রাতের অন্ধকারে দুর্বৃত্তরা আঘাত হেনেছে কুষ্টিয়ায় নির্মাণাধীন বঙ্গবন্ধুর ভাস্কর্যে

রাতের অন্ধকারে দুর্বৃত্তরা আঘাত হেনেছে কুষ্টিয়ায় নির্মাণাধীন বঙ্গবন্ধুর ভাস্কর্যে

কুষ্টিয়া প্রতিনিধি ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

প্রকাশিত: ১৭:৪৫ ৫ ডিসেম্বর ২০২০   আপডেট: ২০:৩৯ ৫ ডিসেম্বর ২০২০

ভাস্কর্য ভাঙচুরপূর্বক এর বিভিন্ন অংশকে ক্ষতিগ্রস্ত করে

ভাস্কর্য ভাঙচুরপূর্বক এর বিভিন্ন অংশকে ক্ষতিগ্রস্ত করে

কুষ্টিয়া শহরের পাঁচ রাস্তার মোড়ে নির্মাণাধীন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের একটি ভাস্কর্য শুক্রবার রাতে ভাঙচুর করেছে দুর্বৃত্তরা।

এ বিষয়ে কুষ্টিয়ার পুলিশ সুপার এস এম তানভীর আরাফাত জানান যে, ঘটনাস্থলের সিসি ক্যামেরার ফুটেজ সংগ্রহ করা হয়েছে। উক্ত ফুটেজে দেখা যায়, শুক্রবার রাত দুইটার দিকে দুই ব্যক্তি ভাস্কর্যটিকে ভাঙচুর করছে। পুলিশ কর্তৃক তাদেরকে শনাক্তির চেষ্টা চলছে এবং শীঘ্রই সংশ্লিষ্টদেরকে আইনের আওতায় নিয়ে আসা হবে।

কুষ্টিয়া-৩ (সদর) আসনের এমপি ও আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুব উল আলম হানিফ ডেইলি বাংলাদেশকে জানান যে, কুষ্টিয়ায় এ ধরনের নোংরা কাজ কোনোভাবেই বরদাশত করা হবে না। যারা এ ঘটনা ঘটিয়েছে এবং যারা তাদেরকে মদদ দিয়েছে, তাদের প্রত্যেককেই কঠিন শাস্তি পেতে হবে। কাউকে ছাড় দেয়া হবে না। এরই মধ্যে পুলিশকে পদক্ষেপ নিতে নির্দেশ দেয়া হয়েছে।

কুষ্টিয়া পৌরসভা সূত্র জানায়, নভেম্বর মাসে পৌরসভার নিজস্ব অর্থায়নে শহরের পাঁচ রাস্তার মোড়ে বঙ্গবন্ধুর তিনটি ভাস্কর্য নির্মাণ করার সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়। পাঁচ রাস্তার মোড়ে অনেক বছর আগে তৈরি করা শাপলার ভাস্কর্যকে প্রতিস্থাপন করে সেখানে তিনটি প্রধান সড়কের দিকে মুখ করে তিনটি ভাস্কর্য করা হচ্ছে। ভাস্কর্যগুলোর নিচের অংশে জাতীয় চার নেতার মুর্যাটল থাকবে।

পৌরসভা সূত্রে আরো জানা যায় যে, দরপত্রের মাধ্যমে যশোরের ভাস্কর মাহবুবজামাল শামীম কার্যাদেশ পেয়েছেন এবং এতে ব্যয় ধরা হয়েছে প্রায় ৩০ লাখ টাকা। ১৭ নভেম্বর থেকে এই নির্মাণকাজ কাজ শুরু হয়েছে। এরই মধ্যে মজমপুরের দিকে মুখ করে নির্মাণাধীন বঙ্গবন্ধুর ৭ মার্চের ভাষণ দেয়ার একটি ভাস্কর্য তৈরির কাজ প্রায় শেষের দিকে।

কুষ্টিয়া পৌরসভার মেয়র আনোয়ার আলী ডেইলি বাংলাদেশকে জানান যে, বাংলাদেশের স্বাধীনতা ও আওয়ামীলীগ বিরোধী এবং বঙ্গবন্ধুকে মানতে না পারা ব্যক্তি বা গোষ্ঠীরাই এই ঘটনা ঘটিয়েছে। এবিষয়ে পুলিশ প্রশাসনকে অবহিত করা হয়েছে ও থানায় মামলা করা হচ্ছে।

জেলা প্রশাসক আসলাম হোসেন বলেন, কালেক্টরেট চত্বরসহ জেলার সবগুলো ভাস্কর্যকে সিসি ক্যামেরার আওতায় নেয়া হয়েছে। পাশাপাশি নজরদারি বাড়ানোর জন্য সংশ্লিষ্ট ইউএনওদের নির্দেশ দেয়া হয়েছে।

ডেইলি বাংলাদেশ/এমআর