কুষ্টিয়ায় উৎসবমুখর পরিবেশে ভোট গ্রহণ চলছে

কুষ্টিয়ায় উৎসবমুখর পরিবেশে ভোট গ্রহণ চলছে

কুষ্টিয়া প্রতিনিধি   ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

প্রকাশিত: ১০:১৯ ১৬ জানুয়ারি ২০২১   আপডেট: ১০:২০ ১৬ জানুয়ারি ২০২১

ছবি: ডেইলি বাংলাদেশ

ছবি: ডেইলি বাংলাদেশ

কুষ্টিয়া জেলার চার উপজেলার চার পৌরসভা নির্বাচনে শান্তিপূর্ণভাবে ভোট গ্রহণ শুরু হয়েছে। শনিবার (১৬ জানুয়ারি) সকাল ৮টা থেকে ভোট গ্রহণ শুরু হয়েছে। কুষ্টিয়া সদর, ভেড়ামারা, মিরপুর ও কুমারখালী পৌরসভায় মোট ২ লাখ ২ হাজার ৪৮৭ জন ভোটার ভোটাধিকার প্রয়োগ করবেন।

সকাল থেকেই ভোট দেয়ার জন্য কেন্দ্রগুলোতে ভোটারদের উপচে পড়া ভিড় দেখা যাচ্ছে। এর মধ্যে পুরুষ ভোটারদের সংখ্যা বেশি। পৌর নির্বাচনকে ঘিরে কুষ্টিয়ার এ চার পৌরসভা এলাকায় এখন পর্যন্ত উৎসবমুখর পরিবেশ বিরাজ করছে।

নির্বাচনে কুমারখালী পৌরসভায়এই প্রথমবারের মতো ইলেক্ট্রনিক ভোটিং মেশিন (ইভিএম) মেশিনের মাধ্যমে ভোট গ্রহণ চলছে। অপর তিনটি পৌরসভায়  ব্যালট পেপারের মাধ্যমে ভোট গ্রহণ চলছে। সকাল ৮টা থেকে বিকাল ৪টা পর্যন্ত টানা ভোট গ্রহণ চলবে। এ জন্য সব ধরনের প্রস্তুতি  নিয়েছে নির্বাচন কমিশন। নির্বাচনী পরিবেশ নিয়ন্ত্রণে মাঠে রয়েছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা। এসব তথ্য নিশ্চিত করেছেন অতিরিক্ত সিনিয়র জেলা নির্বাচন অফিসার মুহাম্মদ আবু আনসার। 

এর আগে শুক্রবার (১৫ জানুয়ারি) কুমারখালী নির্বাচন অফিস থেকে কড়া নিরাপত্তার মধ্য দিয়ে পৌরসভার মোট ৯টি ভোট কেন্দ্রে পাঠানো হয়েছে ইভিএম মেশিনসহ নির্বাচনী আনুসাঙ্গীক সরঞ্জাম। এছাড়াও কুষ্টিয়া সদর, ভেড়ামারা ও মিরপুর পৌরসভায় নির্বাচনী সরঞ্জাম পাঠানো হয়। অবাধ সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন গ্রহণের লক্ষে মাঠে রয়েছে জুডিশিয়াল ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট, র‌্যাব, বিজিবি, পুলিশ ও অনসার সদস্যরা।

জেল নির্বাচন অফিস সূত্রে জানা গেছে, এ নির্বাচনে জেলার চারটি পৌরসভায় মেয়র পদে মোট ১২জন প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। তাদের মধ্যে কুষ্টিয়া পৌরসভায় তিনজন, কুমারখালী পৌরসভা দুইজন, ভেড়ামারা পৌরসভায় চারজন এবং মিরপুর পৌরসভায় তিনজন।  

তারা হলেন- কুষ্টিয়া পৌরসভা নির্বাচনে আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থী বর্তমান মেয়র আনোয়ার আলী নৌকা প্রতীক নিয়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। অপরদিকে, ধানের শীষ প্রতীক নিয়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন মো.বশিরুল আলম চাঁদ। ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ থেকে হাত পাখা নিয়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন মো. আব্দুল আখন্দ।

এছাড়াও মেয়র পদে কুমারখালী পৌরসভায় আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থী  সামছুজ্জামান অরুন, বিএনপি'র প্রার্থী আনিসুর রহমান। মিরপুর পৌরসভায় আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থী এনামুল হক, বিএনপি’র প্রার্থী রহমত আলী এবং স্বতন্ত্র প্রার্থী আরিফুর রহমান। ভেড়ামারা পৌরসভায় আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থী শামিমুল ইসলাম ছানা, বিএনপি'র প্রার্থী শামীম রেজা, স্বতন্ত্র প্রার্থী সোলাইমান চিশতি এবং জাসদ মনোনীত প্রার্থী আনোয়ারুল কবির।

