চট্টগ্রামে সুবিধাবঞ্চিত শিশুদের শিক্ষায় পুলিশের বিট স্কুল

চট্টগ্রামে সুবিধাবঞ্চিত শিশুদের শিক্ষায় পুলিশের বিট স্কুল

আদনান সাকিব, চট্টগ্রাম ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

প্রকাশিত: ১১:২৬ ১ ডিসেম্বর ২০২০  

পুলিশের বিট স্কুলে পড়াশোনা করছে পথশিশুরা

পুলিশের বিট স্কুলে পড়াশোনা করছে পথশিশুরা

কেউ ভিক্ষা করে। আবার কেউ করে ফুল বিক্রি আর পেপার। কেউ কেউ করে চুরি-ছিনতাই। থাকে রাস্তা অথবা রেলওয়ের পড়ে থাকা কোনো খালি বগিতে। অনেকেই থাকে রেলওয়ের ফ্লাটফর্মে। যাদের বয়স ৫-১০ বছরের মধ্যে। বেশিরভাগেরই কোনো পরিচয় নেই। সবাই তাদের পথশিশু কিংবা সুবিধাবঞ্চিত শিশু বলে জানে।

এ সব শিশুদের স্বশিক্ষিত করতে, তাদের স্বপ্নগুলোকে আলোর পথ দেখাতে চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশের ডবলমুরিং থানার কয়েকজন পুলিশ সদস্য নিয়েছেন এক অনন্য উদ্যোগ। যা এরই মধ্যে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমসহ বিভিন্ন মহলে ব্যাপক সাড়া ফেলেছে।

পথশিশুদের জন্য বিট স্কুল চালু করেছেন ডবলমুরিং থানাধীন আগ্রাবাদ পুলিশ ফাঁড়ি ও ৭২ নম্বর বিটের ইনচার্জ এসআই অর্নব বড়ুয়া, সহকারী বিট ইনচার্জ এএসআই মিটু দাশ।  

পুলিশের এমন উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়ে এগিয়ে এসেছেন আরো অনেক ব্যক্তি ও সংগঠন। শিশুদের কেউ দিচ্ছেন খাদ্য ও বস্ত্র। আবার অনেকেই দিচ্ছেন চিকিৎসা সেবা।

এসব শিশুদের পাশে দাঁড়িয়েছে নগরীর আগ্রাবাদের মা ও শিশু হাসপাতাল। হাসপাতালের পরিচালক অধ্যাপক ডা. নুরুল হক ঘোষণা দিয়েছেন, বিট স্কুলের শিক্ষার্থীদের সব ধরনের চিকিৎসা তারা দেবেন। লায়ন্স ক্লাব অব চিটাগাং সিটির সদস্যরা বিট স্কুলের শিক্ষার্থীদের জন্য ব্যাগ উপহার দেয়ার ঘোষণা দিয়েছেন।

বিট স্কুলের শিশুদের জন্য খাদ্য, বস্ত্র, শিক্ষা উপকরণ, চিকিৎসা সেবার উদ্যোগ নিয়েছে বিভিন্ন ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠান

চলতি বছরের ২১ নভেম্বর থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে আগ্রাবাদ শিশু পার্কের সামনে খোলা জায়গায় চালু করা হয়েছে এ স্কুল। সপ্তাহের শুক্রবার ও শনিবার বিকেলে এসব শিশুদের শেখানো হয় নানা বিষয়। প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষার পাশাপাশি তাদের দেয়া হয় নৈতিক শিক্ষাও। ৩০ জন শিক্ষার্থী নিয়ে চালু হওয়া বিট স্কুলে বর্তমান শিক্ষার্থী ৫০ এর অধিক। শুক্রবার ও শনিবার ক্লাসে এসব শিশুদের খাবার ও চকলেট দেন পুলিশ সদস্যরা।  

বিট স্কুলের উদ্যোক্তা এসআই অর্নব বড়ুয়া বলেন, সিএমপি কমিশনার স্যারের নির্দেশে বিট পুলিশিং-এর বিভিন্ন কাজ করতে গিয়ে সুবিধাবঞ্চিত শিশুদের জন্য শিক্ষার ব্যবস্থা করার বিষয়টি অনুধাবন করি। আমরা দেখতে পাই, পথশিশুরা ছোট ছোট অপরাধ করে, কেউ কেউ চুরির সঙ্গে জড়িত। এক সময় বড় অপরাধের দিকে পা বাড়ায়।

তিনি আরো বলেন, সমাজে অপরাধ নিয়ন্ত্রণ করতে হলে এসব বাই ন্যাচারাল অপরাধীদের নিয়ন্ত্রণ করা জরুরি। ছোট ছোট পথশিশুদের যদি আমরা সঠিক শিক্ষা দিতে পারি তাহলে তারা অপরাধে জড়াবে না। তাদের নানা অভাব রয়েছে, আমরা যদি সেসব পূর্ণ করতে পারি তারাও সমাজের ভালো একটি অংশ হতে পারে।  

এসআই অর্নব বলেন, সম্প্রতি আগ্রাবাদ জাম্বুরি পার্কে এমন কিছু শিশুকে দেখতে পাই যারা বিভিন্নজনের কাছ থেকে টাকা চেয়ে বেড়াচ্ছে। আবার কেউ কেউ ফুল, মাস্ক বা পত্রিকা বিক্রি করছে। কয়েকজনের সঙ্গে কথা বলে পড়ালেখা করবে কী না জানতে চাইলে তাদের আগ্রহ দেখতে পাই। মূলত এসব শিশুদের আগ্রহ থেকে বিট স্কুলটি চালু করেছি।

ডেইলি বাংলাদেশ/এআর