ঠেলাগাড়িতে দাদা-নাতির মধুর সম্পর্ক

ঠেলাগাড়িতে দাদা-নাতির মধুর সম্পর্ক

মেহেরপুর প্রতিনিধি ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

প্রকাশিত: ১৮:২১ ৩০ নভেম্বর ২০২০   আপডেট: ১৮:৩৭ ৩০ নভেম্বর ২০২০

নাতিকে ঠেলাগাড়িতে নিয়ে ঘোরাচ্ছেন মোফাজ্জেল হোসেন

নাতিকে ঠেলাগাড়িতে নিয়ে ঘোরাচ্ছেন মোফাজ্জেল হোসেন

নাতি-নাতনিদের প্রতি আগের মতো সেই ভালোবাসা নেই দাদা-দাদি কিংবা নানা-নানির। সময়ের ব্যবধানে অনেকটাই বদলে গেছে মধুর সেই সম্পর্ক। নাতি-নাতনিরা ঘুমাতে না চাইলে বিভিন্ন ধরনের গল্প শুনিয়ে ঘুম পাড়াতেন বয়োজ্যেষ্ঠ এসব মানুষ।

এক সময় গ্রামীণ সড়কে বাঁশ, কাঠ ও সাইকেলের বিয়ারিং দিয়ে বানানো ঠেলাগাড়ি দেখা যেতো। এসব গাড়িতে চড়ে উচ্ছ্বসিত থাকতো আদরের নাতি-নাতনিরা। তবে এখন গ্রামীণ জীবনেও ছোঁয়া লেগেছে শহরের আধুনিকতায়। শিশুরা এখন ইন্টারনেট কিংবা মোবাইল ফোনে গেম খেলা নিয়ে ব্যস্ত থাকে। এসব কাজে আবার উদ্বুদ্ধ করছেন অনেক বাবা-মা।

আধুনিকতার এমন যুগে মেহেরপুরের গাংনী উপজেলার নওপাড়া গ্রামে চোখে পড়ল হাতে বানানো সেই ঠেলাগাড়ির। এক বছর বয়সী মোছায়েম নামে আদরের নাতিকে সেই গাড়িতে চড়িয়ে ঘুরছেন মোফাজ্জেল হোসেন। তার বড় ছেলে ও পুত্রবধূ পেশায় শিক্ষক। তিনি একজন কৃষক। তাই কাজ শেষে বিকেলের দিকে এভাবেই নাতি-নাতনিদের ঘুরতে বের হন।

মোফাজ্জল হোসেন জানান, নাতি-নাতনিদের সময় দিতে বাঁশ ও বিয়ারিং দিয়ে ঠেলাগাড়ি বানিয়েছেন তিনি। মূলত গ্রামীণ ঐতিহ্য ধরে রাখতেই এসব বানিয়েছেন।

সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব ও শিশু সংগঠক সিরাজুল ইসলাম বলেন, আমরা নিজেরাই আমাদের শিশুদের ধ্বংস করছি। মাতৃত্বের সঙ্গে তাদের পরিচয় না করিয়ে ভিনদেশি সংস্কৃতির মাঝে ডুবিয়ে দিচ্ছি। ফলে আমাদের শিশুরা নৈতিক চরিত্র যেমন হারাচ্ছে তেমনি আমরা হারাচ্ছি নিজস্ব ঐতিহ্যকে। তাই শিশুদের মানসিক বিকাশ ও নিজেদের সংস্কৃতির বলয়কে ধরে রাখতে অভিভাবকদের সচেতন হতে হবে।

ডেইলি বাংলাদেশ/এমআর