জেলার চারটি পৌরসভায় মোট সাধারণ কাউন্সিলর পদে ১৮৫ জন এবং সংরক্ষিত মহিলা কাউন্সিলর পদে ৬১ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। 

সাধারণ কাউন্সিলর প্রার্থীদের মধ্যে কুষ্টিয়া পৌরসভায় ১০০ জন, কুমারখালীতে ২৫ জন, ভেড়ামারায় ২৮ জন এবং মিরপুরে ৩২ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন।

এছাড়াও সংরক্ষিত মহিলা কাউন্সিলর প্রার্থীদের মধ্যে কুষ্টিয়া পৌরসভায় ৩৪ জন, কুমারখালীতে ৮ জন, ভেড়ামারায় ১০ জন এবং মিরপুরে ৯ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন।

জেলা নির্বাচন ও রিটার্নিং কর্মকর্তা মো. আনিছুর রহমান বলেন, এই প্রথমবারের মতো কুমারখালী পৌরসভায় ইভিএমের মাধ্যমে ভোটাররা তাদের ভোটধিকার প্রয়োগ করছেন। এছাড়াও কুষ্টিয়া সদর, ভেড়ামারা ও মিরপুর পৌরসভায় ব্যালট পেপারের ভোট গ্রহণ হচ্ছে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য মোতায়েনসহ যাবতীয় প্রস্তুতি সম্পন্ন করা হয়েছে। নির্বাচন পরিচালনার জন্য নেয়া হয়েছে কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা।

তিনি আরো বলেন, চারটি পৌরসভায় মোট ৪৮টি ওয়ার্ডের ৯০টি ভোট কেন্দ্রে ৬১০টি কক্ষে (তার মধ্যে ২৮টি অস্থায়ী) ভোটগ্রহণ চলছে। চারটি পৌরসভায় মোট ভোটার সংখ্যা ২ লাখ ২ হাজার ৪৮৭ জন। তাদের মধ্যে  নারী ভোটার ১ লাখ ৪ হাজার ৩৯৪ জন এবং পুরুষ ৯৮ হাজার ৯৩ জন। প্রতিটি পৌরসভায় একাধিক নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট নিয়োজিত রয়েছেন। তারা আচরণবিধি প্রতিপালনসহ সার্বিক বিষয়ে দায়িত্ব পালন করছে। চারটি পৌরসভা নির্বাচন পরিচালনায় ৯০ জন প্রিসাইডিং কর্মকর্তা, ৬১০ জন সহকারী প্রিসাইডিং কর্মকর্তা এবং ১ হাজার ২২০ জন পোলিং কর্মকর্তা নিয়োজিত রয়েছেন।

জেলা নির্বাচন ও রিটার্নিং কর্মকর্তা মোঃ আনিছুর রহমান আরো বলেন, প্রতিটি ভোটকেন্দ্রে আনসার, পুলিশ সার্বক্ষণিক আইনশৃঙ্খলা রক্ষার্থে কাজ করছেন। নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট, র‌্যাবের টিম ও বিজিবির টহল দল সার্বক্ষণিক স্ট্রাইকিং ফোর্স হিসেবে নিয়োজিত আছেন। এছাড়াও অনিয়ম ও বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি হলে তাৎক্ষণিক ম্যাজিস্ট্রেটের নেতৃত্বে ভ্রাম্যমাণ আদালতের মোবাইল টিম কাজ করছেন। ভোটগ্রহণ শুরুর পর সকাল সাড়ে ৯টা পর্যন্ত কোথাও কোনো অপ্রীতিকর ঘটনার খবর পাওয়া যায়নি।

কুষ্টিয়ার পুলিশ সুপার এস এম তানভীর আরাফাত বলেন, কুষ্টিয়ার চারটি উপজেলায় চার পৌরসভা এলাকায় শান্তিপূর্ণভাবে ভোটগ্রহণ চলছে। প্রতিটি কেন্দ্রে পর্যাপ্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থা রয়েছে। কেউ ভোট কেন্দ্রে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির চেষ্টা করলে তাকে কঠোর হাতে দমন করা হবে। অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটার সম্ভাবনা নেই বলে মনে করছি। কারণ সকল পৌরসভার ভোটকেন্দ্র গুলোতে উৎসবমুখর পরিবেশে ভোট দিচ্ছেন ভোটাররা। 

ডেইলি বাংলাদেশ/এমকে