শাশুড়ি বললেন স্ট্রোকে মৃত্যু, জানাজার আগে গলায় মিলল দাগ

শাশুড়ি বললেন স্ট্রোকে মৃত্যু, জানাজার আগে গলায় মিলল দাগ

ময়মনসিংহ প্রতিনিধি ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

প্রকাশিত: ১৮:১৪ ৪ ডিসেম্বর ২০২০   আপডেট: ১৮:২৫ ৪ ডিসেম্বর ২০২০

নিহত তাসলিমা আক্তার

নিহত তাসলিমা আক্তার

ময়মনসিংহের ঈশ্বরগঞ্জে তাসলিমা আক্তার নামে এক গৃহবধূর মৃত্যু নিয়ে শুরু হয়েছে ধুম্রজাল। নিহতের শাশুড়ির দাবি- তাসলিমা স্ট্রোক করে মারা গেছেন। তবে জানাজার সময় গলায় দাগ দেখতে পান তাসলিমার বাবার বাড়ির লোকজন। এরপর স্বামীর বাড়ির লোকজন পালিয়ে যান। পরে শুক্রবার তাসলিমার লাশ উদ্ধার করে পুলিশ।

নিহত তাসলিমা ঈশ্বরগঞ্জ উপজেলার মগটুলা ইউনিয়নের নারায়ণপুর গ্রামের আবদুস সালামের মেয়ে। তার স্বামীর নাম সোহেল মিয়া। তিনি একই উপজেলার ঈশ্বরগঞ্জ ইউনিয়নের চরপুবাইল (চকপাড়া) গ্রামের অলুম উদ্দিনের ছেলে।

প্রায় সাত বছর আগে তাসলিমার সঙ্গে সোহেল মিয়ার বিয়ে হয়। তাদের সংসারে এক ছেলে ও মেয়ে রয়েছে। বৃহস্পতিবার রাত ১টার দিকে তাসলিমার বাবার বাড়িতে খবর আসে তাদের মেয়ে খুব অসুস্থ। দ্রুত পরিবারের লোকজন না গেলে জীবিত অবস্থায় দেখতে পাবে না। ওই অবস্থায় রাতেই মেয়ের বাড়িতে যান তারা। ততক্ষণে তাসলিমা মারা গেছেন বলে জানেন বাবার বাড়ির লোকজন।

এলাকায় প্রচার চালানো হয় স্ট্রোক করে মারা গেছেন তাসলিমা। এর মধ্যে শুক্রবার বেলা ১১টায় জানাজার সময় নির্ধারণ করে কবর খুঁড়ে, বাঁশ কেটে সব সম্পন্ন করা হয়। কিন্তু ১০টার দিকে তাসলিমার লাশ গোসল করানোর সময় চাচি বেদেনা খাতুন দেখতে পান তাসলিমার গলায় দাগের চিহ্ন। ওই সময় তাসলিমার বাবার বাড়ির লোকজন দাগ দেখে ফেলায় লাশ রেখে সরে পড়েন শ্বাশুড়ি ও পরিবারের অন্য সদস্যরা। খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে হাজির হয় পুলিশ।

নিহতের ভাই মুস্তাকীম মিয়া বলেন, চারদিন আগেও তাসলিমার বাড়িতে যাই। আমার বোনকে দুই লাখ টাকার জন্য চাপ দিচ্ছিলেন সোহেল। বৃহস্পতিবার রাতে আমার বোনকে মেরে স্ট্রোক করে মারা গেছেন বলে জানানো হয়। লাশ ভালোভাবে দেখতেও দেয়া হয়নি। কিন্তু লাশ ধোয়ানোর আগে গলায় দাগ দেখতে পান আমার চাচি।

নিহতের মা বিলকিছ আক্তার বলেন, আমার মেয়েকে মেরে ফেলেছে তারা। আমি এর বিচার চাই।

নিহতের শ্বাশুড়ি নুরুন নাহার বলেন, আমার ছেলে ও পুত্রবধূর মধ্যে কোনো সমস্যা ছিল না। বৃহস্পতিবার রাত ১১টার দিকে আমার ছেলে ডাকতে শুরু করলেও তাসলিমার ঘরের দরজা খোলেনি। পরে দরজা কেটে ভেতরে ঢুকে দেখি ফ্যানের সঙ্গে ঝুলছে তাসলিমা। পরে স্ট্রোকে মারা গেছে বলে প্রচার করি।

শুক্রবার দুপুরে লাশ উদ্ধার করে থানায় নিয়ে আসে পুলিশ। এ ঘটনায় নিহতের শ্বাশুড়ি নুরুন নাহারকে আটক করা হয়। সুরতহালে নিহতের গলায় ও পেটে আঘাতের চিহ্ন পেয়েছে পুলিশ।

ঈশ্বরগঞ্জ থানার ওসি (তদন্ত) জহিরুল ইসলাম মুন্না বলেন, শ্বাসরোধে ওই গৃহবধূকে হত্যা করা হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। পরে তড়িঘড়ি লাশ দাফনের প্রস্তুতি নেয়া হচ্ছিল।

ডেইলি বাংলাদেশ/এমআর