রায়হান হত্যায় আরো তিন পুলিশ বরখাস্ত

রায়হান হত্যায় আরো তিন পুলিশ বরখাস্ত

সিলেট প্রতিনিধি ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

প্রকাশিত: ১৪:৪০ ২৬ নভেম্বর ২০২০   আপডেট: ২০:৩৫ ১২ ডিসেম্বর ২০২০

রায়হান আহমদ-ফাইল ফটো

রায়হান আহমদ-ফাইল ফটো

সিলেটের বন্দরবাজার ফাঁড়িতে নির্যাতনে রায়হান হত্যার ঘটনায় আরো তিন পুলিশ কর্মকর্তাকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। বুধবার পুলিশ সদর দফতরের নির্দেশে তাদের বরখাস্ত করা হয়। 

নতুন করে বরখাস্তকৃতরা হলেন-কোতোয়ালি থানার পরিদর্শক (তদন্ত) সৌমেন মৈত্র, উপ-পরিদর্শক (এসআই) মোহাম্মদ আবদুল বাতেন ও এএসআই কুতুব আলী। 

নির্যাতনে রায়হানের মৃত্যুর সময় সৌমেন কোতোয়ালি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তার (ওসি) দায়িত্বে ছিলেন। এসআই আবদুল বাতেন ছিলেন হত্যা মামলাটির প্রথম তদন্তকারী কর্মকর্তা (আইও) ও এএসআই কুতুব আলী ওইদিন ফাঁড়িতে দায়িত্বরত ছিলেন। এ নিয়ে রায়হান হত্যার ঘটনায় এ পর্যন্ত সাত পুলিশ সদস্যকে বরখাস্ত করা হলো।

সিলেট মেট্রোপলিটন পুলিশের অতিরিক্ত উপ-কমিশনার (গণমাধ্যম) বি এম আশরাফ উল্যাহ জানান, দায়িত্বে অবহেলার অভিযোগে ওই তিনজনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। বরখাস্তের পর সৌমেনকে রংপুর পুলিশ লাইনস ও আবদুল বাতেনকে সিলেট মহানগর পুলিশ লাইনসে সংযুক্ত করা হয়েছে।

পুলিশ সূত্রে জানা যায়, রায়হান হত্যার সময় কোতোয়ালি থানার ওসি মোহাম্মদ সেলিম মিঞা ছুটিতে ছিলেন। তখন ওসির দায়িত্বে ছিলেন সৌমেন মৈত্র। সৌমেন ফাঁড়িতে নির্যাতনের ঘটনাটি তাৎক্ষণিকভাবে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানাননি। আর আইও আবদুল বাতেন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের অনুপস্থিতিতে লাশের সুরতহাল ও প্রথম ময়নাতদন্ত করেছেন। এছাড়া বাতেন ওইদিন ফাঁড়িতে দায়িত্বরত ছিলেন। পুলিশ সদর দফতরের প্রতিনিধিরা তদন্ত করে এর সত্যতা পান। তাদের সুপারিশের ভিত্তিতে ওই তিনজনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে।

গত ১১ অক্টোবর সিলেট মেট্রোপলিটন পুলিশের বন্দরবাজার ফাঁড়িতে নিয়ে নির্যাতন করা হয় নগরীর আখালিয়া এলাকার বাসিন্দা রায়হান আহমদকে। নির্যাতনের পর ওই দিন সকালে সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে তার মৃত্যু হয়। এ ঘটনায় তার স্ত্রী তাহমিনা আক্তার কোতোয়ালি থানায় হেফাজতে মৃত্যু (নিবারণ) আইনে মামলা করেন। মামলাটির তদন্তভার রয়েছে পিবিআইর কাছে। 

এ ঘটনার পর ১২ অক্টোবর প্রথমে বন্দরবাজার ফাঁড়ির ইনচার্জ আকবর হোসেন ভুইয়া, কনস্টেবল টিটু চন্দ্র দাস ও হারুনুর রশিদকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়। ১৩ অক্টোবর আকবর পুলিশি হেফাজত থেকে পালিয়ে যান।  তাকে পালাতে সহায়তা করায় পরবর্তীতে বন্দর ফাঁড়ির দ্বিতীয় কর্মকর্তা এসআই হাসান উদ্দিনকেও বরখাস্ত করা হয়। সর্বশেষ বুধবার দায়িত্বে অবহেলার কারণে কোতোয়ালি থানার পরিদর্শক (তদন্ত) সৌমেন মৈত্র, উপপরিদর্শক (এসআই) মোহাম্মদ আবদুল বাতেন ও এএসআই কুতুব আলীকেও সাময়িক বরখাস্ত করা হয়।

এদিকে ঘটনার পর আত্মগোপনে থাকার ২৭ দিন পর ফাড়ি ইনচার্জ সাময়িক বরখাস্তকৃত এসআই আকবর হোসেন ভুইয়াকে গ্রেফতার করে পুলিশ। এ পর্যন্ত রায়হান হত্য মামলায় ফাঁড়ি ইনচার্জ আকবর, এএসআই আশেকে এলাহী, কনস্টেবল টিটু ও হারুনুর রশিদকে গ্রেফতার করে রিমান্ডে নেয় পিবিআই। রিমান্ড শেষে আদালতের মাধ্যমে তাদের কারাগারে পাঠানো হয়েছে। 

ডেইলি বাংলাদেশ/জেএইচ/জেডএম