দ্বিতীয় বিয়ে করতেই মেয়েকে হত্যা, বেরিয়ে এলো রহস্য

দ্বিতীয় বিয়ে করতেই মেয়েকে হত্যা, বেরিয়ে এলো রহস্য

হবিগঞ্জ প্রতিনিধি ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

প্রকাশিত: ০৩:৪৬ ২ ডিসেম্বর ২০২০   আপডেট: ০৩:৪৮ ২ ডিসেম্বর ২০২০

গ্রেফতার ফাহিমা আক্তার

গ্রেফতার ফাহিমা আক্তার

হবিগঞ্জ সদর উপজেলার চারিনাও গ্রামে ছয় বছরের শিশু সাথী হত্যার রহস্য উদ্ঘাটন হয়েছে। দ্বিতীয় বিয়ের পথ মসৃন করার জন্য জুসের সঙ্গে বিষপান করিয়ে মা ফাহিমা আক্তার সাথীকে হত্যা করেছেন বলে আদালতে স্বীকারোক্তি দিয়েছেন।

মঙ্গলবার দিবাগত রাতে সদর মডেল থানার ওসি মো. মাসুক আলী এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন। একই দিন সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট তৌহিদুল ইসলাম ১৬৪ ধারায় ফাহিমার জবানবন্দি রেকর্ড করে তাকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দিয়েছেন।

ফাহিমা চারিনাও গ্রামের বাসিন্দা। পার্শ্ববর্তী বাড়ির সিরাজুল ইসলামের সঙ্গে প্রায় ১৫ বছর আগে তার বিয়ে হয়। বিয়ের পর তাদের ঘরে তোফাজ্জল হোসেন, রবিউল ইসলাম সূর্য ও সাথী আক্তারের জন্ম হয়েছিল।

স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দির বরাত দিয়ে পুলিশ জানিয়েছে, ফাহিমার স্বামী সিরাজুল পেশায় টমটম চালক ও ফাহিমা একটি কোম্পানিতে কাজ করতেন। কিছুদিন আগে সিরাজুলের বন্ধু ও তার প্রতিবেশী আক্তার হোসেনের সঙ্গে ফাহিমার পরকীয়া প্রেমের সম্পর্ক হয়। সম্পর্কের পর আক্তার ফাহিমাকে মোবাইলসহ বিভিন্ন ধরনের উপহার সামগ্রী দেন এবং সিরাজুলকে ছেড়ে তাকে বিয়ের জন্য বলেন। কিন্তু তিন সন্তানকে রেখে ফাহিমা দ্বিতীয় বিয়েতে সম্মত হচ্ছিলেন না।

একদিন সিরাজুলকে ডিভোর্স দেয়ার উদ্দেশ্যে আক্তারকে নিয়ে আদালতেও যান ফাহিমা। কিন্তু তিন সন্তানের কথা মনে হলে সেখান থেকে ফিরে আসেন। আরো কিছুদিন গেলে ফাহিমার তিন সন্তানকে হত্যার পর দ্বিতীয় বিয়ের পরিকল্পনা করেন দু’জন।

পরিকল্পনা অনুযায়ী গত ১৮ অক্টোবর বিকেলে ফাহিমা তার স্বামী সিরাজুলকে টমটম চালাতে পাঠিয়ে দেন। এরপর লিচু জুসের সঙ্গে বিষ মিশিয়ে তিন সন্তানকে পান করান ফাহিমা ও তার পরকীয়া প্রেমিক আক্তার।

এরপর ফাহিমা ও তার খালা শাশুড়ি বিষাক্রান্ত তিন শিশুকে হবিগঞ্জ আধুনিক জেলা সদর হাসপাতালে নিয়ে গেলে দায়িত্বরত চিকিৎসক সাথীকে মৃত ঘোষণা করেন। আশঙ্কাজনক অবস্থায় তোফাজ্জল হোসেন, রবিউল ইসলামকে সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়।

ঘটনার প্রায় এক মাস পর গত ২৪ নভেম্বর হবিগঞ্জ সদর মডেল থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করা হয়। মামালার পরিপ্রেক্ষিতে গত ২৯ নভেম্বর সদর মডেল থানা পুলিশ ফাহিমাকে গ্রেফতার এবং আদালতে তিনদিনের রিমান্ডে মঞ্জুর করে। এরপর মঙ্গলবার নিজ মেয়েকে হত্যার বর্ণনা দিয়ে আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন ফাহিমা।

সদর মডেল থানার ওসি মো. মাসুক আলী জানান, সিলেট থেকে চিকিৎসা নিয়ে তোফাজ্জল ও রবিউল এখন সুস্থ অবস্থায় তাদের বাবার কাছে আছে। আক্তারকে গ্রেফতারে পুলিশি অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

ডেইলি বাংলাদেশ/আরএম