আদালতের সিল-স্বাক্ষর জালিয়াতি করলেন জাপা নেতা সোলায়মান শেঠ

আদালতের সিল-স্বাক্ষর জালিয়াতি করলেন জাপা নেতা সোলায়মান শেঠ

চট্টগ্রাম মহানগর প্রতিনিধি ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

প্রকাশিত: ১৬:২৬ ২৮ নভেম্বর ২০২০   আপডেট: ১২:৫০ ১৩ ডিসেম্বর ২০২০

সোলায়মান আলম শেঠ

সোলায়মান আলম শেঠ

নিজ দলের নেতাকে ফাঁসাতে আদালতের সিলমোহর ও স্বাক্ষর জালিয়াতি করেছেন জাতীয় পার্টির প্রেসিডিয়াম সদস্য সোলায়মান আলম শেঠ। তৈরি করেছেন ভুয়া গ্রেফতারি পরোয়ানাও। পরে সেটি চট্টগ্রামের কোতোয়ালি থানায় পাঠান তিনি।

সম্প্রতি চট্টগ্রাম প্রেস ক্লাবের ইঞ্জিনিয়ার আবদুল খালেক মিলনায়তনে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে চট্টগ্রাম মহানগর জাতীয় পার্টির একাংশের নেতারা এমন অভিযোগ তোলেন। সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন জাতীয় পার্টি কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য ও জাতীয় যুব সংহতির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক নাছির উদ্দিন ছিদ্দিকী।

তিনি বলেন, রাজনৈতিক বৈরী পরিস্থিতিতে দিশেহারা, আক্রোশ ও এককভাবে ক্ষমতা টিকিয়ে রাখতে সোলায়মান আলম শেঠ নগর জাতীয় পার্টির সাবেক সাধারণ সম্পাদক বীর মুক্তিযোদ্ধা তপন চক্রবর্তীর বিরুদ্ধে লাগাতার অপপ্রচার ও প্রশাসনে মিথ্যা অভিযোগ করে আসছেন। এরই অংশ হিসেবে ৫ নভেম্বর রহস্যজনকভাবে ঢাকা নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল-২ থেকে ধর্ষণ মামলার ধারা লিখে একটি কাল্পনিক ও ভুয়া গ্রেফতারি পরোয়ানা চট্টগ্রামের কোতোয়ালি থানায় পাঠান। এ সংবাদ স্থানীয় বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশের ব্যবস্থাও করেন সোলায়মান শেঠ।

নাছির উদ্দিন ছিদ্দিকী বলেন, তপন চক্রবর্তী ঢাকার নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল-২ এ হাজির হয়ে মামলার বিষয়ে যাচাই-বাছাই করে দেখেন ওই মামলায় তার নামই নেই। এটি মূলত একটি যৌতুকের মামলা, যে মামলায় আদালত কোনো গ্রেফতারি পরোয়ানাও জারি করেননি। মামলার নথি পর্যালোচনায় দেখা গেছে, ওই মামলায় তপন চক্রবর্তী নামের কারো সংশ্লিষ্টতা নেই।

নাছির উদ্দিন ছিদ্দিকী ঢাকা নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল-২ এর সিলমোহর ও স্বাক্ষর জালিয়াতির মাধ্যমে নিজ দলের নেতার সম্মানহানি ও আদালতের মূল্যবান সময় নষ্ট করায় জাপার প্রেসিডিয়াম সদস্য সোলায়মান আলম শেঠের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা ও দলীয় পদ থেকে অপসারণের দাবি জানান।

এ বিষয়ে কোতোয়ালি থানার ওসি মোহাম্মদ মহসিন বলেন, বেশ কিছুদিন আগে আমাদের কাছে এমন (ওয়ারেন্ট) একটি কাগজ এসেছিল। আমাদের সন্দেহ হওয়ায় তা ভেরিফাই করার জন্য পাঠিয়েছি। এর মধ্যে তপন চক্রবর্তী মামলায় সংশ্লিষ্ট নেই বলে আদালত থেকে লিখিত নিয়ে এসেছিলেন।

দীর্ঘদিন ধরে দুই নেতার দ্বন্দ্বের কারণে বিভক্ত রয়েছে চট্টগ্রাম নগর জাতীয় পার্টি। এর একাংশের নেতৃত্বে রয়েছেন নগর কমিটির সভাপতি সোলায়মান আলম শেঠ। অপর অংশে রয়েছেন সাবেক এমপি মাহজাবীন মোরশেদ ও তার স্বামী মোরশেদ মুরাদ ইব্রাহিম।

ডেইলি বাংলাদেশ/এমআর/এইচএন/AN/আরএইচ/জেডএম