‘আর কোনো মায়ের বুক যেন খালি না হয়’

‘আর কোনো মায়ের বুক যেন খালি না হয়’

মানিকগঞ্জ প্রতিনিধি ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

প্রকাশিত: ১৯:৩০ ২৮ নভেম্বর ২০২০   আপডেট: ১৯:৩১ ২৮ নভেম্বর ২০২০

নিহত জিসান

নিহত জিসান

আমার ছেলের খুনিদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দিন। আমার মতো আর কোনো মায়ের বুক যেন খালি না হয়। কান্নাজড়িত কণ্ঠে এভাবেই কথাগুলো বলছিলেন মানিকগঞ্জের শিবালয়ে খুন হওয়া কলেজছাত্র তানভীরের মা সামিয়া বেগম।

অভিযোগে জানা যায়, গত ১৫ নভেম্বর তানভীর আহাম্মেদ (জিসান) ঢাকা থেকে নানার বাড়ি যাওয়ার কথা বলে বাসা থেকে নিখোঁজ হন। জিসানের পরিবার অনেক খোঁজাখুঁজির পর ২৩ নভেম্বর মোহাম্মদপুর থানায় এ বিষয়ে একটি জিডি করেন। এদিকে, পুলিশ গত ১৮ নভেম্বর মানিকগঞ্জের পাটুরিয়া ঘাটের নিকটবর্তী পদ্মা নদী থেকে অজ্ঞাত এক যুবকের মরদেহ উদ্ধার করে মর্গে পাঠায়। মরদেহের কোনো ওয়ারিশ না থাকায় আঞ্জুমান মফিদুল ইসলাম মরদেহ দাফন করে। গত ২৫ নভেম্বর জিসানের পরিবার খবর পেয়ে মর্গে যুবকের পড়নের জামা-কাপড় দেখে নিশ্চিত করেন ওই মরদেহটি জিসানের।

এ ঘটনায় জিসানের বাবা শিবালয় থানায় অভিযোগ করলে পুলিশ ওই রাতেই থানা এলাকায় অভিযান চালিয়ে ঘটনার সঙ্গে জড়িত হাসিবুল হাসান ও আজিজুলকে গ্রেফতার করে। তাদের দেয়া তথ্য অনুযায়ী আরো তিনজনকে গ্রেফতার করা হয়।

গ্রেফতাররা হলেন, শিবালয় উপজেলার পাটুরিয়া এলাকার জুলহাসের ছেলে রাব্বী হোসেন প্রান্তিক, ছোট শাকরাইল গ্রামের ঝড় মোল্লার ছেলে নাজমুল, একই গ্রামের সমেজ মোল্লার ছেলে শরিফ হোসেন, জামাল মোল্লার ছেলে আজিজুল ও ঢাকাইজুড়ার শামীম হাসানের ছেলে হাসিবুল হাসান।

নিহত কলেজছাত্র তানভীর আহম্মেদ জিসান ঢাকার মোহাম্মদপুর কাদেরাবাদ এলাকার ব্যবসায়ী শাহীন আলমের ছেলে। তিনি মোহাম্মদপুর হাজী মুকবুল হোসেন ডিগ্রি কলেজের একাদশ শ্রেণির ছাত্র।

গতকাল শুক্রবার পুলিশের হাতে গ্রেফতাররা হত্যাকাণ্ডের বিষয় প্রাথমিকভাবে স্বীকার করেছেন। অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (শিবালয় সার্কেল) তানিয়া সুলতানা জানান, গ্রেফতার আসামিদের ভাষ্যমতে প্রধান আসামি রাব্বি ঢাকার সাদিয়া নামে এক মেয়ের সঙ্গে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে তুলেন। অপরদিকে, সাদিয়ার ভাগ্নি বিথীর সঙ্গে প্রেম ছিল নিহত জিসানের। সে সূত্রেই জিসান ও রাব্বির ঘনিষ্ঠতা। একপর্যায়ে সাদিয়া রাব্বীর প্রেমের ইতি ঘটে। তার কয়েকদিন পর জিসানের কয়েক বন্ধু রাব্বীর মোবাইল ফোন ছিনিয়ে নিয়ে তাকে অপমান করে। এতে ক্ষিপ্ত রাব্বী কৌশলে জিসানকে গত ১৫ নভেম্বর ঢাকা থেকে তার এলাকায় বেড়াতে আনে। ওই দিন বিকেলে দুটি মোটরসাইকেলে জিসানকে নিয়ে রাব্বীসহ তার সহযোগীরা ঘুরতে বের হয়। সন্ধ্যা ঘনিয়ে আসলে পাটুরিয়া ফেরিঘাট ট্রাক টার্মিনালের কাছে পদ্মা পাড়ে রাব্বী ও তার সহযোগীরা জিসানকে ছুরিকাঘাতে হত্যা করে হাত-পা বেঁধে মরদেহ নদীতে ভাসিয়ে দেয়। এ ঘটনায় গত ২৬ নভেম্বর জিসানের বাবা থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন।

মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা শিবালয় থানা পুলিশ পরিদর্শক (ওসি তদন্ত) আশীষ কুমার সান্যাল জানান, ধৃত আসামিদের দুই দফায় আদালতে পাঠানো হয়েছে। আদালতে তারা হত্যাকাণ্ডের কথা স্বীকার করে ১৪৪ ধারায় জবানবন্দি প্রদান করেছে। মামলার সুষ্ঠু তদন্তে আসামিদের জিজ্ঞাসাবাদের জন্য রিমান্ড আবেদন করলে গতকাল শুক্রবার দুজনের রিমান্ড মঞ্জুর করে আদালত। 

ডেইলি বাংলাদেশ/আরএম