সবজিতে বদলে যাচ্ছে জীবন

সবজিতে বদলে যাচ্ছে জীবন

কাজী মফিকুল ইসলাম, আখাউড়া ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

প্রকাশিত: ১০:২৬ ৫ মার্চ ২০২১   আপডেট: ১৫:৪৩ ৫ মার্চ ২০২১

সবজি তুলে প্রস্তুত রাখেন চাষিরা

সবজি তুলে প্রস্তুত রাখেন চাষিরা

ভোর হলেই চাষিরা ছুটে যান সবজি ক্ষেতে। কারণ বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গেই আসেন বিভিন্ন জেলার পাইকাররা। তাই আগেভাগেই সবজি তুলে প্রস্তুত রাখেন তারা।

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আখাউড়া উপজেলার ধরখার ইউনিয়নের বনগজ গ্রামে প্রায় প্রতিদিনই এমন চিত্র দেখা যায়। তিতাস নদী ঘেঁষা বনগজ বিলে সবজি আবাদ যেন প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের এক অপূর্ব লীলাভূমিতে পরিণত হয়ে উঠেছে।

ক্ষেত থেকে করলা তুলছেন চাষিরা

বনগজ বিলের পতিত জমিতে কোনো প্রকার কীটনাশক ছাড়াই করলা, মিষ্টি কুমড়া, টমেটো, খিরাসহ বিভিন্ন ধরনের সবজি চাষে বদলে যাচ্ছে শতাধিক কৃষকের জীবনযাত্রা।

উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের তথ্যমতে, চলতি মৌসুমে বনগজ এলাকায় প্রায় ২৫ হেক্টর জমিতে সবজি চাষ হয়েছে। কম খরচে বেশি লাভ হওয়ায় গত বছরের তুলনায় এবার সবজির আবাদ হয়েছে অনেক বেশি।

করলা বস্তায় ভরছেন কৃষক

কৃষকরা জানান, ধান ও পাটের ফলন ভালো না হওয়ায় বর্তমানে তারা নানা ধরনের সবজি চাষ করে সফলতা পেয়েছেন। ফলে সবজি চাষেই বদলে দিয়েছে এ গ্রামের শতাধিক পরিবারের ভাগ্যের চাকা। ফলন ভালো হওয়ায় প্রতি বছরই বাড়ছে সবজি চাষের পরিধি।

চলতি মৌসুমে কি পরিমাণ সবজি উৎপাদন হয়েছে এর সঠিক তথ্য কৃষি অফিসে না থাকলেও প্রায় দেড় কোটি টাকার ওপর সবজি বিক্রি হবে জানিয়েছেন কৃষি কর্মকর্তারা। সবজির কারণে বনগজ গ্রামটি ‘সবজি গ্রাম’ হিসেবেই মানুষ চেনেন।

ক্ষেতে ব্যস্ত সময় পার করছেন কৃষকরা

সরেজমিনে দেখা যায়, কৃষক মো. রমজান মিয়া, মো. রুহুল আমীন, মো. সহিদুল ইসলাম, মো. হিরণ মিয়া, মো. কবির মিয়া, মো. সৈয়দ খান সর্দার. মো. ইরন খান. মো. জামির হোসেন সরকারসহ অনেকেই সবজি পরিচর্যাসহ বাজারজাত করতে ব্যস্ত সময় পার করছেন। পুরুষদের পাশাপাশি নারীরাও এসব কাজে সহযোগিতা করছেন। সবজি ক্ষেত যেন গোটা গ্রামটিকে সাজিয়েছে সবুজের সমারোহে। এছাড়া গ্রামের হতদরিদ্র অনেকেই সবজি ক্ষেতে কাজ করে ঘুচিয়েছেন বেকারত্ব।

কৃষক মো. জামির হোসেন বলেন, বনগজ বিলে বর্ষার সময় প্রায় পাঁচ মাস পানি থাকে। এ সময় কোনো কিছু করা যায় না। কিন্তু এবার বন্যার পানি আগে চলে যাওয়ায় ৬০ শতাংশ জমিতে করলা, মিষ্টি কুমড়া, খিরাসহ বিভিন্ন ধরনের সবজি চাষ করেছি। এতে আমার ৫০ হাজার টাকার বেশি খরচ হয়েছে। তবে এরই মধ্যে ৮০ হাজার টাকার সবজি বিক্রি করেছি।

পুরুষের সঙ্গে নারীরাও সময় দিচ্ছেন সবজি ক্ষেতে

তিনি বলেন, ধান চাষে লোকসান হওয়ায় প্রায় আট বছর ধরে সবজি চাষ করছি। এ বছর ফলন ও বাজার দর ভালো হওয়ায় যাবতীয় খরচ বাদে প্রায় এক লাখ টাকা আয় হবে বলে আশাবাদী।

কৃষক হিরণ মিয়া বলেন, দেশীয় পদ্ধতিতে এ বছর প্রায় ৫০ শতাংশ জমিতে করলা ও খিরা চাষ করেছি। এতে খরচ হয়েছে প্রায় ৪০ হাজার টাকা। তবে গত ১০ দিনে ৪০ হাজার টাকার সবজি বিক্রি করছি। বাজার দর ভালো থাকলে গত বছরের চেয়ে দ্বিগুণ লাভ করতে পারব।

উপজেলা সহকারী কৃষি কর্মকর্তা মো. জহিরুল হক বলেন, সবজি চাষের জন্য বনগজ গ্রাম খুবই উপযোগী। কম খরচে লাভ বেশি হওয়ায় সবজি চাষের দিকেই ঝুঁকছেন চাষিরা। সবজি চাষে উদ্বুদ্ধ হতে কৃষকদের সব সময় পরামর্শ দেয়া হয়।

ডেইলি বাংলাদেশ/এমআর/জেএইচ/এমকেএ