খিরা চাষে বাম্পার ফলন, কৃষকের মুখে হাসি

খিরা চাষে বাম্পার ফলন, কৃষকের মুখে হাসি

রানা আহমেদ, সিরাজগঞ্জ ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

প্রকাশিত: ১৬:৩২ ৭ মার্চ ২০২১   আপডেট: ১৭:৩৯ ৭ মার্চ ২০২১

ছবি: ডেইলি বাংলাদেশ

ছবি: ডেইলি বাংলাদেশ

উত্তরাঞ্চলের শস্যভাণ্ডার হিসেবে খ্যাত সিরাজগঞ্জ। বর্তমানে সিরাজগঞ্জে খিরার ফলনের সঙ্গে দামও ভালো পাওয়ায় কৃষকের মুখে হাসি ফুটেছে। প্রতিদিন সকাল থেকে বিকেল পর্যন্ত ক্রয়-বিক্রয় হচ্ছে কয়েকশ টন খিরা।

চলনবিল অধ্যুষিত তাড়াশ ও উল্লাপাড়ার উৎপাদিত খিরা স্থানীয় চাহিদা পূরণ করে আড়ত থেকে প্রতিদিন শতাধিক ট্রাক খিরা ঢাকা, চট্টগ্রাম, বগুড়া, সিলেটসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে সরবরাহ করা হচ্ছে।

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতর সূত্রে জানা যায়, চলতি বছরে সিরাজগঞ্জের তাড়াশ, শাহজাদপুর, উল্লাপাড়া, রায়গঞ্জ, নাটোরের সিংড়া, গুরুদাসপুর, পাবনার চাটমোহর ও ভাঙ্গুড়া উপজেলার মাঠে প্রায় ১৫ হাজার হেক্টর জমিতে বিভিন্ন জাতের খিরা চাষ করা হয়েছে। এ বছর প্রাকৃতিক দুর্যোগ না থাকায় এবং বীজ, সার ও কীটনাশক সুলভ মূল্যে পাওয়ায় খিরার বাম্পার ফলন হয়েছে। প্রতি বিঘা জমিতে খিরা চাষ করতে প্রায় ১২-১৫ হাজার টাকা ব্যয় হয়। ১ বিঘা থেকে উৎপাদিত খিরা বিক্রি হয় ৩৫-৪০ হাজার টাকায়। এ আবাদে পোকা-মাকড়ের আক্রমণ কম, তাই খিরা চাষে কৃষকের আগ্রহ বেশি।

স্থানীয় কৃষকদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, চলনবিলের তাড়াশ, নাটোরের সিংড়া ও বগুড়ার শেরপুরের কৃষকদের উৎপাদিত খিরা বেচাকেনার জন্য তাড়াশ উপজেলার দিঘরিয়া আড়তটি প্রায় ২০ বছর আগে চালু হয়। সিরাজগঞ্জ, নাটোর ও বগুড়া জেলার খিরা চাষিরা এই হাটে বিক্রি করতে আসেন। প্রায় ৪০ থেকে ৫০টি ট্রাক প্রস্তুত থাকে। প্রতিদিন বেলা ১০টা থেকে শুরু হয় বেচাকেনা। মহাজনরা খিরা কিনে ট্রাকে লোড দিতে থাকেন।

এ কাজে নিয়োজিত রয়েছে প্রায় ৩৫ থেকে ৪০ জন শ্রমিক। কেনাবেচার ১-২ ঘণ্টার মধ্যে ভরে যায় মহাজনদের আড়ত। হাটে প্রচুর খিরা আমদানি হওয়ায় ওজনের পরিবর্তে বস্তা চুক্তিতে বিক্রি করা হয়। প্রকার ভেদে প্রতি ছোট বস্তা খিরা বিক্রি হয় ৩০০ থেকে ৩৫০ টাকা এবং প্রতি বড় বস্তা বিক্রি হয় ৬৫০ থেকে ৭০০ টাকা পর্যন্ত। এ হাটটি ফেব্রুয়ারি থেকে শুরু হয়ে চলে এপ্রিল মাস পর্যন্ত।

তাড়াশ উপজেলার তালম ইউনিয়নের নামাসিলোট গ্রামের খিরা চাষি রায়হান জানান, প্রতি বিঘা জমিতে খিরার আবাদ করতে ১২-১৫ হাজার টাকার মতো খরচ হয়েছে। এবার বিঘা প্রতি খিরা বিক্রি হচ্ছে ৩০-৩৫ হাজার টাকায়।

ব্যবসায়ী রফিকুল ইসলাম বলেন, তাড়াশ অঞ্চলের উৎপাদিত খিরার মান ভালো, দামও কম। খিরার মান ভালো হওয়ায় এর কদর সারাদেশে রয়েছে। রাজধানী ঢাকাসহ পাবনা, কুষ্টিয়া, ঝিনাইদহ, ঢাকার কারওয়ান বাজার, নারায়ণগঞ্জসহ দেশের বিভিন্ন এলাকায় খিরা রফতানি হচ্ছে।

ছবি: ডেইলি বাংলাদেশউল্লাপাড়া উপজেলার নজরুল ইসলাম ও জালাল উদ্দিনসহ একাধিক কৃষক জানান, এলাকায় খিরা চাষের জন্য জমি লিজ পাওয়াই যায় না। কারণ খিরা চাষে কৃষক লাভ পাওয়ায় তারা এই চাষে ঝুঁকে পড়েছেন। আর যাদের নিজস্ব জমি আছে তারা আরো বেশি লাভবান হচ্ছেন।

জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের উপপরিচালক আবু হানিফ জানান, অল্প সময়ে স্বল্প বিনিয়োগে অধিক লাভ করা যায়। দেশীয় উফশী ও হাইব্রিড দুই জাতের খিরা চাষ হয়েছে। জেলায় এ বছর ৬৮০ হেক্টর জমিতে খিরা চাষ করা হয়েছে। এরমধ্যে খিরার সবচেয়ে বেশি চাষ হয়েছে তাড়াশ উপজেলায়। খিরা চাষে কৃষকরা ব্যাপক সফলতা পেয়েছেন। তারা বিঘা প্রতি খরচ বাদে ২৫-৩০ হাজার টাকা করে লাভ করছেন। কৃষকরা আগামীতে খিরা চাষে আরো উদ্যোগী হবেন বলে তিনি মনে করেন।

ডেইলি বাংলাদেশ/আরএম/এইচএন