হাওর থেকে নামছে না পানি, বীজতলা নিয়ে শঙ্কা

হাওর থেকে নামছে না পানি, বীজতলা নিয়ে শঙ্কা

জাকারিয়া চৌধুরী, হবিগঞ্জ  ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

প্রকাশিত: ১৭:৪০ ৫ ডিসেম্বর ২০২০   আপডেট: ১৭:৫৬ ৫ ডিসেম্বর ২০২০

ছবি : ডেইলি বাংলাদেশ

ছবি : ডেইলি বাংলাদেশ

হবিগঞ্জের হাওরাঞ্চল থেকে এখনো নামেনি বর্ষার পানি। যে কারণে বোরো আবাদের জন্য বীজতলা তৈরি নিয়ে হাজারো কৃষকদের মধ্যে শুরু হয়েছে শঙ্কা।

অন্যান্য বছর যেখানে অগ্রহায়ণ মাসের শুরু থেকে বীজতলা তৈরি নিয়ে ব্যস্ত থাকতো কৃষকরা, এবার যেন তার উল্টো চিত্র। অগ্রহায়ণ মাসের প্রায় অর্ধেকটা সময় চলেও গেলেও হাওর থেকে পানি না নামার কারণে বীজতলা তৈরি করতে হিমশিম খেতে হচ্ছে কৃষকদের। যদিও হাওরের কিছু কিছু উঁচু জমিতে  এরই মধ্যে বীজতলা তৈরির কাজ সম্পন্ন করেছেন কৃষকরা। 

কৃষকরা বলছেন, হাওর থেকে পানি না নামার অন্যতম কারণে হচ্ছে প্রতিটি পয়েন্টে পয়েন্টে মাছ ধরার জন্য স্থাপন করা বেড়িবাঁধ। যে কারণে হাওরের পানি নদীতে নামতে পারছে না। এছাড়া জেলার বিভিন্ন নদ-নদী খনন না করা এবং যত্রতত্র অপরিকল্পিতভাবে ফসল রক্ষা বাঁধ নির্মাণ করা কারণেই পানি নিষ্কাশনে দেরি হচ্ছে। 

কৃষকরা আরো বলছেন, এমনিতেই হবিগঞ্জের হাওরগুলো অনেক নিচু তারপর যদি সময় মতো বোরো আবাদ না করা যায় তা হলে অকাল বন্যার কবলেও পড়ার আশঙ্কা রয়েছে। 

জানা যায়, জেলার আজমিরীগঞ্জ, বানিয়াচং ও লাখাই উপজেলার অধিকাংশ হাওরই অনেক নিচুতে অবস্থিত। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি নিচু হাওরগুলো হচ্ছে আজমিরীগঞ্জ উপজেলার সৌলরি হাওর, কাকাইলছেও হাওর, ঘরদাইর হাওর, বদলপুর হাওর, শিবপাশা হাওর, বানিয়াচং উপজেলার মুরাদপুর হাওর, হারুণী, বিথঙ্গল, পইলারকান্দি হাওর ও লাখাইর ভরপূর্ণি ও মাদনা। আর এসব হাওর পাড়ের কৃষকরা পানি না নামার কারণে বীজতলা তৈরি নিয়ে বেকায়দায় রয়েছেন। যদিও এরই মধ্যে অনেক কৃষকই উঁচু এলাকাগুলোতে বীজতলা তৈরি করেছেন।  

জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতর সূত্র জানায়, এ বছর জেলায় হাইব্রিড ও বিভিন্ন জাতের দেশীয় ধান নিয়ে প্রায় ৯ হাজার হেক্টর জমিতে বীজতলা তৈরির লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। এরই মধ্যে অনেক উপজেলাতেই বীজতলা তৈরির কাজ শুরু হয়েছে। তবে এখনো পর্যন্ত কত হাজার হেক্টর জমিতে বীজতলা তৈরি করা হয়েছে তার কোনো সঠিক তথ্য নেই তাদের কাছে। 

বানিয়াচং উপজেলার মুরাদপুর গ্রামের কৃষক মো. শামছুদ্দিন জানান, অন্য বছর যেখানে অগ্রহায়ণ মাসের মাঝামাঝি সময়ে বীজতলা তৈরির কাজ শেষ হয়ে যেত এবার সেই কাজ অর্ধেকও হয়নি। 

তিনি জানান, তাদের উচু এলাকায় দুয়েকটি জমিতে বীজতলা তৈরি করা হলেও এখনো বেশ কয়েকটা জমি পানির নিচেই রয়ে গেছে। যে কারণে পানি না নামা ওইসব জমিতে বীজতলা তৈরি করতে পারবেন কি না তা নিয়ে শঙ্কায় রয়েছেন। 

একই উপজেলার বিথঙ্গল গ্রামের কৃষক আব্দুস ছমেদ মিয়া জানান, হাওরের পানি যেন এবার নামছেই না। তাই তার একটি বীজতলাও এখনো তৈরি করা হয়নি। তার সবকটি বীজতলার জমি এখনো পানির নিচেই রয়েছে। 

আজমিরীগঞ্জ উপজেলার ঘরদাইর গ্রামের কৃষক সাব্বির মিয়া জানান, তিনি উঁচু জমিতে বেশ কয়েকটি জমিতে বীজতলা তৈরি করেছেন। তবে কুশিয়ারা নদী সংলগ্ন এলাকায় জমিগুলো এখনো পানির নিচে থাকায় বীজতলা তৈরি তো দূরের কথা এখন পর্যন্ত জমিগুলো বীজ বপন করার মতো যথাযথ উপযুক্তই হয়নি। যে কারণে অনেক বীজই পানিতে দিনের পর দিন ভিজিয়ে রাখার কারণে নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। আর এতে করে দুশ্চিন্তায় রয়েছেন। 

এ বিষয়ে জানতেই চাইলে জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের উপ-পরিচালক কৃষিবীদ মো. তমিজ উদ্দিন বলেন, এবার অনেক হাওর থেকে ধীরে ধীরে পানি নামার কারণে বীজতলা তৈরি করতে কৃষকদের একটু সময় লাগছে। তবে কয়েকদিনের মধ্যে প্রতিটি এলাকাতেই বীজতলা তৈরি করার মতো অবস্থা তৈরি হবে। 

তিনি আরো বলেন, একটু দেরি হলেও এবার জেলায় বীজতলা তৈরি ও বোরো আবাদের লক্ষ্যমাত্রা পূরণ হবে। 

ডেইলি বাংলাদেশ/জেএইচ