সুনামগঞ্জে এবার স্বামীর ঘরে ফিরলেন ৫৪ স্ত্রী

ফের আদালতের যুগান্তকারী রায়

সুনামগঞ্জে এবার স্বামীর ঘরে ফিরলেন ৫৪ স্ত্রী

দিলাল আহমদ, সুনামগঞ্জ ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

প্রকাশিত: ১৭:২৩ ২২ ফেব্রুয়ারি ২০২১   আপডেট: ১৭:২৫ ২২ ফেব্রুয়ারি ২০২১

সুনামগঞ্জে আবারো আদালতের যুগান্তকারী রায়ে স্বামীর ঘরে ফিরলেন ৫৪ স্ত্রী

সুনামগঞ্জে আবারো আদালতের যুগান্তকারী রায়ে স্বামীর ঘরে ফিরলেন ৫৪ স্ত্রী

সুনামগঞ্জে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালে ৫৪টি মামলায় আপসের মাধ্যমে নিজ স্বামীর ঘরে ফিরলেন স্ত্রীরা। এ রায়ের মাধ্যমে যৌতুক ও নারী নির্যাতন মামলা থেকে ৫৪ জন স্বামী অব্যাহতির পাশাপাশি স্বাভাবিকভাবে সংসার করার সুযোগ পেলেন।

দীর্ঘদিনের বিচার প্রক্রিয়া শেষে সোমবার দুপুরে যুগান্তকারী এ রায় দেন ট্রাইব্যুনালের বিচারক জাকির হোসেন। হয়রানি থেকে মুক্তি, সংসারের ভবিষ্যৎ ও ৫৪ দম্পতির সন্তানদের কথা চিন্তা করে এ পদক্ষেপ নেয়া হয়। রায় ঘোষণার পর দম্পতিদের ফুল ও শিশুদের চকলেট দিয়ে শুভেচ্ছা জানানো হয়।

এছাড়া ১১টি মামলায় আপস না হওয়ায় ১১ জন স্বামীকে দেড় বছরের কারাদণ্ড দেয়া হয়েছে। সাজাপ্রাপ্ত আসামিরা হলেন- নূরুল ইসলাম, মো,শামীম, নজরুল ইসলাম, শাহেদ চৌধুরী, রকিবুল ইসলাম, ইমরান আহমদ, আল-আমিন, মো.সোহেল মিয়া, আল-আমিন, মইন উদ্দিন, রিপন মিয়া। তাদের মধ্যে একজন ছাড়া সবাই পলাতক।

রায় ঘোষণার পর দম্পতিদের ফুল ও শিশুদের চকলেট দিয়ে শুভেচ্ছা জানানো হয়

ট্রাইব্যুনালের বিচারক মো.জাকির হোসেন বলেন, এর আগেও এ ধরনের রায় দেয়া হয়েছে। পরিবারগুলোকে বাঁচাতে এবং তাদের সন্তানদের ভবিষ্যতের কথা ভেবে এ রায় দেয়া হয়েছে। পরিবারে ঝামেলা থাকবে, অভাব থাকবে। সবকিছু মানিয়ে নিয়েই চলতে হবে।

৫৪ দম্পতির উদ্দেশ্যে বিচারক বলেন, আবার কোনো ঝামেলা হলে আপনারা লিগ্যাল এইডে অভিযোগ দেবেন। সেখানে মামলা ছাড়াই বিচারকের মাধ্যমে অভিযোগ নিষ্পত্তি করতে পারবেন। জটিল কোনো ঝামেলা হলে আপনারা আবার আদালতে আসবেন। আদালতের দরজা আপনাদের জন্য সবসময় খোলা।

মামলা নিষ্পত্তি হওয়ার পর সুনামগঞ্জের ছাতক উপজেলার মইনপুরের রোখসানা বেগম বলেন, আমাদের ২০১৯ সালে পারিবারিক ঝামেলা সৃষ্টি হয়। পরে আমি নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালে মামলা দায়ের করি। আজ নিষ্পত্তির মাধ্যমে আদালত রায় দেয়। আমাদের চার সন্তান রয়েছে। আমি অনেক কষ্ট করেছি মামলার জন্য, সবসময় আদালতে হাজিরা দিতে হত। মামলা নিষ্পত্তি হওয়ায় আমি ছেলে মেয়ে স্বামীকে নিয়ে সুখে-শান্তিতে বসবাস করতে পারব। এ রায়ে আমি খুশি।

আইনজীবীরা জানান, প্রথমে স্বামীদের ভালো হওয়ার সুযোগ দেয় আদালত। পরে আপসের মাধ্যমে দুই পক্ষকে মিলিয়ে দেয়া হয়। এতে দুই পক্ষই লাভবান হবে, মামলা জট কমবে।

ট্রাইব্যুনালের পিপি নান্টু রায় বলেন, এটি একটি যুগান্তকারী রায়। এর আগেও ৪৭টি মামলা একইভাবে নিষ্পত্তি করে আদালত। এমন রায়ে মামলা জট কমবে। এছাড়া এভাবে সব মামলার রায় দ্রুত হলে বিচার প্রার্থীরাও হয়রানি থেকে মুক্তি পাবে।

ডেইলি বাংলাদেশ/এআর