‘শিশুটিকে ভালো লাগায়’ অপহরণ করেন মাদরাসার বাবুর্চি

‘শিশুটিকে ভালো লাগায়’ অপহরণ করেন মাদরাসার বাবুর্চি

চাঁদপুর প্রতিনিধি ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

প্রকাশিত: ০২:৫০ ২৭ জানুয়ারি ২০২১  

শিশু সিফাত উল্লাহ ও বাবুর্চি কেফায়েত উল্লাহ

শিশু সিফাত উল্লাহ ও বাবুর্চি কেফায়েত উল্লাহ

চাঁদপুরে মতলব উত্তরে মাদরাসার দশ বছরের এক শিক্ষার্থীকে অপহরণ করেছিলেন ওই মাদরাসার এক বাবুর্চি। তবে নিছক অপহরণ করে মুক্তিপণ আদায়ের জন্য নয়। শিশুটিকে ভালো লেগেছে, তাই স্নেহ ও ভালোবাসার টানে মাদরাসা ছেড়ে পাড়ি জমালেন নিজ বাড়িতে।

এমন দাবি ছিল অপহরণকারীর। তাছাড়া দুজনের নামে শেষে মিলও ছিল বেশ। শিশুটির নাম সিফাত উল্লাহ আর ওই বাবুর্চির নাম কেফায়েত উল্লাহ। অপহরণের পাঁচদিনের মধ্যে উদ্ধার করা হয় শিশু সিফাত উল্লাহকে। আর এই অপহরণের অভিযোগে গ্রেফতার করা হয় বাবুর্চি কেফায়েত উল্লাহকে।

পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, গত ২১ জানুয়ারি মতলব উত্তরের ষাটনল দারুল উলুম কাসেমিয়া ইসলামিয়া এতিমখানা ও মাদরাসার ছাত্র সিফাত উল্লাহকে অপহরণ করে নিয়ে যান একই মাদরাসার বাবুর্চি কেফায়েত উল্লাহ। এ ঘটনার পর শিশুর বাবা আমির হোসেন মতলব উত্তর থানায় একটি অপহরণ মামলা দায়ের করেন। এরপরই থানার এসআই আব্দুল আউয়ালের নেতৃত্বে একদল পুলিশ শিশুটিকে উদ্ধারে অভিযান শুরু করে। 

পরে সোমবার (২৫ জানুয়ারি) কুমিল্লার বরুড়া উপজেলার বিজয়পুরে কেফায়েত উল্লাহর গ্রামের বাড়ি থেকে শিশুটি উদ্ধার করে পুলিশ। এ সময় অপহরণের দায়ে গ্রেফতার করা হয় কেফায়েত উল্লাহকেও।

মতলব উত্তর থানার ওসি নাসিরউদ্দিন মৃধা জানান, ঘটনার শিকার শিশুর বাবার অভিযোগের প্রেক্ষিতে পুলিশ তথ্য প্রযুক্তি ব্যবহার করে অভিযান সফল করে।

এদিকে, মঙ্গলবার দুপুর চাঁদপুরের আদালতে শিশু ও অপহরণকারীকে হাজির করা হয়। এ সময় আদালতের বিচারকের কাছে ঘটনার বর্ণনা দিয়ে অপহরণের কথা স্বীকার করেন কেফায়েত উল্লাহ। পরে আদালতের নির্দেশে শিশুটিকে তার বাবা মায়ের কাছে ফিরিয়ে দেয়া হয়। একইসঙ্গে অপহরণকারী কেফায়েত উল্লাহকে জেলহাজতে পাঠানো হয়।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, কুমিল্লা জেলার বরুড়ার কেফায়েত উল্লাহ নামে এই ব্যক্তি দীর্ঘদিন ধরে মতলব উত্তরের ওই মাদরাসায় বাবুর্চির কাজ করেন। তিনি পরপর দুটি বিয়ে করলেও কোনো স্ত্রী এমনকি সন্তান তার কাছে নেই। তাই মাদরাসায় কাজ করার সময় শিশু সিফাত উল্লাহকে স্নেহ আর ভালোবাসায় জড়িয়ে নেন। একপর্যায়ে শিশুটিকে তার বাড়িতে নিয়ে চলে যান। 

অন্যদিকে অপহরণের শিকার শিশু সিফাত উল্লাহও স্বীকার করেছে, তাকে সন্তানের মতোই আদর স্নেহ করতেন কেফায়েত উল্লাহ। তার সঙ্গে কখনো খারাপ আচরণ করেননি তিনি। 

ডেইলি বাংলাদেশ/আরএম