কারাগার নয়, বাড়িতে ‘ব্যতিক্রমী’ সাজায় যেমন কাটছে আসামির দিন

কারাগার নয়, বাড়িতে ‘ব্যতিক্রমী’ সাজায় যেমন কাটছে আসামির দিন

সাতক্ষীরা প্রতিনিধি ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

প্রকাশিত: ১৩:৫৬ ২ ডিসেম্বর ২০২০   আপডেট: ১৫:১৮ ৩ ডিসেম্বর ২০২০

ছবি: সংগৃহীত

ছবি: সংগৃহীত

সংশোধনের সুযোগ দিয়ে মাদক মামলার আসামি আসামি হাসান আলী সরদারকে ব্যতিক্রমী রায় দিয়েছেন সাতক্ষীরা জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট দ্বিতীয় আদালতের বিচারক ইয়াসমিন নাহার। রায়ে এক বছর সাজা প্রদান করে পাঁচটি শর্তে আসামিকে প্রবেশনে বাড়িতে থাকার সুযোগ দেয়া হয়।

শর্তগুলো হলো- কোনো প্রকার মাদক বা নেশাজাতীয় দ্রব্য সেবন করবেন না। কোনো খারাপ সঙ্গীর সঙ্গে মিশবেন না। প্রবেশনকালীন সময়ে ১০টি বৃক্ষ রোপণ করতে হবে। পিতা-মাতার সেবা করতে হবে। সপ্তাহে কমপক্ষে একদিন মাদকের বিরুদ্ধে প্রচারণা চালাতে হবে। শর্ত ভঙ্গ করলে আসামিকে আবারো যেতে হবে কারাগারে। শর্ত সঠিকভাবে পালন করলে এক বছরের সাজা বাতিল হয়ে যাবে।

আর এরপরেই বদলে যায় সাজাপ্রাপ্ত আসামি হাসান আলী সরদারের জীবন। বর্তমানে মা-বাবার সেবা, গাছ লাগানো ও মাদকবিরোধী প্রচারণা চালিয়ে সময় কাটছে তার। 

যারা মাদকের সঙ্গে জড়িত তাদের উদ্দেশ্যে এই সাজাপ্রাপ্ত মাদক ব্যবসায়ী বলছেন, মাদক ভালো জিনিস নয়, সমাজকে ক্ষতি করে। আপনারা ভালো হয়ে যান।

হাসান আলী সরদার (৩৮) সাতক্ষীরা সদর উপজেলার কুশখালি ইউনিয়নের ভাদড়া গ্রামের রজব আলী সরদারের ছেলে। সাত বছর আগে মাদক ব্যবসায় জড়িয়ে পড়েন হাসান আলী। ২০১৫ সালে তিন কেজি গাঁজাসহ সাতক্ষীরা সদরের খানপুর বাজার এলাকা থেকে র‌্যাবের হাতে আটক হয়ে দীর্ঘদিন ছিলেন কারাগারে। র‌্যাবের পক্ষ থেকে দেয়া হয় একটি মাদক মামলা।

গত ১০ নভেম্বর সাক্ষ্য শেষে সাতক্ষীরা জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট দ্বিতীয় আদালতের বিচারকের এমন ব্যাতিক্রমী সাজায় বদলে যায় আসামীর জীবন। 

দণ্ডপ্রাপ্ত আসামি হাসান আলী জানান, আদালত যে শর্ত দিয়ে আমাকে বাড়িতে থাকার সুযোগ দিয়েছেন সেই সকল শর্ত আমি মেনে চলছি। গাছ লাগিয়েছি, কুলের বাগান করে ব্যবসা শুরু করেছি। মাদকবিরোধী প্রচার প্রচারণা চালাচ্ছি। মা-বাবার সেবা করছি।

যারা মাদকের সঙ্গে জড়িত তাদের উদ্দেশ্যে বলব, আমাকে দেখে শিখুন। মাদক ভালো জিনিস নয়, সমাজকে ক্ষতি করে। আপনারা ভালো হয়ে যান।

হাসান আলীর বাবা রজব আলী সরদার বলেন, হাসান এখন অনেক বদলে গেছে। মাঠে-ঘাটে কাজ করে। আমাদের খোঁজখবর নেয়, সেবাযত্ন করে। এতে আমরা খুশি।

মা আকলিমা খাতুন জানান, বাড়িতে গাছ লাগিয়েছে, ঘের করছে, কুলবাগান করেছে। আমাদের সেবাযত্ন সব সময় করে। বউ-বাচ্চারও সেবা করে। আগের থেকে অনেক পরিবর্তন হয়েছে তার।

মাদক মামলাটি পরিচালনাকারী আসামি পক্ষের আইনজীবী এটিএম ফখরুল আলম জানান, তিন কেজি গাঁজাসহ আটকের পর র‌্যাব সাতক্ষীরা সদর থানায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে একটি মাদক মামলা দায়ের করে। মামলার জিআর নং ৪৩/১৫ (টিআর ২৯/১৬)।

গত ১০ নভেম্বর মামলাটির রায় ঘোষণা করেন আদালত। আদালত আসামিকে এক বছরের সাজা দিয়ে বাড়িতে প্রবেশনে পাঠিয়েছেন সংশোধনের জন্য। 

ডেইলি বাংলাদেশ/টিএএস/এমআর