বালিশ চাপা দিয়ে শ্বশুরকে হত্যা, রহস্য উদ্ঘাটন 

বালিশ চাপা দিয়ে শ্বশুরকে হত্যা, রহস্য উদ্ঘাটন 

সাতক্ষীরা প্রতিনিধি ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

প্রকাশিত: ২৩:৫৯ ২৮ নভেম্বর ২০২০   আপডেট: ১২:৫১ ১৩ ডিসেম্বর ২০২০

ছবি: সংগৃহীত

ছবি: সংগৃহীত

সাতক্ষীরার কলারোয়া উপজেলার দিয়াড়া দাখিল মাদরাসার শিক্ষক আবুল কালাম আজাদ বিএড পরীক্ষার জাল সনদে চাকরি করে আসছিলেন। তার সনদ জাল বলে প্রমাণিত হয়। মাদরাসা সুপারই তার সনদ জালিয়াতির ঘটনা প্রকাশ্যে আনেন।  

সুপারকে ফাঁসাতে তাই বয়োবৃদ্ধ শ্বশুরকে বালিশ চাপা দিয়ে হত্যা করা হয়। পরে ধরালো ছুরি দিয়ে গলাকেটে মরদেহ ফেলে পালিয়ে যায় ছোট জামাতা (মাদরাসা শিক্ষক) আবুল কালাম আজাদ। পুলিশের জিজ্ঞাসাবাদে এমন স্বীকারোক্তি দিয়েছেন তিনি। 

শনিবার দুপুর আড়াইটায় প্রেস ব্রিফিংয়ে এ তথ্য জানান সাতক্ষীরার এসপি মো. মোস্তাফিজুর রহমান। সাতক্ষীরায় বাবা-মায়ের হাতে ১৫ দিনের শিশু হত্যা ও কলারোয়া উপজেলার দেয়াড়া গ্রামের কৃষক মোসলেম আলী বিশ্বাস হত্যার রহস্য উদ্‌ঘাটনের ঘটনায় তিনি এ প্রেস ব্রিফিং করেন। 

এ সময় উপস্থিত ছিলেন অ্যাডিশনাল এসপি মো. আসাদুজ্জামান ও সাতক্ষীরা সদর সার্কেলের অ্যাডিশনাল এসপি মীর্জা সালাহ্ উদ্দিন।

এসপি মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, কলারোয়া উপজেলার দেয়াড়া গ্রামের কৃষক মোসলেম আলী বিশ্বাসের ছোট জামাতা দেয়াড়া দাখিল মাদরাসার শিক্ষক আবুল কালাম আজাদ। তার বিএড সার্টিফিকেট জালিয়াতির ঘটনায় সম্প্রতি তদন্ত হয়। এতে সে মাদরাসা সুপারের ওপর ক্ষুব্ধ ছিল। এ জন্য সে সুপারকে হত্যার জন্য চেষ্টা করে। সফল হতে না পেরে সে শ্বশুরকে হত্যা করে দোষ মাদরাসা সুপারের ঘাড়ে চাপানোর পরিকল্পনা করে। পরিকল্পনা মোতাবেক শ্বশুরকে গত ২৫ নভেম্বর মঙ্গলবার রাাতে নতুন বাড়িতে সে ও তার ভাতিজা হাবিবুর বালিশ চাপা দিয়ে হত্যা করে। পরে শ্বশুরকে জবাই করে ফেলে রাখে।

এসপি আরো জানান, সুপারকে ফাঁসাতে তারা এ হত্যাকাণ্ড ঘটায়। পুলিশ আবুল কালাম আজাদ ও তার ভাইপো হাবিবুরকে গ্রেফতার করে। পরদিন তাদের স্বীকারোক্তি অনুযায়ী হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত ছুরি, হ্যান্ড গ্লাভসসহ বিভিন্ন উপকরণ উদ্ধার করে। কালামকে জিজ্ঞাসাবদের জন্য আদালতে পাঁচ দিনের রিমান্ড আবেদন জানানো হয়েছে। 

শনিবার দুপুরে হাবিবুরকে ১৬৪ ধারায় জবানবন্দির জন্য আদালতে পাঠানো হয়েছে। এ ঘটনায় নিহতের ছেলে মোস্তাফিজুর রহমান বাদী হয়ে ২৬ নভেম্বর থানায় কারো নাম উল্লেখ না করে একটি মামলা দায়ের করে।

ডেইলি বাংলাদেশ/এমকে/জেডএম