ফরিদপুর সেফ হোমের গ্রিল ভেঙে পালিয়েছেন ৪ তরুণী

ফরিদপুর সেফ হোমের গ্রিল ভেঙে পালিয়েছেন ৪ তরুণী

ফরিদপুর প্রতিনিধি ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

প্রকাশিত: ১১:৩৬ ৫ ডিসেম্বর ২০২০  

মহিলা ও শিশু কিশোরী হেফাজতিদের নিরাপদ আবাসন

মহিলা ও শিশু কিশোরী হেফাজতিদের নিরাপদ আবাসন

ফরিদপুরে সেফ হোম থেকে পালিয়ে গেছেন চার তরুণী। শুক্রবার (৪ ডিসেম্বর) ভোর ৪টার দিকে এ ঘটনা ঘটে। শুক্রবার রাত ১০টা পর্যন্ত ১৮ ঘণ্টা অতিবাহিত হলেও পালিয়ে যাওয়া ওই তরুণীদের কোনো সন্ধান মেলেনি। এ ব্যাপারে ফরিদপুর কোতোয়ালি থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করা হয়েছে।

এ সেফ হোমটির নাম ‘মহিলা ও শিশু কিশোরী হেফাজতিদের নিরাপদ আবাসন’। সমাজসেবা অধিদফতর পরিচালিত এ সেফ হোমটি ফরিদপুর শহরের টেপাখোলা এলাকায় সোহরাওয়ার্দী লেক পাড়ের পশ্চিম প্রান্তে অবস্থিত।

সেফ হোম সূত্রে জানা গেছে, গত বৃহস্পতিবার পর্যন্ত সেখানে মোট ৭২ জন নিবাসী ছিলেন। এরমধ্যে থেকে চারজন শুক্রবার ভোর ৪টার দিকে নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা দুই আনসার সদস্য সালমা বেগম ও বিউটি আক্তারের ঘুমিয়ে থাকার সুযোগে গ্রিল ভেঙে প্রাচীর টপকে পালিয়ে যান।

পালিয়ে যাওয়া ওই চার তরুণী হলেন- রাজবাড়ী কোর্ট থেকে আসা সোনালী আক্তার, রাজবাড়ীর গোয়ালন্দ থেকে আসা আলিসা, গোপালগঞ্জ থেকে আসা ময়না এবং শরীয়তপুর থেকে আসা আছিয়া। তারা সবাই ভবঘুরে হিসেবে উল্লেখিত জেলা ও উপজেলায় পুলিশের হাতে আটক হয়ে আদালতের মাধ্যমে এ সেফ হোমে রয়েছেন। এদের মধ্যে আলিসা আছেন ২০১৫ সাল থেকে। বাকিরাও তিন কিংবা চার বছর ধরে আছেন। এদের আইনগত অভিভাবক না পাওয়ায় আদালত তাদের সেফ হোমে পাঠান। 

ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে ওই সেফ হোমের উপ-তত্ত্বাবধায়ক রুমানা আক্তার বলেন, নিরাপত্তার দায়িত্বে নিয়োজিত দুই আনসার সদস্য ঘুমিয়ে থাকার সুযোগে পালিয়ে যাওয়ার এ ঘটনা ঘটেছে। এ ব্যাপারে ফরিদপুর কোতোয়ালি থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করা হয়েছে। পালিয়ে যাওয়া ওই নিবাসীদের সন্ধানে পুলিশের পাশাপাশি সেফ হোম কর্তৃপক্ষও কাজ করছেন। 

ফরিদপুর সমাজ সেবা অধিদফতরের উপ-পরিচালক মো. আলী আহসান বলেন, ওই নিবাসীদের নিরাপদে রাখার জন্য জেলখানার মতো ১৮ ফুট উচু সীমানা প্রাচীর ও মোটা গ্রিল এ সেফ হোমে ছিল না। গ্রিল ছিল সরু এবং সীমানা প্রাচীর ছিল ছয় ফুট উচ্চতাবিশিষ্ট।

তিনি বলেন, পালিয়ে যাওয়া নিবাসীদের উদ্ধারের চেষ্টা চলছে। ফরিদপুর সেফ হোম থেকে কোনো নিবাসীর পালিয়ে যাওয়ার ঘটনা এই প্রথম ঘটল।

ফরিদপুর কোতোয়ালি থানার ওসি মোরশেদ আলম বলেন, পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। ওই সময় যে দুই আনসার সদস্য নিরাপত্তার দায়িত্বে ছিলেন তাদের জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে। পালিয়ে যাওয়া তরুণীদের উদ্ধারের জন্য বিভিন্ন এলাকায় তল্লাশি চালানো হচ্ছে।

ডেইলি বাংলাদেশ/আরএম