ব্যাংক লুটের ১০ দিন পার, ধরা-ছোঁয়ার বাইরে অপরাধীরা

ব্যাংক লুটের ১০ দিন পার, ধরা-ছোঁয়ার বাইরে অপরাধীরা

চুয়াডাঙ্গা প্রতিনিধি ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

প্রকাশিত: ০৩:২০ ২৬ নভেম্বর ২০২০   আপডেট: ২০:৪৪ ১২ ডিসেম্বর ২০২০

উথলী বাজার শাখা, সোনালী ব্যাংক

উথলী বাজার শাখা, সোনালী ব্যাংক

চুয়াডাঙ্গার জীবননগর উপজেলার সোনালী ব্যাংকের উথলী বাজার শাখায় ব্যাংক লুটের ঘটনায় পেরিয়ে গেছে ১০ দিন। কিন্তু এখন পর্যন্তু রহস্য উদঘাটন হয়নি। দফায় দফায় বিভিন্ন এলাকা থেকে বেশ কয়েকজনকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য পুলিশ হেফাজতে নিলেও প্রকৃত অপরাধীরা এখনো ধরা-ছোঁয়ার বাইরে।

তবে পুলিশ বলছে, ঘটনার রহস্য জট খুলতে শুরু করেছে। শিগগিরই অপরাধীদের আইনের আওতায় আনা হবে। 

ঘটনার পর থেকে পুলিশি কর্মকাণ্ডের চিত্র বলছে, গত ১৫ নভেম্বর সোনালী ব্যাংকের উথলী বাজার শাখা থেকে সাড়ে আট লাখ টাকা লুট করে নিয়ে যায় অস্ত্রধারীরা। এরপর থেকেই অপরাধীদের ধরতে মাঠে নামে পুলিশ। ঘটনার পরদিন ১৬ নভেম্বর ভোরে চুয়াডাঙ্গার সদর উপজেলার আকন্দবাড়ীয়া এলাকা থেকে তিনজনকে আটক করে পুলিশ। তবে প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তাদের সম্পৃক্ততা না পাওয়ায় অব্যাহতি দেয়া হয়। এরপর জীবননগর উপজেলা থেকে  আরো দুইজনকে আটক করে পুলিশ। তবে তাদেরকেও ব্যাংক লুট মামলায় গ্রেফতার না দেখিয়ে আদালতে সোপর্দ করা হয়। দফায় দফায় বেশ কয়েকজনকে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ করেছে পুলিশ। তবে প্রকৃত অপরাধীদের শনাক্ত করতে করা যায়নি। 

এদিকে, ঘটনার পর থেকে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন উর্ধ্বতন কর্মকর্তারা, খুলনা রেঞ্জ কার্যালয়ের ডিআইজি ও অতিরিক্ত ডিআইজির কয়েকটি টিম। পুলিশের পাশাপাশি ঘটনাস্থলে র‌্যাব, সিআইডি, বিজিবি, আনসারসহ বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থার দলকে দেখা গেছে। 

চুয়াডাঙ্গার এসপি জাহিদুল ইসলাম জানান, ব্যাংকটিতে কোনো সিসিটিভি ক্যামেরা ছিল না। এ কারণে অপরাধীদের শনাক্তে কিছুটা সময়ক্ষেপণ হচ্ছে। এছাড়া তাদেরকে প্রযুক্তির সহযোগীতা ছাড়াও ম্যানুয়াল পদ্ধতিতে কাজ করায় নানা বাধার সম্মুখীন হতে হচ্ছে। তবে ঘটনার রহস্যজট খুলতে শুরু করেছে। খুব দ্রুত প্রকৃত অপরাধীদের আইনের আওতায় আনা হবে। 

গত ১৯ নভেম্বর চুয়াডাঙ্গার একটি অনুষ্ঠানে যোগ দিয়ে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হোন পুলিশের খুলনা রেঞ্জ ডিআইজি ড. খ. মহিদ উদ্দিন। তিনি বলেন, ব্যাংক লুটের ঘটনাকে সর্বোচ্চ গুরত্ব দিয়ে দেখা হচ্ছে। এ ঘটনায় আমাদেরকেও নানা সময় উর্ধ্বতনদের জবাবের মুখোমুখি হতে হচ্ছে। পুলিশও উদ্বিগ্ন। পুলিশের বেশ কয়েকটি টিম জেলা ও জেলার বাইরে কাজ করছে। ক্লু উদঘাটন খুবই সন্নিকটে। দ্রুতই অপরাধীদের চিহ্নিত করা হবে। 

উল্লেখ্য, গত ১৫ নভেম্বর (রোববার) দুপুর সোয়া ১টায় চুয়াডাঙ্গার সোনালী ব্যাংকের উথলী শাখায় তিন দুর্বৃত্ত পিপিই ও হেলমেট পরিধান করে ব্যাংকে প্রবেশ করে। এ সময় ব্যাংকের প্রহরী ও কর্মকর্তাদের অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে ক্যাশ কাউন্টার থেকে সাড়ে আট লাখ টাকা লুট করে নিয়ে যায়। এর পরের দিন ব্যাংকের শাখা ব্যবস্থাপক আবু বক্কর সিদ্দিক বাদী হয়ে অজ্ঞাত তিনজনকে আসামি করে জীবননগর থানায় মামলা দায়ের করেন। 

ডেইলি বাংলাদেশ/আরএম/জেডএম