অন্ধ হলেও বন্ধ থাকেনি পারেছার পথচলা

অন্ধ হলেও বন্ধ থাকেনি পারেছার পথচলা

মেহেরপুর প্রতিনিধি ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

প্রকাশিত: ১৪:৫৬ ৩ ডিসেম্বর ২০২০   আপডেট: ১৬:০৭ ৩ ডিসেম্বর ২০২০

বুদ্ধি প্রতিবন্ধী স্বামী, মানসিক ভারসাম্যহীন ননদ ও দৃষ্টি প্রতিবন্ধী দুই শিশু সন্তানকে নিয়ে দৃষ্টি প্রতিবন্ধী পারেছা বেগমের জীবন সংগ্রাম চলছে চরম মানবিক সংকটে ছবি: ডেইলি বাংলাদেশ

বুদ্ধি প্রতিবন্ধী স্বামী, মানসিক ভারসাম্যহীন ননদ ও দৃষ্টি প্রতিবন্ধী দুই শিশু সন্তানকে নিয়ে দৃষ্টি প্রতিবন্ধী পারেছা বেগমের জীবন সংগ্রাম চলছে চরম মানবিক সংকটে ছবি: ডেইলি বাংলাদেশ

চোখের আলো না থাকলেও অদম্য ইচ্ছা শক্তিতেই জীবন যুদ্ধ চালাচ্ছেন পারেছা বেগম। নিজে দৃষ্টি প্রতিবন্ধী হলেও হাল ছাড়েননি সংসারের। সংসারের পাঁচ প্রতিবন্ধীকে নিয়ে চরম আর্থিকে সংকটে ভুগছেন পারেসা বেগম। 

চরম সংকটে সরকারি-বেসরকারি সাহায্য সহযোগিতা কামনা করছেন এ প্রতিবন্ধী অসহায় পরিবারটি। 

বুদ্ধি প্রতিবন্ধী স্বামী, মানসিক ভারসাম্যহীন ননদ ও দৃষ্টি প্রতিবন্ধী দুই শিশু সন্তানকে নিয়ে দৃষ্টি প্রতিবন্ধী পারেছা বেগমের জীবন সংগ্রাম চলছে চরম মানবিক সংকটে। অভাব অনটনে বিধ্বস্ত তাদের সংসারে শুধু মাত্র পারেছা খাতুনের ভাগ্যে একটি মাত্র প্রতিবন্ধী ভাতার কার্ড জুটলেও অন্য চারজনের জন্য জোটেনি সরকারি কোনো সহযোগিতা।  

গাংনী উপজেলার ভবানীপুর গ্রামের প্রাইমারি স্কুলপাড়াতে একটি খুপরি ঘরেই বসবাস করতেন এ পরিবারটি। সম্প্রতি স্থানীয় যুবকরা প্রবাসীদের সাহায্য সহযোগিতা নিয়ে একটি ঘর নির্মাণ ও নগদ টাকা, চাল ডাল এবং কয়েকটি ছাগল কিনে দিয়েছেন।  এটাই এখন বেঁছে থাকার একমাত্র অবলম্বন এ অসহায় পরিবারটির। 

প্রতিবন্ধী স্বামী, ননদ ও দুই সন্তানকে নিয়ে দৃষ্টি প্রতিবন্ধী পারেছার জীবন যুদ্ধ

পারেছা বেগমের বুদ্ধি প্রতিবন্ধী স্বামী শাহিন, মানসিক ভারসাম্যহীন ননদ রঙ্গিলা খাতুন, আর দৃষ্টি প্রতিবন্ধী দুই সন্তান পারভেজ হোসেন (৪)  ও ছোট ছেলে হামিমকে (১৫ মাস) নিয়ে তার পাঁচ জনের সংসার। 

পারেছা বেগম জানান, স্বামী শাহিনকে রাজমিস্ত্রী জোগালের কাজে পাঠিয়ে সঙ্গে করে নিয়ে আসতে হয়। প্রতিবন্ধী হওয়ায় শাহিনকে কাজে নিলেও অর্ধেক মজুরি পায়। এই সামান্য টাকা দিয়েই চালাতে হয় সংসার। সংসার চালানো অত্যন্ত কষ্টসাধ্য হওয়ায় বাড়িতে কিছু  ছাগল ও হাঁস মুরগি পালন করেন। 

