চারমাসেও উদ্ধার হয়নি ৬০ লাখ টাকার কাপড়

চারমাসেও উদ্ধার হয়নি ৬০ লাখ টাকার কাপড়

নরসিংদী প্রতিনিধি ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

প্রকাশিত: ১৭:৫১ ১ মার্চ ২০২১   আপডেট: ১৭:৫২ ১ মার্চ ২০২১

কালীহাতি থানা-ফাইল ফটো

কালীহাতি থানা-ফাইল ফটো

ট্রাক ছিনতাইয়ের প্রায় ৪ মাস অতিক্রান্ত হলেও ৬০ লাখ টাকার লুণ্ঠিত কাপড় এখনো উদ্ধার করতে পারেনি টাঙ্গাইলের কালিহাতী থানা পুলিশ। এরই মধ্যে পাঁচজন ছিনতাইকারীকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দিও দিয়েছে তারা। এরপরও লুণ্ঠিত কাপড়গুলো উদ্ধার হয়নি।

কাপড়ের আড়তদার বাবুরহাটের ব্যবসায়ী মো. ইমাম হোসেন জীবনের কষ্টার্জিত সম্পদ হারিয়ে এখন নরসিংদী-টাঙ্গাইল দৌড়াদৌড়ি করে পাগল প্রায়। বাড়িঘর সন্তান-সন্ততি ছেড়ে লুণ্ঠিত কাপড়ের জন্য কালিহাতী এলাকায় ৪ মাস ধরে হন্যে হয়ে ঘুরে বেড়াচ্ছেন তিনি। কিন্তু ছিনতাই হওয়া কাপড় উদ্ধারের কোনো কিনারাই হচ্ছে না।  

আড়তদার ইমাম হোসেন জানান, গত বছরের ৬ নভেম্বর নরসিংদীর শেখেরচর বাবুরহাট থেকে ৬০ লক্ষাধিক টাকার বিভিন্ন ধরনের ৩৬ বেল কাপড় মারিয়া এন্টারপ্রাইজের একটি ট্রাকে ভর্তি করে নওগাঁর উদ্দেশ্যে প্রেরণ করেন। ট্রাকের ড্রাইভার ছিল রবিউল আওয়াল এবং কাপড়ের স্কর্ট ছিল মো. আলামিন। 

রাত সাড়ে দশটায় ট্রাকটি টাঙ্গাইলের বঙ্গবন্ধু সেতুর পূর্ব থানাধীন মহাসড়কের ৩ নম্বর ব্রিজ সংলগ্ন পূর্বপাশে পৌঁছার সঙ্গে সঙ্গে পেছন দিক থেকে একটি প্রাইভেটকার ওভারটেক করে সামনে গিয়ে ট্রাকটির গতিরোধ করে। এরপর প্রাইভেটকার থেকে মুখোশধারী তিনজন ছিনতাইকারী নেমে কাপড়ের স্কর্ট আলামিনকে গাড়ি থেকে নামিয়ে প্রাইভেটকারে উঠিয়ে এলেঙ্গার দিকে নিয়ে যায়। 

এরপর ট্রাকের পেছন দিক থেকে একজন ছিনতাইকারী ট্রাকের কেবিনে ঢুকে ড্রাইভারকে স্টিয়ারিং থেকে সরিয়ে স্টিয়ারিং দখল করে নেয়। পরে আরো দুইজন কেবিনে উঠে দুই দিক থেকে ড্রাইভারকে ছুরি উঁচিয়ে ধরে রাখে। এই অবস্থায় ছিনতাইকারীর ড্রাইভ করে কালিহাতী লিংক রোড দিয়ে রেললাইনের কাছে রাস্তার ওপর দিয়ে চলে যায়। এসময় ৭-৮ জন ছিনতাইকারী কালো রঙের একটি হাইয়েস গাড়ি নিয়ে ট্রাকের কাছে গিয়ে ড্রাইভার রবিউল ও হেলপার ফজলুর রহমান জোর করে গাড়িতে উঠিয়ে কাপড় দিয়ে চোখ, মুখ ও হাত বেঁধে অজ্ঞাত স্থানে নিয়ে যায় এবং কয়েকটি মোবাইল ফোন ছিনিয়ে নেয়।

ট্রাকটি অজ্ঞাত স্থানে নিয়ে ৩৬ বেল কাপড় লুট করে নিয়ে যায়। কাপড় লুণ্ঠন শেষে ৭ নভেম্বর সাড়ে ৮টায় ড্রাইভার রবিউল হেলপার ফজলুর রহমান ও কাপড়ের স্কর্ট আলামিনকে হাত-পা ও চোখ বেঁধে টাঙ্গাইলের ধনবাড়ী থানার পানকাতা বাজার সংলগ্ন একটি মাদরাসার পাশে ফেলে রেখে চলে যায়। 

পরে লোকজনের সহযোগিতায় তারা বাঁধন মুক্ত হয়ে ঘটনাটি আড়তদার ইমাম হোসেনকে অবহিত করে। ইমাম হোসেন ও দুজন আড়তদারকে নিয়ে ঘটনাস্থলে গিয়ে সবকিছু শুনে কালিহাতী থানায় ৭ নভেম্বর তিনি মামলা করেন। মামলা হওয়ার পর এখনো পর্যন্ত মালামাল উদ্ধার হয়নি। তবে ৫ জন ছিনতাইকারী ধরা পড়েছে বলে তিনি জানিয়েছেন।

তারা হলো জামলপুর জেলার মুসলিমাবাদ গ্রামের সাইদুর রহমানের ছেলে মো. ফারুক হোসেন, একই জেলার বেলতল মেলান্দহ গ্রামের সোহরাব আলীর ছেলে মো. হাফিজুর, শেরপুর জেলার চক সাহাবদী গ্রামের দুদু মিয়ার ছেলে মিরাজ, পাবনা জেলার দক্ষিণ রাঘবপুর গ্রামের আবুল কাশেম মোল্লার ছেলে সোহেল রানা, একই জেলার চর সাহাবদী গ্রামের মুসলিম উদ্দিনের ছেলে মুছা মিয়া। 

আসামিরা বর্তমানে জেল হাজতে রয়েছে। তাদের ১৬৪ ধারা জবানবন্দিতে আরো ৭-৮ জন আসামি পলাতক রয়েছে বলে জানান। 

এ ব্যাপারে মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা প্রকাশের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, কাপড় উদ্ধারের জন্য এবং বাকি আসামি গ্রেফতারের চেষ্টা অব্যাহত রয়েছে। আমরা আপ্রাণ চেষ্টা করছি লুণ্ঠিত কাপড় উদ্ধারের। মামলার বাদীকে নিয়ে আমরা বিভিন্ন জায়গায় অভিযান চালাচ্ছি। 

ডেইলি বাংলাদেশ/জেএইচ