তিন মাসেও বন্যার ক্ষতি পোষাতে পারেননি মাল্টা চাষিরা

তিন মাসেও বন্যার ক্ষতি পোষাতে পারেননি মাল্টা চাষিরা

মাদারীপুর প্রতিনিধি ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

প্রকাশিত: ১০:০৯ ৩০ নভেম্বর ২০২০  

বন্যার পানি উঠে মরে গেছে সব গাছ, শুকিয়ে গেছে লাখ টাকার মাল্টা

বন্যার পানি উঠে মরে গেছে সব গাছ, শুকিয়ে গেছে লাখ টাকার মাল্টা

মাদারীপুরে চলতি বছরের বন্যায় মাল্টা বাগানের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। বন্যার পানিতে মাল্টা গাছ মরে যাওয়ায় উদ্যোক্তাদের লাখ টাকার গাছে ক্ষতি হয়েছে। পানি নেমে যাওয়ার পরও ক্ষতি কাটিয়ে উঠতে পারেননি বাগান মালিকরা। তিন মাস ধরে কষ্ট বয়ে বেড়াচ্ছেন তারা।

জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতর সূত্রে জানা গেছে, মাদারীপুর সদর, কালকিনি, রাজৈর ও শিবচর উপজেলার কৃষকদের উদ্বুদ্ধকরণের ফলে প্রতি বছরই নতুন নতুন মাল্টা বাগান তৈরি হচ্ছে। চলতি বছর এ জেলায় ১০ হেক্টর জমিতে মাল্টা চাষ হয়েছে। শিবচর উপজেলায় বন্যা বেশি হওয়ায় সেখানকার মাল্টা বাগান বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

শিবচর উপজেলার দ্বিতীয় খন্ড ইউনিয়নের নিয়ামতকান্দি গ্রামের মাল্টা বাগানের মালিক শাখাওয়াত হোসেন বলেন, ২০১৭ সালের শেষের দিকে ৯০ শতাংশ জমিতে প্রায় সাত লাখ টাকা ব্যয়ে বাগান তৈরি করি। বাগানে মাল্টা, লেবু, আম, লিচু ও পেয়ারাসহ বিভিন্ন ধরনের গাছ লাগাই। আমার সাড়ে তিনশ গাছের মধ্যে দেড়শ গাছে মাল্টার ফলন ধরেছিল। চলতি বছরের বন্যায় বাগানের মাল্টা, লেবু, আম, লিচু, পেয়ারা, বড়ইসহ প্রায় ছয়শ গাছ মরে গেছে।

বন্যার পানি উঠে মরে গেছে সব গাছ, শুকিয়ে গেছে লাখ টাকার মাল্টা

একই উপজেলার বহেরাতলা দক্ষিণ ইউনিয়নের সোনাখাঁরকান্দি গ্রামের আফজাল হোসেন সবুজ বলেন, ২০১৭ সালের শেষের দিকে আমি ১২০ শতাংশ জমি লিজ নিয়ে তিন শতাধিক মাল্টা গাছ লাগাই। নিজের পুঁজি ও আত্মীয় স্বজনের কাছ থেকে ধার দেনা করে বাগানটি তৈরি করি। বেশির ভাগ গাছে মাল্টা ধরেছিল। বন্যার পানি উঠে মাল্টাসহ ১৬০টি গাছ মরে গেছে।

জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের উপ-পরিচালক মোয়াজ্জেম হোসেন বলেন, বন্যায় ধান, পাটের পাশাপাশি মাদারীপুরে মাল্টা বাগানগুলোও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের জন্য ১০৪ কোটি টাকা সরকারিভাবে অনুদান পাওয়া গেছে। এই টাকায় ভুক্তভোগীদের সার, বীজ কিনে দেয়া হয়েছে।

তিনি আরো বলেন, কিছু মাল্টা গাছ মরে গেছে। মাল্টাসহ কোনো ফল বাগানের মালিক ক্ষতিপূরণের আওতায় আসেননি।

ডেইলি বাংলাদেশ/এআর