তিনি জানান, প্রতিবন্ধী তিনজনের সংসারে পরপর দুটি সন্তান হলেও তারা দৃষ্টি প্রতিবন্ধী। আর পাঁচজনের প্রতিবন্ধী জীবন নিয়েই শুরু হয় তাদের অভিশপ্ত জীবন সংগ্রাম। তবুও জীবনের হাল ছাড়েননি। ভিক্ষাবৃত্তি না করে পরিশ্রম করে খেয়ে না খেয়ে সংসার সংগ্রামে লিপ্ত রয়েছেন। নিজের হাতে সংসারের সব কাজ করতে হয়। রান্না-বান্না, সন্তানদের গোসল- খাওয়ানো ছাড়াও সংসারের সব কাজই করেন। করোনা পরিস্থিতিতে এ প্রতিবন্ধী পরিবারটিকে দুঃসহ করে তুলেছে। কোনো কাজ নেই স্বামী শাহিনের। এখন অন্যের দানেই চলছে তাদের বেঁচে থাকা।  আগামীতে দৃষ্টিহীন এই দুই সন্তানের কী হবে এটা ভেবে পাচ্ছেন না পারেছা। তবুও এগিয়ে যাবার স্বপ্ন তার। 

পারেছা বেগম বলেন, পরিবারের সবাইকে নিয়ে মানবেতর জীবন যাপন করলেও কোনো সহযোগীতা পাইনি। জনপ্রতিনিধি চেয়ারম্যান মেম্বাররাও খোঁজ নেইনি এ পর্যন্ত। সরকারি সহযোগীতা না পেয়ে মানবেতর জীবনযাপন করতে হচ্ছে। 

প্রতিবেশি কোহিনুর বেগম জানান, পারেছা নিজে অন্ধ। তারপরেও গোটা সংসারটি যেভাবে টিকিয়ে রেখেছে তা একজন স্বচ্ছল মেয়ের পক্ষে সম্ভব না। অনেকের সংসারে ছোটখাটো মতবিরোধ থাকলেও পারেছার সংসারে সেটি নেই। অভাব থাকলেও তাদের আছে গভীর ভালবাসা। 

প্রতিবেশী শাহিন আলম রবিউল হক জানান, করোনা দুযোর্গকালীন মুহূর্তেও তাদেরকে কেউ সহযোগীতা করেনি। সরকারি সহযোগীতার অনেক গল্প শুনলেও এমন একটি অসহায় পরিবারের দিকে ফিরে তাকাইনি ইউপি মেম্বার কিংবা চেয়ারম্যান। এলাকাবাসীর সহযোগীতায় এ পর্যন্ত তারা টিকে আছে। তবে তাদের মত একটি পরিবারকে দুর্যোগ সহনীয় আশ্রয়ণ প্রকল্পের একটি ঘর দেয়ার দাবি এ প্রতিবেশীর। 

স্থানীয় ইউপি সদস্য আনারুল ইসলাম জানান, ইউনিয়ন পরিষদের পক্ষ থেকে যতটুকু সহযোগিতা করা সম্ভব তার চেষ্টা করা হয়েছে। ভিজিডি বা সিজিএফের চাল দেয়া হয়ে থাকে। আগামীতেও তাদের সব সুযোগ সুবিধা দেয়া হবে। 

উপজেলা সমাজসেবা অফিসার কাজী মো. মুনছুর জানান, অফিস থেকে খোঁজ খবর নিয়ে ব্যবস্থা নেয়া হবে। পরিবারের লোকজনকে অফিসে আসতে বলা হয়েছে। ইউনিয়ন পরিষদ থেকে তালিকা দেয়া হলে ব্যবস্থা নেয়া হবে। 

গাংনীর ইউএনও আর এম সেলিম শাহনেওয়াজ জানান, যেহেতু পরিবারের সবাই প্রতিবন্ধী তাদের জন্য বিশেষ কিছু করা যাবে। পরিবারটি সম্পর্কে খোঁজ খবর নেয়া হয়েছে। সরকারিভাবে যতটুকু সম্ভব সহযোগিতা করা হবে। যে সব যুবক এবং প্রবাসীরা অসহায় পরিবারের প্রতি সহযোগিতার হাত বাড়িয়েছেন তাদেরও ধন্যবাদ জানান তিনি। 

ডেইলি বাংলাদেশ/এমকে/জেএইচ