ধর্ষণের পর এক সন্তানের মাকে হত্যা, শ্বশুর গ্রেফতার

ধর্ষণের পর এক সন্তানের মাকে হত্যা, শ্বশুর গ্রেফতার

হবিগঞ্জ প্রতিনিধি ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

প্রকাশিত: ১৭:৩৫ ২৬ নভেম্বর ২০২০   আপডেট: ২০:৩৮ ১২ ডিসেম্বর ২০২০

নিজের ছেলের সঙ্গে তানিয়া আক্তার

নিজের ছেলের সঙ্গে তানিয়া আক্তার

হবিগঞ্জের বাহুবলে সৌদি প্রবাসীর স্ত্রী তানিয়া আক্তারকে ধর্ষণের পর হত্যার ঘটনায় শ্বশুর হারুনুর রশিদকে গ্রেফতার করেছে র‌্যাব।

বুধবার গভীর রাতে উপজেলার ভূগলী গ্রামে অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেফতার করা হয়। একইদিন রাতে তানিয়ার দেবর জানে আলমকে প্রধান আসামি করে শ্বশুর, শাশুড়ি, ননদসহ পাঁচজনের বিরুদ্ধে মামলা করেন নিহতের মা।

র‌্যাব-৯ শ্রীমঙ্গল ক্যাম্পের এসআই মনির জানান, উপজেলার ভূগলী গ্রাম থেকে নিহতের শ্বশুর হারুনুর রশিদকে গ্রেফতার করা হয়েছে।

তিন বছর আগে উপজেলার মির্জাটুলা গ্রামের সৌদি প্রবাসী নুরুল ইসলামের মেয়ে তানিয়া আক্তারের সঙ্গে বিয়ে হয় একই উপজেলার ফদ্রখলা গ্রামের সৌদি প্রবাসী শাহ আলমের। বিয়ের পর তাদের একটি পুত্র সন্তান হয়। সুখেই যাচ্ছিল তানিয়ার দাম্পত্য জীবন। তবে তানিয়ার ওপর কুনজর পড়ে দেবর জানে আলমের। তাকে প্রায়ই উত্ত্যক্ত করতেন তিনি। তানিয়া বিষয়টি শ্বশুর ও শাশুড়িকে বারবার জানালেও কোনো সমাধান পাননি।

জানে আলমের স্ত্রীকেও বিষয়টি জানান তানিয়া। এ নিয়ে জানে আলমের সঙ্গে তার স্ত্রীর ঝগড়াও হয়। স্ত্রী নিষেধ করলেও তার নিষেধ মানেননি জানে আলম। একপর্যায়ে জানে আলমের ঘর ছাড়েন তার স্ত্রী। বিষয়টি পুরো গ্রামে জানাজানি হলে ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠেন জানে আলম। রোববার রাতে দরজার লক ভেঙে তানিয়ার কক্ষে ঢুকে ধর্ষণ করেন তিনি। পরে তাকে হত্যার উদ্দেশ্যে মুখে বিষ ঢেলে দেন।

রাতে তানিয়ার ছোট ভাই তানভীরকে ফোন দিয়ে জানে আলম জানান, তার স্ত্রী অসুস্থ। তাকে একটি অটোরিকশা নিয়ে আসতে বলেন। অটোরিকশা নিয়ে জানে আলমের বাড়িতে গিয়ে তানভীর দেখেন জানে আলমের স্ত্রী নয় তানভীরের বোন অজ্ঞান হয়ে পড়ে রয়েছেন। তিনি বিষপান করেছেন জানিয়ে তাকে হবিগঞ্জ সদর আধুনিক হাসপাতালে ভর্তি করান শ্বশুরবাড়ির লোকজন। সোমবার ভোরে গুরুতর অবস্থায় তাকে সিলেট ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেয়ার পথে গলা টিপে হত্যা করেন জানে আলম।

বাহুবল মডেল থানার (ওসি মোহাম্মদ কামরুজ্জামান জানান, এ ঘটনায় মামলার পর নিহতের শ্বশুরকে গ্রেফতার করেছে র‌্যাব। বাকিদেরও গ্রেফতারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

ডেইলি বাংলাদেশ/এমআর/জেডএম