বাল্যবিয়ের অভিশাপে দুঃসহ জীবন কাটছে বৃষ্টির

বাল্যবিয়ের অভিশাপে দুঃসহ জীবন কাটছে বৃষ্টির

সিরাজগঞ্জ প্রতিনিধি ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

প্রকাশিত: ০১:০৩ ২ ডিসেম্বর ২০২০  

কিশোরী বৃষ্টি খাতুন

কিশোরী বৃষ্টি খাতুন

বাল্যবিবাহের অভিশাপে শারীরিক প্রতিবন্ধী হয়ে এখন দুঃসহ জীবনযাপন করছে কিশোরী বৃষ্টি খাতুন। সে সিরাজগঞ্জের তাড়াশ উপজেলার দেশীগ্রাম ইউনিয়নের কাটাগাড়ি আদর্শ গ্রামের মৃত নুর হোসেন ও মোছা. বাঁচা খাতুনের মেয়ে।

বৃষ্টি খাতুন জানায়, উপজেলার বলদিপাড়া দাখিল মাদরাসায় ৭ম শ্রেণিতে পড়া অবস্থায় ২০১৯ সালের মাঝামাঝিতে পার্শ্ববর্তী দেশিগ্রামের আবদুল মতিনের ছেলে আব্দুল মমিনের সঙ্গে তার বিয়ে হয়। কিন্তু কোনোভাবেই সে স্বামী, সংসার ও পরিবারের সঙ্গে মানিয়ে চলতে পারছিল না। স্বামীকে দেখলেই তার খুব ভয় লাগত। এ বিষয়টা কেউই বুঝতে চাইত না। আবার কেউ মেনেও নিত না। এতো ভয়ের মধ্যে বেঁচে থাকার আশা ছেড়ে দিয়ে সে আত্মহত্যার সিদ্ধান্ত নেয়। পরে কীটনাশক পানে সে আত্মহত্যার চেষ্টা করে। অনেক চিকিৎসার পর প্রাণে বেঁচে গেলেও তার দুই পায়ের শক্তি হারিয়ে যায়। সে এখন পায়ে ভর দিয়ে হাঁটতে পারে না। ফলে লাঠিতে ভর দিয়ে কোনো রকমে খুঁড়িয়ে খুঁড়িয়ে হাঁটে।

বৃষ্টির মা বাঁচা খাতুন জানান, দেরিতে হলেও বুঝতে পেরেছি যে, মেয়েকে এতো অল্প বয়সে বিয়ে দেয়া আমার মোটেও ঠিক হয়নি। তাই মেয়েকে আরো কিছুদিন নিজের কাছে নিয়ে এসে রাখতে চেয়েছিলাম। জামাই আবদুল মোমিন ও বেয়াই আবদুল মতিনকে অনুরোধও করেছিলাম। আরো কিছুদিন আমার বাড়িতে রেখে দিতে। তারপর ঠিক হলে পাঠাতে চেয়েছিলাম। কিন্তু তারা রাজি হয়নি। সপ্তাহ পার না হতেই জামাই চলে আসতো আমার বাড়িতে। এতে মেয়ে আরো ভয়ে পেয়ে যেতো। ফলে সে আত্মহত্যার চেষ্টা করে।

তিনি আরো জানান, মেয়ের জীবনটা দুঃসহ হয়ে উঠেছে। মমিন আবারো বিয়ে করেছে। তাকে নিয়ে সংসার করছে। আমার মেয়েটা আমার বাড়িতে এভাবে পড়ে আছে। তার কোনো খোঁজ-খবরও নেয় না। মেয়েটা এখন শারীরিক প্রতিবন্ধী হওয়ার পাশাপাশি মানসিক যন্ত্রণায় ভুগছে। দু’জনের বয়স না হওয়ায় বিয়ের নিবন্ধন করাও সম্ভব হয়নি। ফলে আমরা কোথাও কোনো আইনি সহায়তা পাচ্ছি না।

এ বিষয়ে বৃষ্টির স্বামী আব্দুল মমিন জানায়, বৃষ্টিকে এক লাখ টাকা দিতে চেয়েছি। কিন্তু তার অভিভাবকরা তা নেয়নি।

এদিকে মঙ্গলবার দুপুরে সরেজমিনে বৃষ্টির বাড়িতে গিয়ে দেখা যায়, সে নিজ বাড়ির উঠানে লাঠিতে ভর দিয়ে বসে আছে।

তাড়াশের বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থার মাধ্যমে জানা যায়, তাড়াশে কন্যা সন্তানের অভিভাবকরা মেয়ে একটু বড় হলেই বিয়ে দেয়ার জন্য উঠেপড়ে লাগে। এর নেতিবাচক প্রভাবের শিকার বৃষ্টি। 

তাড়াশ ইউএনও মো. মেজবাউল করিম বলেন, ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করে বাল্যবিয়ে সাময়িক বন্ধ করা গেলেও তা শেষ পর্যন্ত আটকে থাকছে না। পরে গোপনে বিয়ে দিয়ে দেয়। মাঝে মধ্যেই এ বিষয়ে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করে দোষীদের জেল-জরিমানা করা হয়। অভিভাবকরা সচেতন না হওয়ায় গোপনে এ কাজ চলছে। বৃষ্টির বিষয়ে খোঁজ-খবর নিয়ে অচিরেই প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে। 

ডেইলি বাংলাদেশ/আরএম