সড়ক-মার্কেট দখল করে গরুর হাট

সড়ক-মার্কেট দখল করে গরুর হাট

বেলাব (নরসিংদী) প্রতিনিধি  ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

প্রকাশিত: ১৫:২৫ ২৩ ফেব্রুয়ারি ২০২১   আপডেট: ১৫:৪৩ ২৩ ফেব্রুয়ারি ২০২১

হাটের দিনে প্রধান সড়ক, গুরুত্বপূর্ণ মার্কেট, সোনালী ব্যাংকের প্রবেশপথসহ প্রায় দেড় শতাধিক ব্যবসা প্রতিষ্ঠান কার্যত বন্ধ থাকে।

হাটের দিনে প্রধান সড়ক, গুরুত্বপূর্ণ মার্কেট, সোনালী ব্যাংকের প্রবেশপথসহ প্রায় দেড় শতাধিক ব্যবসা প্রতিষ্ঠান কার্যত বন্ধ থাকে।

গরুর হাটের জন্য নির্ধারিত স্থান থাকলেও সাপ্তাহিক হাটের দিনে প্রধান সড়ক, গুরুত্বপূর্ণ মার্কেট, সোনালী ব্যাংকের প্রবেশপথসহ প্রায় দেড় শতাধিক ব্যবসা প্রতিষ্ঠান কার্যত বন্ধ থাকে। এমন বাস্তব চিত্র নরসিংদির বেলাব উপজেলার পোড়াদিয়া বাজারের। 

বেলাব উপজেলার পোড়াদিয়া বাজারটি অনেক পুরাতন ও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বেলাব, মনোহরদী, বাজিতপুর ও কটিয়াদি উপজেলার মানুষের নির্ভরযোগ্য ব্যবসা কেন্দ্র এ বাজারে হাজার হাজার মানুষ দরকারি পণ্য কেনা-বেচা, ব্যাংকে আর্থিক লেনদেন, রোগীদের স্বাস্থ্যসেবাসহ নানাবিধ প্রয়োজনে আসেন। 

সপ্তাহে দু’দিন হাট বসলেও সাধারণত বৃহস্পতিবার সবচেয়ে জমজমাট হয়। বাজার ঘুরে দেখা যায়, প্রধান সড়ক সংলগ্ন পশ্চিম পাশে গরুর হাট অবস্থিত। এর ঠিক উত্তর পাশে সোনালী ব্যাংক ও কাপড়ের মার্কেট। পাশাপাশি কসমেটিকস, ফ্রিজ, টেলিভিশন ও ইলেকট্রনিক পণ্যের শো-রুম। 

প্রতি বৃহস্পতিবার গরুর হাট থাকায় এসব ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে নারী ক্রেতাসহ সব শ্রেণির ক্রেতার সংকটে কেনা-বেচা কার্যত বন্ধ থাকে। বিক্রেতারা চরম ক্ষোভ ও হতাশার কথা জানিয়ে গরুর হাট অন্যত্র সরানোর দাবি জানিয়ে আসছেন বহু আগে থেকেই। তবুও কর্ণপাত করছেন না কর্তৃপক্ষ। 

পার্শ্ববর্তী কটিয়াদি থানার বয়োবৃদ্ধ হানিফ মিয়া বলেন, ‘ডাক্তার দেহাইতে আইছিলাম বাপ, গরু আর গাড়ির লাগি ঢুকতাম পারছি না।’ 

অটোচালক নাসির মিয়া বলেন, ‘বাজারের দিন আশায় থাহি কিছু বেশি কামানোর লাইগ্যা। সব রাস্তা বন্ধ থাহায় খালি পকেটে বাড়িত যাওন লাগে।’ 

ফার্নিচার ব্যবসায়ী মো. এলাহি ভূঁইয়া বলেন, ‘বাজারের দিনে বহু ক্রেতা এসে ফিরে যায়। দোকানের সামনে গরু উঠা নামার কারণে হাটের দিনে এক টাকার ব্যবসাও করতে পারছিনা।’

ক্রেতা শরীফা খাতুন বলেন, পুরো রাস্তা ব্লক করে গরু বাজারের কারণে বাজারে আসা যাওয়া, কেনাকাটা কোনোটাই করতে পারছি না।

হাসেম আলী সুপার মার্কেটের মালিক মো. শাকিল মিয়া জানান, মার্কেটে মূলত কাপড়ের দোকান সবগুলো। এখানকার ক্রেতারা প্রায় অধিকাংশই নারী। গরুর হাটে প্রচুর ভিড় থাকায় কেউ বাজারে আসতে চায় না। এতে ব্যবসায়ীরা তাদের পণ্য বিক্রি করতে পারে না। প্রতিনিয়ত তারা আমার কাছে অভিযোগ করছে। অনেকেই পরিবার পরিজন নিয়ে নিদারুণ কষ্টে কাটাচ্ছে দিন।

গরুর হাটের ইজারাদার সাইদুল হক বলেন, হাটের দিনে প্রায় ৭-৮ টি উপজেলার গরু এখানে আসে বিভিন্ন পরিবহনের মাধ্যমে। গরুর হাটের স্থান খুব ছোট থাকায় গরু নিয়ে ব্যবসায়ীদের রাস্তায়, অলিগলির মধ্যেও দাঁড়াতে হয়। কর্তৃপক্ষের কাছে দাবি জানাচ্ছি গরুর হাটের পরিধি বাড়িয়ে দেয়ার জন্য।

পোড়াদিয়া বাজার কমিটির সভাপতি রমজান আলী বলেন, আমরা ছড়িয়ে থাকা কাপড়ের মার্কেটটিকে পরিকল্পনা মাফিক একটা স্থানে নিয়ে এসে বড় দুইতলা বা তিনতলা মার্কেটের জন্য চেয়ারম্যানের মাধ্যমে যথাযথ কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণের আবেদন জানিয়েছি এক বছর আগেই।

পাটুলী ইউপি চেয়ারম্যান ইফরানুল হক ভূঁইয়া বলেন, আবেদন পেয়েছি। এরই মধ্যে এ ব্যাপারে বাজার কমিটির সঙ্গে আলাপ করেছি। অচিরেই ইউএনও’র কাছে এ ব্যাপারে আবেদন জানাব। ভুক্তভোগীদের হাহাকার আমাকেও কষ্ট দেয়।

ইউএনও শামীমা শারমিন জানান, অভিযোগ জানালে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করে নিশ্চয়ই প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করব।

ডেইলি বাংলাদেশ/এমকে/জেএইচ