সাময়িক বরখাস্ত হলেন আদিতমারীর উপজেলা চেয়ারম্যান

সাময়িক বরখাস্ত হলেন আদিতমারীর উপজেলা চেয়ারম্যান

লালমনিরহাট প্রতিনিধি ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

প্রকাশিত: ০১:০৬ ১ ডিসেম্বর ২০২০  

আদিতমারী উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান ফারুক ইমরুল কায়েস-ফাইল ফটো

আদিতমারী উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান ফারুক ইমরুল কায়েস-ফাইল ফটো

লালমনিরহাটের আদিতমারীর ইউএনও মুহাম্মদ মনসুর উদ্দিনের সঙ্গে অসদাচারণ, দুর্ব্যবহার, অশ্রাব্য ভাষায় গালিগালাজসহ বিভিন্ন অভিযোগে আদিতমারী উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান ফারুক ইমরুল কায়েসকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে।

একই সঙ্গে উপজেলা পরিষদের প্যানেল চেয়ারম্যান-১ কে উপজেলা পরিষদের কার্যক্রম পরিচালনার জন্য পরিষদের আর্থিক ক্ষমতাও প্রদান করা হয়েছে।

স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রনালয়ের উপ-সচিব নুমেরী জামান স্বাক্ষরিত একটি চিঠি থেকে সোমবার সন্ধ্যায় এ তথ্য জানা গেছে।

লালমনিরহাটের ডিসি খবরটি সন্ধ্যা সাড়ে ৭টায় গণমাধ্যমকে নিশ্চিত করেছেন।

চিঠিতে বলা হয়, তিনি উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান নির্বাচিত হওয়ার পর থেকে পরিষদের বিভিন্ন দপ্তরে আর্থিক বিষয়ে অনৈতিক দাবি প্রতিষ্ঠিত করার চেষ্টা করে আসছেন। এ ছাড়া পল্লী উন্নয়ন কর্মকর্তা নুরেলা আকতারের সঙ্গে অশোভন আচরন প্রদর্শন করেছেন। উপজেলা চেয়ারম্যানের এসব কর্মকাণ্ড উপজেলা পরিষদের কর্মরত কর্মচারীদের মধ্যে হতাশা ও ক্ষোভের সৃষ্টি করে, যাতে উপজেলা পরিষদের কার্যক্রম বাস্তবায়নে অচলাবস্থা সৃষ্টি ও জনস্বার্থ মারাত্মকভাবে বিঘ্নিত হতে পারে। এ সমস্ত কারণে তার এ পদে বহাল থেকে উপজেলা পরিষদের কার্যক্রম পরিচালনা রাষ্ট্র বা পরিষদের স্বার্থের পরিপন্থি। এ কারণে উপজেলা পরিষদ আইন, ১৯৯৮ (উপজেলা পরিষদ সংশোধন) আইন, ২০১১ দ্বারা সংশোধিত এর ১৩(খ)(১)ধারা অনুসারে লালমনিরহাট জেলার আদিতমারী উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান মো. ফারুক ইমরুল কায়েসকে আদিতমারী উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যানের পদ হতে সাময়িক বরখাস্ত করা হলো।

গত ১৩ নভেম্বর প্রশাসনের ১৭ কর্মকর্তা হুমকী, অসদাচরণসহ নানান অভিযোগ এনে লালমনিরহাটের ডিসির কাছে প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য একটি অভিযোগ দেন। গত ১২ নভেম্বর বৃহস্পতিবার দুপুর ১২টার দিকে উপজেলা পরিষদের মাসিক সমন্বয় সভা চলাকালীন উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান ফারুক ইমরুল কায়েস উপজেলা মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তার কাছে ভিজিডি ও মাতৃত্বকালীন ভাতার কার্ডের অংশ দাবি করেন। চেয়ারম্যানের এই কথার প্রেক্ষিতে আদিতমারীর ইউএনও মুহাম্মদ মনসুর উদ্দিন বিধি মোতাবেক তালিকা প্রণয়নের কথা বললে ক্ষিপ্ত হয়ে সভাস্থল ত্যাগ করেন উপজেলা চেয়ারম্যান।

অভিযোগ রয়েছে, এর কিছুক্ষণ পর ইউএনও অফিস সংলগ্ন করিডোরে লাগানো সিসি টিভি ক্যামেরাটি উপজেলা চেয়ারম্যান তার একজন ব্যক্তিগত লোক দিয়ে খুলে ফেলতে থাকেন। বিষয়টি ইউএনও’র দৃষ্টিতে এলে তিনি তাৎক্ষণিক সিসি টিভি ক্যামেরা খোলার দৃশ্যটি মোবাইল ক্যামেরা দিয়ে ছবি তুলতে গেলে চেয়ারম্যান ক্ষিপ্ত হয়ে উত্তেজিত অবস্থায় অকথ্য ভাষায় গালমন্দ করতে থাকেন। এ সময় উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা চেয়ারম্যানকে নিবৃত্ত করার চেষ্টা করলে উত্তেজিত হয়ে প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তাকেও হুমকি দেন। এ সময় অন্যান্য অফিসাররা এর প্রতিবাদ জানালে তাদেরও গালিগালাজ করেন চেয়ারম্যান।

পুলিশ জানায়, খবর পেয়ে আদিতমারীর থানার ওসি’র নেতৃত্বে একদল পুলিশ এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন।

এরপর উপজেলা প্রশাসনের সব কর্মকর্তা লালমনিরহাটের ডিসির কার্যালয়ে উপস্থিত হয়ে চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে একটি লিখিত অভিযোগ দেন।

এ বিষয়ে সন্ধ্যা সাড়ে ৭টায় লালমনিরহাটের ডিসি মো. আবু জাফরের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের একটি প্রজ্ঞাপনে উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যানকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে।

ডেইলি বাংলাদেশ/জেএইচ