শিশুর পুরো শরীরে খুন্তির ছ্যাঁকা দিলো নারী চিকিৎসক

শিশুর পুরো শরীরে খুন্তির ছ্যাঁকা দিলো নারী চিকিৎসক

নীলফামারী প্রতিনিধি ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

প্রকাশিত: ২০:০৩ ৩০ নভেম্বর ২০২০   আপডেট: ২০:১৯ ৩০ নভেম্বর ২০২০

রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল

রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল

নীলফামারীর কিশোরগঞ্জে নির্যাতনের শিকার ১২ বছরের এক শিশু গৃহকর্মীকে উদ্ধার করেছে পুলিশ। বর্তমানে শিশুটি রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।

৯৯৯-এ ফোন পেয়ে সোমবার বিকেলে উপজেলার বড়ভিটা ইউনিয়নের মেলাবর গ্রামের নিজ বাড়ি থেকে ওই গৃহকর্মীকে উদ্ধার করা হয়। শিশুটি একই গ্রামের তালিকাভুক্ত এক ভিক্ষুকের মেয়ে।

আরো পড়ুন: এক জোড়া নূপুরে তছনছ ৫ সংসার

নির্যাতনের শিকার শিশুটিকে প্রথমে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়। কিন্তু গোপনাঙ্গের ক্ষত মারাত্মক হওয়ায় রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠান চিকিৎসকরা। সেখানে তাকে ওয়ান স্টপ ক্রাইসিস সেন্টার ও সেল (ওসিসি) ওয়ার্ডে ভর্তি করা হয়েছে।

শিশুটির মা বলেন, দুই বছর ধরে আমার মেয়ে রংপুর শহরের আদর্শপাড়া মহল্লার দন্ত চিকিৎসক কান্তা বেগম ও রেজাউল বারী দম্পতির বাসায় কাজ করতো। ডালিম চন্দ্র রায় নামে এক ব্যক্তি তাকে সেখানে নেন। কান্তার স্বামী রেজাউল বারী নওগাঁয় সরকারি চাকরি করেন।

২৮ নভেম্বর আমাকে কান্তা খাতুনের বাসায় নিয়ে যান ডালিম চন্দ্র রায়। সেখানে গেলে তারা জানান আমার মেয়ে টাকা চুরি করেছে। তাই তারা তাকে আর বাসায় রাখবেন না।

আরো পড়ুন: সকালে উঠানে খেলছিল ছেলে, দুপুরে হলো লাশ

এ সময় আমার মেয়ে বলে টাকা চুরি করেনি। তবু বাড়ির লোকজন মেয়েকে নির্যাতন ও গোপনাঙ্গে খুন্তির ছ্যাঁকা দিয়েছে। এ অবস্থায় দন্ত চিকিৎসক কান্তা বেগম ও তার স্বামী ৩০০ টাকার একটি সাদা স্ট্যাম্পে আমার স্বাক্ষর নিয়ে মেয়েকে আমার হাতে তুলে দেন। আমি মেয়েকে নিয়ে গ্রামে ফিরে আসি। এখানে এসে মেয়ের শারীরিক অবস্থা খারাপ দেখতে পেয়ে গ্রামবাসীকে বিস্তারিত জানাই। সোমবার দুপুরে গ্রামের লোকজন পুলিশে খবর দেয়।

ওই গ্রামের বাসিন্দা নুরউদ্দিন বলেন, বিষয়টি জানার পর ৯৯৯-এ কল দিয়ে বিস্তারিত জানাই। এরপর পুলিশ এসে শিশুটিকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে যায়।

কিশোরগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জরুরি বিভাগের চিকিৎসক সাবির হোসেন সরকার বলেন, শিশুটির সারা শরীরে ও গোপনাঙ্গে ক্ষতের চিহ্ন মারাত্মক। দেরি না করে পুলিশের মাধ্যমে শিশুটিকে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ওসিসি ওয়ার্ডে পাঠানো হয়েছে। সেখানে তাকে ভর্তি করা হয়।

আরো পড়ুন: ৮ হাজার ফ্যান অর্ডার দিয়ে ট্রাকভর্তি ইট-ঝুট কাপড় পেলেন ব্যবসায়ী

এ ব্যাপারে দন্ত চিকিৎসক কান্তা বেগম বলেন, মেয়েটি টাকা চুরি করেছে। এজন্য তার মাকে ডেকে আনা হয়। পরে মেয়েটির মা তাকে মেরেছে। আমরা মারিনি বা নির্যাতন করিনি।

নির্যাতনের শিকার শিশুটি জানায়, দন্ত চিকিৎসক কান্তা বেগম ও তার স্বামী রেজাউল বারী, বারীর মা খালেদা বেগম আমাকে নির্যাতন করেছেন। পরে তারা আমার গোপনাঙ্গে খুন্তির ছ্যাঁকা দেন।

কিশোরগঞ্জ থানার ওসি (তদন্ত) মফিজুল হক বলেন, ৯৯৯ নম্বরে কল পেয়ে শিশুটিকে উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। এ ঘটনায় থানায় জিডি করা হয়েছে। শিশুটিকে রংপুর জেলা পুলিশের কাছে হস্তান্তর করে চিকিৎসকের পরামর্শে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

ডেইলি বাংলাদেশ/এমআর