সন্ধ্যা নামলেই মাদকের আখড়া বসে সুইমিংপুলে

সন্ধ্যা নামলেই মাদকের আখড়া বসে সুইমিংপুলে

বরিশাল প্রতিনিধি ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

প্রকাশিত: ১২:০৫ ১ ডিসেম্বর ২০২০  

সন্ধ্যা নামলেই মাদকের আখড়া বসে বরিশালের পরিত্যক্ত সুইমিংপুলে

সন্ধ্যা নামলেই মাদকের আখড়া বসে বরিশালের পরিত্যক্ত সুইমিংপুলে

বরিশালে প্রায় ২৩ বছর আগে সুইমিংপুল নির্মাণ করে জেলা ক্রীড়া সংস্থা। অবকাঠামোগত ত্রুটির কারণে নির্মাণের পর থেকেই এক প্রকার অচল হয়ে আছে পুলটি। শুরু থেকেই একদিনও ব্যবহৃত না হওয়ার সাঁতারুদের বদলে সুইমিংপুলে আনাগোনা বেড়েছে মাদকসেবীদের। প্রতিদিন সন্ধ্যা নামলেই এখানে বসে মাদকের আখড়া। গভীর রাত পর্যন্ত কয়েকটি দলে ভাগ হয়ে চলে মাদক সেবন।

মাদকের মতো অপরাধ থেকে তরুণদের দূরে রাখতে না পারায় জেলায় সাঁতারু তৈরি করতে পারছে না নগরের চাঁদমারী এলাকায় শহীদ আব্দুর রব সেরনিয়াবাত স্টেডিয়াম সংলগ্ন সুইমিংপুলটি। প্রায় দুই যুগ পরিত্যক্ত অবস্থায় পড়ে থাকায় এরই মধ্যে অনেক আসবাব ও যন্ত্রপাতি চুরি হয়ে গেছে।

জেলা ক্রীড়া সংস্থা জানায়, ১৯৯৭ সালে তিন কোটি ৭৫ লাখ টাকা ব্যয়ে বরিশাল স্টেডিয়ামের উত্তর পাশে নির্মাণ করা হয় সুইমিংপুলটি। স্টিলের পাতের বাক্স দিয়ে পুলের কূপ (বেসিন) ঢালাই দেয়ার কথা থাকলেও নির্মাণের সময় ব্যবহার করা হয় কাঠের বাক্স। এতে কূপে পরীক্ষামূলকভাবে পানি তুলতে গিয়েই বাক্সগুলো ফেটে যায়। এরপর বসানো হয় দুটি পানির পাম্প। সমস্যার পুরোপুরি সমাধান না করায় কাজে আসেনি সেগুলোও।

সরেজমিনে দেখা গেছে, অরক্ষিত সুইমিংপুলটির চারপাশে আগাছা, পলেস্তারা খসে পড়ে জরাজীর্ণ হয়ে গেছে দেয়াল, নষ্ট হয়ে গেছে টাইলস। সন্ধ্যার পর পরিত্যক্ত সুইমিংপুল এলাকা পরিণত হয় মাদকসেবীদের আখড়ায়। পুরো এলাকা অন্ধকার থাকায় গভীর রাত পর্যন্ত নির্বিঘ্নে চলে মাদক সেবন।

জেলা ক্রীড়া সংস্থার দফতর সম্পাদক মাইনুল ইসলাম জানান, প্রতি বছর জাতীয় সাঁতার প্রতিযোগিতায় বরিশাল থেকে কয়েকজন অংশ নিলেও এখন পর্যন্ত এ জেলার পদক অর্জনের রেকর্ড নেই। একজন কোচ আছেন, সুইমিংপুল পরিত্যক্ত থাকায় তিনি স্থানীয় পুকুরে সাঁতার প্রশিক্ষণ দেন। এ অবস্থায় দক্ষ সাঁতারু তৈরি করা সম্ভব নয়।

বরিশাল জেলা ক্রীড়া সংস্থার সভাপতি ও জেলা প্রশাসক এসএম অজিয়র রহমান বলেন, শুরু থেকেই সুইমিংপুলটি কোনো কাজে আসেনি। এটি ব্যবহারের উপযোগী করতে একটি প্রস্তাবনা তৈরি করে ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছিল। এর পরিপ্রেক্ষিতে করণীয় সম্পর্কে জানতে চাওয়া হয়েছে। এখন বিষয়টি ভালোভাবে পর্যবেক্ষণ করে মতামত দেয়া হবে।

ডেইলি বাংলাদেশ/এআর