের ডান চোখের অপারেশন করেন।

হাসপাতালের ল্যাব টেকনিশিয়ান সাদিয়া বলেন, টেস্ট রিপোর্টে ডান চোখেই ব্লক দেখান হয়েছে। চিকিৎসক কেন বাম চোখে অপারেশন করেছেন জানি না। নিজের দোষ তিনি আমার ওপর চাপাচ্ছেন।

ভূঞাপুর চক্ষু হাসপাতালের আরএমও ডা. মো. ফারুক হাসান বলেন, হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ রোগীর স্বজনদের সঙ্গে আলোচনা করে ওই ঝামেলার মীমাংসা করেছেন। পরবর্তীতে ওই রোগীর ডান চোখের অপারেশন বিনাপয়সায় করে দেয়া হয়েছে।

টাঙ্গাইলের সিভিল সার্জন ডা. আবুল ফজল মো. শাহবুদ্দিন খান বলেন, জেলা স্বাস্থ্য বিভাগের তত্ত্বাবধানে ঘটনাটির রহস্য উদঘাটনে শিগগিরই তদন্ত কমিটি গঠন করা হবে। কমিটির প্রতিবেদন অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

ডেইলি বাংলাদেশ/এআর