পরিবার নিয়ে ৩ বছর ধরে সরকারি স্কুলে থাকেন চেয়ারম্যান

পরিবার নিয়ে ৩ বছর ধরে সরকারি স্কুলে থাকেন চেয়ারম্যান

পটুয়াখালী প্রতিনিধি ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

প্রকাশিত: ০১:৩০ ১৪ জানুয়ারি ২০২১   আপডেট: ১৩:০৭ ২০ জানুয়ারি ২০২১

সরকারি বিদ্যালয়ের দুটি কক্ষে পরিবার নিয়ে থাকছেন ইউপি চেয়ারম্যান মো. নজির আহম্মেদ সরদার

সরকারি বিদ্যালয়ের দুটি কক্ষে পরিবার নিয়ে থাকছেন ইউপি চেয়ারম্যান মো. নজির আহম্মেদ সরদার

তিন বছর ধরে সরকারি বিদ্যালয়ের দুটি কক্ষে পরিবার নিয়ে থাকছেন ইউপি চেয়ারম্যান মো. নজির আহম্মেদ সরদার। নামে-বেনামে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে জানানো হলেও অজ্ঞাত কারণে ব্যবস্থা নেয়নি তারা। শুধু পাঠদান কক্ষ নয়, বিদ্যালয় সংলগ্ন জমিতে টিনশেড উঠিয়ে তার ভাস্তিজামাইকে দিয়ে চালাচ্ছেন জমজমাট সারের ব্যবসা।

পটুয়াখালীর দশমিনা উপজেলার নদীবেষ্টিত দ্বীপ চরবোরহান ইউনিয়নের ১০২ নম্বর মধ্য চরবোরহান সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে এমন ঘটনায় হতবাক এলাকাবাসী।

অভিযোগ রয়েছে, চরবোরহান সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের জন্য একটি স্কুল-কাম সাইক্লোন শেল্টার নির্মাণ করে স্থানীয় সরকার বিভাগ। ২০১৯ সালের জুনে ভবন বুঝিয়ে দেয় সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ। এর আগে ২০১৭ সাল থেকে পুরাতন স্কুলের কক্ষ ইউপি চেয়ারম্যান মো. নজির আহম্মেদ সরদারের দখলে ছিল।

নতুন ভবন নির্মাণ অবস্থায় প্রাথমিকভাবে ওই বিদ্যালয়ের ৪ কক্ষের ভবনের দুটি কক্ষ চেয়ারম্যান দখলে নিয়ে নেন। এরপর নতুন ভবন নির্মাণ শেষে পুরাতন ভবনের পুরোটা দখল নিয়ে পরিবারসহ থাকা শুরু করেন চেয়ারম্যান নজির আহম্মেদ। পাশাপাশি বিদ্যালয় সংলগ্ন জমি দখল করে হাঁস-মুরগিসহ গবাদিপশু লালন-পালন শুরু করেন তিনি।

কিছুদিন না যেতেই বিদ্যালয় সংলগ্ন জমি দখল করে একটি বড় আকারে টিনশেড উঠিয়ে ভাস্তিজামাই রিয়াজ হোসেনকে দিয়ে জমজমাট সারের ব্যবসা শুরু করেন। এছাড়া নতুন ভবনের দুটি কক্ষের চাবি এখনো তার দখলে রয়েছে। চেয়ারম্যান নজিরের এ স্বেচ্ছাচারিতায় পাঠদান ব্যাহত হলেও বিন্দুমাত্র টনক নড়েনি সংশ্লিষ্টদের।

সংশ্লিষ্ট ইউপি সদস্য ও স্কুল ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি জলিল জোমাদ্দার বলেন, আমরা ওই ভবনটি সাব-ইউনিয়ন পরিষদ বানিয়ে পরিচালনা করছি। চেয়ারম্যানের প্রতিপক্ষরা মিথ্যা তথ্য ছড়াচ্ছে।

অভিযুক্ত ইউপি চেয়ারম্যান মো. নজির আহম্মেদ সরদার বলেন, আমি দখল করিনি। বিদ্যালয়ের ভবনে অফিস করেছি।

এ প্রসঙ্গে উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা রুহুল আমিন বলেন, এ বিষয়ের সত্যতা পেলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে।

ডেইলি বাংলাদেশ/এমআর/জেডএম