৩৫ বছর পর স্বপ্নের পা ফিরে পেলেন স্বপন

৩৫ বছর পর স্বপ্নের পা ফিরে পেলেন স্বপন

শরীফুল ইসলাম, চাঁদপুর ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

প্রকাশিত: ১৭:৫০ ৩ ডিসেম্বর ২০২০  

স্বপন গাজী

স্বপন গাজী

১০ বছর বয়সে আগুন পোহাতে গিয়ে ডান পা পুড়ে যায় স্বপন গাজীর। হতদরিদ্র বাবার পক্ষে ছেলের উন্নত চিকিৎসা করানো সম্ভব হয়নি। পরে ধীরে ধীরে ডান পা বেঁকে যায়। অবশেষে ৩৫ বছর পর পঙ্গু জীবন থেকে মুক্তি পেলেন তিনি।

স্বপনের বাড়ি চাঁদপুর সদর উপজেলার খলিশাডুলি এলাকায়। তিনি একই এলাকার ফজলুর রহমান গাজীর ছেলে। পেশায় একজন রিকশাচালক।

চাঁদপুর সরকারি জেনারেল হাসপাতালের অর্থোপেডিক্স সার্জারি বিভাগের চিকিৎসকরা স্বপনের বাঁকা পা সারিয়ে তোলেন। বিনা খরচেই তার চিকিৎসা দিয়েছেন তারা। দুই পায়ে ভর দিয়ে হাঁটতে পারার আনন্দে আত্মহারা স্বপন।

দুই পায়ে ভর দিয়ে হাঁটতে পারার আনন্দে আত্মহারা স্বপন

অর্থোপেডিক্স বিভাগের সিনিয়র কনসালটেন্ট ডা. শাহাদাত হোসেন বলেন, স্বপন গাজী এখন নিজের দুই পা দিয়ে স্বাভাবিকভাবে হাঁটাচলা শুরু করছেন। যা গত ৩৫ বছর ধরে তার কাছে স্বপ্নের মতো ছিল।

স্বপন বলেন, পুড়ে যাওয়া বাঁকা পা নিয়ে বিভিন্ন কাজের মধ্য দিয়ে দীর্ঘ ৩৫ বছর কাটিয়েছি। সবশেষ এক পায়ে ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা চালিয়ে জীবিকা নির্বাহ করতাম। কিন্তু টাকার অভাবে চিকিৎসা না করতে পেরে পঙ্গুত্ব নিয়েই মানবেতর জীবন কাটাতে হয়। একপর্যায়ে পায়ের অবস্থা আরো খারাপের দিকে গেলে চাঁদপুর সরকারি জেনারেল হাসপাতালে শরণাপন্ন হই।

তিনি বলেন, সেখানকার অর্থোপেডিক্স সার্জারি বিভাগের চিকিৎসকরা আমার আর্থিক অবস্থার কথা জেনে বিনা পয়সায় চিকিৎসার আশ্বাস দেন। চিকিৎসকদের পরামর্শে ৮ অক্টোবর আমি হাসপাতালে ভর্তি হই।

অর্থোপেডিক্স বিভাগের চিকিৎসক আনিসুর রহমান সূফী বলেন, পোস্ট বার্ন কন্ট্রাকচার বা আগুনে পুড়ে শরীরের কোনো অংশ কুঁচকে যাওয়া রোগে ভুগছিলেন স্বপন গাজী। এতে তার ডান পা হাঁটু বরাবর বাঁকা হয়ে কুঁচকে যায়। আর সেই বাঁকা পা নিয়ে তিনি ৩৫ বছর কাটিয়েছেন।

সম্প্রতি স্বপনের সেই কুঁচকানো অংশে ক্ষত সৃষ্টি হয়। মেডিকেল পরিভাষায় একে মারজলিন আলসার বলে, যা ক্যান্সারের দিকে যাচ্ছিল। এ অবস্থায় হাসপাতালের অর্থোপেডিক্স বিভাগের সিনিয়র কনসালটেন্ট ডা. শাহাদাত হোসেন ও সহকারী রেজিস্ট্রার ফরিদ আহমেদ চৌধুরীসহ একটি মেডিকেল বোর্ড গঠন করে তার চিকিৎসা শুরু করা হয়। দুই দফা জটিল ও ঝুঁকিপূর্ণ অপারেশনের মাধ্যমে তাকে সম্পূর্ণ সুস্থ করে তোলা হয়।

স্বপনের পায়ের এ জটিল রোগ চাঁদপুরের বাইরে চিকিৎসা করলে প্রায় তিন লাখ টাকা ব্যয় হতো বলে জানিয়েছেন অর্থোপেডিক্স বিভাগের সিনিয়র কনসালটেন্ট ডা. শাহাদাত হোসেন।

ডেইলি বাংলাদেশ/এমআর